একদশ জাতীয় নির্বাচন চট্টগ্রাম-বিভাগ– আ’লীগে নৌকা প্রতীকে প্রতি আসনে তরুণদের নাম
জে,জাহেদ বিশেষ প্রতিবেদকঃ
আগামী সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকার বেশ বড় একটা অংশে থাকবে তরুণদের নাম।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মুখগুলোর বেশির ভাগই সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও বর্তমান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও রয়েছেন এই দলে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ দুটি। আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করে বিএনপিকে নির্বাচনে আনা এবং সে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া।
তবে সরকারের কপালে একটি কালো দাগ জ্বলজ্বল করছে, তা হল বিএনপির ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন ও বিনাভোটে ১৫৩ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া।
আগামী নির্বাচনে এ কালোদাগ মুছে ফেলতে চায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
অনেক রাজনীতিজ্ঞ টকশোতে বলতে শুনা যাচ্ছে, নৌকার প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে বিএনপির বেশ কয়েক গুরুত্বপূর্ণ নেতা, আমলা, সাবেক সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা, শিল্পপতি ও প্রবাসী ধনাঢ্য ব্যক্তিকে।
শেখ হাসিনার অধীনে হলেও বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে-এমন হিসাব মাথায় রেখেই দলীয় মনোনয়ন ছক কষছেন আওয়ামী লীগ প্রধান।
তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, কিছু আসনে আগে ভাগেই নিশ্চিত জিতে আসার মতো বেশ ক’জন নতুন মুখকে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা এলাকায় পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।
এসব নতুন মুখের মধ্যে আছেন ছাত্রনেতা, পেশাজীবী নেতা, সাবেক পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তা, আমলা ও রাজনৈতিক নেতা।
সারা দেশের মতো চট্টগ্রাম বিভাগেও তরুণদের প্রাধান্য দিতে পারে কেন্দ্র।এমন ভাবনায় নির্বাচনে আসনে নৌকা প্রতীকে মাঠে সক্রিয়ভাবে নেমে পড়েছেন যেসব তরুণ তাদের তালিকায় রয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) বর্তমান সাংসদ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইন্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এ আসনে আগামীতেও একক প্রার্থী হতে পারে । তবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তরুণ উপজেলা আঃলীগ নেতা ইন্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সাবেক এমপি রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, জোটের বর্তমান এমপি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) বর্তমান এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা, উপজেলা চেয়ারম্যান মাষ্টার শাহজাহান, পৌর মেয়র জাফর উল্লাহ টিটু।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) বর্তমান এমপি দিদারুল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম.এ সালাম, ইউনুচ গনি চৌধুরী, জোটের বর্তমান এমপি ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) বর্তমান এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) ড. হাসান মাহমদু, উপজেলা চেয়ারম্যান আলী শাহ।
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদ, আবুল কালাম।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী), কেন্দ্রীয় নেতা মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, জোটের বর্তমান এমপি জিয়াউদ্দিন বাবলু,জসিম উদ্দিন চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) বর্তমান এমপি ডা. আফসারুল আমীন, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার।
চট্টগ্রাম-১১ (পতেঙ্গা-হালিশহর) বর্তমান এমপি এম.এ লতিফ, নগর আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলম সুজন।
চট্টগ্রাম-১২(পটিয়া) বর্তমান এমপি সামশুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা বদিউল আলম, আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহেরুল ইসলাম,এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) বর্তমান এমপি সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, আনিসুজ্জমান চৌধুরী রণি,ওয়াসিকা আয়েশা খান।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমদ আসিফ, মফিজুর রহমান।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া) বর্তমান এমপি আবু রেজা মো: নদভী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুর ইসলাম, ক্লিন ইমেজের সাংবাদিক আবু সুফিয়ান।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) বর্তমান এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলম, চৌধুরী মো: গালিব, শিল্পপতি মুজিবুর রহমান সিআইপি, আব্দুল্লাহ কবির লিটন এবং জোট নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী আছেন আলোচনায়।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া)-উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম, জেলা আওয়ামী লীগের মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ড. আশরাফুল ইসলাম সজিব, আওয়ামী লীগ সদস্য রাশেদুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া)-আশেক উল্লাহ রফিক,আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ বিষয়ক উপ কমিটির সহ-সম্পাদিকা ইসমত আরা ইসমো,সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ওসমান গণি।
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু)-বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী কানিজ ফাতেমা আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাশেদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনিন সরওয়ার কাবেরী।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহ্ আলম ওরফে রাজা শাহ আলম ও উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী।
তবে যারা বেশির ভাগেই মাঠে সক্রিয় সেসব তরুণ নেতারা হলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নুরুল ইসলাম বিএসসির পুত্র মো: মুজিবুর রহমান, সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরী,সাবেক এমপি এডভোকেট সুলতানুল কবির চৌধুরীর পুত্র দক্ষিন জেলা সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা চৌধুরী গালিব, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ভাগিনা আব্দুল্লাহ কবির চৌধুরী, শিল্পপতি মুজিবুর রহমান সিআইপি, ব্যারিষ্টার এস.এম আজিম দোলন, দক্ষিন জেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমান।
সাবেক ছাত্রলীগ- নেতা কেন্দ্রীয় আ.লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মাঈনুদ্দিন হাসান, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, এস.আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম লাবু, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা বদিউল আলম. আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর এম.এ আজিজের পুত্র সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, জহুর আহমেদ চৌধুরীর পুত্র জসিম উদ্দিন, রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে খাদিজাতুল আনোয়ার সনি,কক্সবাজারে ইশতিয়াক আহমেদ জয়,জাফর আলম,আশরাফুল ইসলাম সজিবব,কামরুল হাসান,ইসমত আরা ইসমু,শাহ আলম,হামিদুল হক চৌধুরী।
আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, সব দলের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হলে প্রার্থী বদল হতে পারে, নতুন তরুণ মুখ আসতে পারে। এছাড়া সংসদীয় গণতন্ত্রে আসন বড় ফ্যাক্টর। সব দলই চায়, নির্বিঘ্নে জিতে আসতে পারে এমন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে।
অপরদিকে বিএনপি রাজনীতিতে কিছুটা নীরবতা অবলম্বন করলেও তলে তলে চলছে নির্বাচনি প্রস্তুতি। আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারাতে শক্তিশালী প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে প্রতিটি আসনে।
সিনিয়র নেতাদের মতে আওয়ামী লীগকে আর খালি মাঠে গোল দিতে দেওয়া হবে না। যে কোন মুল্যে নির্বাচনে যেতে যায় বিএনপি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.