পানির সমস্যায় রোহিঙ্গা শরণার্থীরা

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ সম্প্রতি কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিদেশি গণমাধ্যম রিলিফ ওয়েব তাদের ওয়েবসাইটে এই সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের কক্সবাজারের দমদমিয়ায় অবস্থিত নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চলছে। ক্যাম্পে থাকা হোসেন আহমেদ নামের এক রোহিঙ্গা শরণার্থী জানান, তীব্র পানি সংকটে তাদের মারাত্মক কষ্টে জীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নয়াপাড়ার রোহিঙ্গা শিবিরটির পানি সংকট মেটাতে সরকারের সহায়তায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর (UNHCR) নয়াপাড়ায় একটি জলাধার নির্মাণ করে দেয়। কিন্তু গ্রীষ্মকালীন সময়ে এটি শুকিয়ে যায়। ফলে শিবিরের মানুষদের এসময়টাতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের মুখোমুখি হতে হয়।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অভিযোগ, প্রতি গ্রীষ্মেই তাদের তীব্র পানির সংকট সহ্য করতে হয়। যদিও সে সময় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বিনামূল্যে পানি বিতরণ করে থাকে। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। তাদের অভিযোগ, পরিবারের ৫ থেকে ৬ সদস্যের জন্য দু’বেলা মাত্র ২ পাত্র পানি পান তারা। ফলে তা দিয়ে পানের প্রয়োজনই মেটে না।

আরও কঠিন পরিস্থিতি এসব শিবিরের আশপাশে থাকা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের। নয়াপাড়ার লেদা শরণার্থী ক্যাম্পের নূর আহমেদ বলেন, এখানে অনিবন্ধিত অন্তত ১৫ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছেন। কিন্তু তারা বৈধ না হওয়ায় জাতিসংঘ কিংবা অন্যান্য এনজিও তাদের কোনো সাহায্য করে না। এমনকি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও মেলেনা কোনো সহায়তা।

ফলে গ্রীষ্মের সময়ে গোসল ও কাপড় ধোয়া দূরের কথা, খাবার পানি পর্যন্ত সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমনই এক রোহিঙ্গা শরণার্থী আমেনা বেগম জানান, সমুদ্রের পানি লবণাক্ত হওয়ায় তা রান্না এবং পানি পানের অযোগ্য। ফলে গ্রীষ্মের সময়ে তারা ঠিকমতো রান্নার কাজও করতে পারেন না। চার সন্তানের এই জননী জানান, এই সময়টাতে তার বাচ্চারা চর্মসহ নানা রোগে ভুগে থাকে।

প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমার থেকে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষেরা বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয়ে রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার এদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে। একই আহ্বান জানিয়ে আসছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাও। কিন্তু অন্যায়ভাবে প্রতিবারই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে মিয়ানমার সরকার।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.