বালুখালীর রোহিঙ্গা বস্তি নিয়ে স্থানীয়রা ফুঁসে উঠছে

ওয়ান নিউজঃ উখিয়ার বালুখালীতে গড়ে উঠা নতুন বস্তিতে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা সহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদেরকে অপসারণ সহ দ্রুত অন্যত্র স্থান্তরীত করার দাবীতে স্থানীয়রা ফুঁসে উঠেছে। এমনকি রোহিঙ্গা ঠেকাতে বৃহত্তর আন্দোলনের চিন্তাভাবনা করছেন সচেতন এলাকাবাসী। পালংখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল আবছার চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বালুখালীতে নতুন ভাবে গড়ে উঠা রোহিঙ্গা বস্তির কারণে এলাকার পরিবেশ দিন দিন দুষিত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ী জায়গা জবরদখল সহ বনাঞ্চল ধ্বংস করছে রোহিঙ্গারা। এছাড়াও নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হবে রোহিঙ্গারা। উপকূলীয় হাতিয়ার ঠেঙ্গারচরে রোহিঙ্গাদের পূর্ণবাসনে সরকার যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তা সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্তটি সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত। জানা যায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর সে দেশটির আইনশৃংখলা বাহিনী নারকীয় অত্যাচার, নীপড়ন, হত্যা ও ধর্ষণ সহ ব্যাপক অগ্নিসংযোগ করে ঘর বাড়ী পুড়িয়ে দেয়। মিয়ানমারের আইনশৃংখলা বাহিনীর হত্যাজজ্ঞ থেকে বাঁচতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী পুরুষ ও শিশুরা সীমান্ত ফাঁড়ি দিয়ে উখিয়া ও টেকনাফে চলে আসে। খোজখবর নিয়ে জানা গেছে, গত ২ মাসে সীমান্ত ফাঁড়ি দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় অর্ধলক্ষ রোহিঙ্গা। আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) জানান, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা উখিয়া টেকনাফ কক্সবাজার সহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে আশ্রয় নিয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা লক্ষাধিক ছড়িয়ে যাবে বলে মন্তব্য করছেন সুশীল সমাজ। জাতিসংঘের মানধিকার সংস্থা’র উদৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানান, গত ৪ মাসে মিয়ানমারের আইনশৃংখলা বাহিনীর নির্যাতনে ৯২ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম গৃহ হারা হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বালুখালী পাহাড়ী এলাকায় নতুন করে রোহিঙ্গা বস্তি গড়ে উঠেছে। বে-সরকারী এনজিও সংস্থা মুক্তির এ জরিপে দেখা গেছে বর্তমানে উক্ত বস্তিতে প্রায় দেড় হাজার অধিক রোহিঙ্গা পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন রোহিঙ্গার দল এতে ঢুকে পড়ছে। আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা’র (আইএমও) মাঠ কর্মীরা জানান, কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ও আশ-পাশ এলাকায় হাজার হাজার পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও নতুন রোহিঙ্গা বস্তি গড়ে উঠার বিষয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকার ও আর্ন্তজাতিক সংস্থার সমন্বয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার জন্য দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা সহ আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে কুটনৈতিক চাপ বাড়ানোর পর জোর দেন। এদিকে বালুখালীতে গড়ে উঠা নতুন রোহিঙ্গা বস্তির কারণে এলাকার পরিবেশ দুষণ হয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের যত্রতত্র চলা ফেরা ও খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করায় চারদিকে রোগ জীবানু ছড়িয়ে পড়ছে। এ প্রসঙ্গে পালংখালী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ও মেম্বার নুরুল আবছার চৌধুরী বালুখালীতে গড়ে উঠা নতুন বস্তি দ্রুত অপসারণ করে হাতিয়ার ঠেঙ্গারচরে আশ্রয় দেওয়ার জন্য দাবী জানান। কারণ রোহিঙ্গারা স্থানীয়দের বিষপোড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা যেকোন অপরাধ মূলক ঘটনা সহ আইনশৃংখলা অবনতি ঘটাতে দ্বিধাবোদ করে না। উখিয়া নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব সাংবাদিক গফুর মিয়া চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের ভুখন্ঠে ঢুকে কক্সবাজার পর্যটন নগরীকে বিভিন্ন অপরাধের স্বর্গরাজ্যে বানিয়ে কুলষিত করছে। এদের যেকোন মূলে স্বদেশের প্রত্যাবাসন সময়ের দাবীতে পরিণত করেছে। এছাড়াও সরকার রোহিঙ্গাদের পূর্নবাসনে নোয়াখালীর হাতিয়ার চর কে বেঁচে নেওয়ায় এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.