জনগণ কিন্তু খুব হিসেবি, ঠিকই মাথায় রাখবে: প্রধানমন্ত্রী

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দুর্নীতির বিষয়ে দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, জনগণ কিন্তু খুব হিসেবি। কেউ দুর্নীতি করলে তারা সেটা ঠিকই মাথায় রাখবে। শনিবার দুপুরে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিজের সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। খবর: বাসস।

ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নে এমপিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যারা সংসদ সদস্য আছেন তাদেরকেও আমি বলবো একটা কথা মনে রাখবেন- জনগণ কিন্তু খুব হিসেবি কেউ দুর্নীতি করলে জনগণ কিন্তু সেটা ঠিকই মাথায় রাখবে। সেটা কিন্তু তারা ভুলে যায় না।’

‘কাজ করতে গিয়ে টাকা নিলে পরে ভোট চাইতে গেলে তারা বলবে টাকা দিয়ে কাজ নিয়েছি ভোট দেব কেন? জনগণের এখন কিন্তু চক্ষু খুলে গেছে। এখন ডিজিটাল যুগ। তারা এখন বিশ্বকে জানতে পারছে’ যোগ করেন তিনি।

দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং এমপিদের কাদা ছোঁড়াছুড়ি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দলের উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলো ভোটারদের কাছে তুলে ধরতে হবে এবং তাদের বোঝাতে হবে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে ২০০১ সালের মতই কি ভয়াবহ ব্যাপার ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, ‘যিনি আমার দলের বিরুদ্ধে বদনাম করবেন সে কি এটা বোঝেন না, এতে তার ভোটও নষ্ট হবে। সে তাহলে কোনমুখে ভোট চাইতে যাবে?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি একটা ঘোষণা দিতে চাই- কেউ যদি আমার দলের উন্নয়নের কথাগুলো না বলে কোথায় কার কি দোষ আছে সেগুলো খুঁজে বের করে জনগণের কাছে গিয়ে বলেন, তারা আওয়ামী লীগের নমিনেশন পাবেন না। এটা পরিষ্কার।’

তিনি বলেন, যদি কেউ ৫ বছর, ৫ বছর ১০ বছর সরকারে থাকার পর দলের বিরুদ্ধে বদনাম করে তাহলে জনগণতো তাকেও ভোট দেবে না। এটা হলো বাস্তবকথা কাজেই একথাটা সবাইকে মনে রাখতে হবে।

আগামীর জাতীয় নির্বাচনকে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামনে আমাদের নির্বাচন। সবসময় মনে রাখতে হবে, এটা আমাদের একটানা তৃতীয় নির্বাচন। আর নির্বাচন মানেই সেটা চ্যালেঞ্জিং হবে এবং এই নির্বাচনে সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সময় কিন্তু আর বেশি নাই কেউ দলীয় মনোনয়ন পাবেন কি পাবেন না সেটা নির্ভর করে এলাকায় কতটুকু জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছেন আর দলের নেতাকর্মীদের কিভাবে মূল্যায়ন করছেন তার ওপর।’

দলের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করেছি কেউ কেউ স্বপ্রণোদিত প্রার্থী হয়ে বিএনপি কি সন্ত্রাস করলো, লুটপাট, দুর্নীতি করলো, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করলো সেটা বলে না। অথচ তাদের বক্তব্য এসে যায় আওয়ামী লীগ এমপির বিরুদ্ধে, সংগঠনের বিরুদ্ধে।’

বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী, নির্যাতনকারী, লুটপাটকারীরা মামলা থেকে বাঁচার ভয়ে অনেকেই আওয়ামী লীগে ভিড়তে চাইতে পারে উল্লেখ করে তাদের সম্পর্কেও দলের সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.