আমি ক্ষমতায় থেকে মানুষের জীবন নেবো, সেটা তো কখনো হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি ক্ষমতায় থেকে মানুষের জীবন নেবো, সেটা তো কখনো হতে পারে না। আমি তো সব কিছু হারিয়েছি। বার বার আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে।’

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর খামারবাড়িতে কেআইবি ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন এরা বসেছে, মিটিং করছে, আমি বললাম, ঠিক আছে, ছেলে-মেয়েরা বসছে বসুক। আমরা তো রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, মিছিল-মিটিং করে খেয়ে না খেয়ে এ পর্যন্ত এসেছি। আমি সরকারে আসার পরে এদের তো সেই ধরনের কষ্ট করতে হয়নি। তারা যদি একটু রোদে পোড়ে, একটু স্লোগান দেয়, বসে তো বসলো! এটাতে তোমরা কিচ্ছু বলবা না। পুলিশ কত সহনশীলতা দেখিয়েছে! তারা মিছিল করে, যেখানে যেতে চেয়েছে, সেখানেই নিয়ে গেছে। খালি বলেছি, তাদের একটু নিরাপত্তা দাও তোমরা। আমরা শক্তি প্রয়োগ করিনি। তাদের দাবিটা কী? এটা তো আমার করা! প্রজ্ঞাপন বাতিল হয়েছে, আমরা আপিল করেছি, সেটা আবার আমরা পেয়ে গেছি। সেখানে আন্দোলনের ইস্যুটা আর কী থাকে?

তিনি বলেন, ‘তারপরও যে ঘটনাগুলো ঘটলো। আজ দেশবাসীর কাছে এরা তো মিথ্যা অপবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। আমি ক্ষমতায় থেকে মানুষের জীবন নেবো, সেটা তো কখনো হতে পারে না। কারণ আমি তো সব কিছু হারিয়েছি। বার বার আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। রাখে আল্লাহ, মারে কে।

হানাদার বাহিনীর মতোই টর্চার করলো মেয়েদের ওপর

তিনি বলেন, প্রতিটি জায়গায় আগুন দিয়ে পোড়ানো। এটা কোন ধরনের আন্দোলন? আর সেই সঙ্গে আজ কত মানুষের জীবন গেছে! চারদিক থেকে অস্ত্রধারী কোথাও…ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ কামরা, সেখানে এখন ভিডিও ফুটেজও পাওয়া গেছে হাতে অস্ত্রসহ; কারও হাতে তরবারি, কারও হাতে লাঠি, কারও হাতে শাবল নিয়ে পুরো তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। ছেলেদের সব জিনিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের হোস্টেল- রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হল, ইডেন কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজে মেয়ে হয়ে মেয়েদের ওপর যে টর্চার, পাকিস্তান আমলে হানাদার বাহিনী যেভাবে টর্চার করেছে, ঠিক সেই ধরনের টর্চার করলো মেয়েদের ওপর।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা ছাত্রলীগ করে, ছাত্রলীগ করতে পারবে না। তাদের ওপর জুলুম অত্যাচার। এক মেয়েকে ১০০ বার ওঠবস করালো। এদের হাত থেকে সাংবাদিক রেহাই পায়নি, সাংবাদিক হত্যা করেছে। সাংবাদিককে মারধর করেছে। সাধারণ মানুষ, ছাত্র-যুব-আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে কেউ তো রেহাই পায়নি।’

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.