নিজস্ব প্রতিবেদক:
চীর সবুজ নাইক্ষ্যংছড়ি বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি বদলে দিয়েছে উপজেলা চত্বরের চিত্র। আগে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের পাশের ফাঁকা জায়গায় দেখা যেত ময়লা আর্বজনার স্তুুপ, এখন সেখানে শোভা পাচ্ছে নানা জাতের নানা রঙ্গের সদ্যফুটা ফুল। বৃষ্টির ফুটা পেয়ে উপজেলা চত্বর সবুজে সমারোহ, আদ্য গজিয়ে উঠা সবুজ ঘাস যেন টগবগিয়ে উড়েছে পাহাড়তলি।
রাস্তার পাশে একসময় নর্দমা আর আবর্জনায় তিলপরিমান দাঁড়ানোর সুযোগ ছিলো না এখন সেখানে উৎসুখ জনতাময়। সুধু রাস্তায় ফুটপাতে ফুলের টব বসানো নয় সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য পুরাতন বৃক্ষগুলোরও গোড়া পরিষ্কার করে চুনকাম করা হয়েছে।
চালু করা হয়েছে অফিসের সামনে নির্মিত পানির ফুয়ারা সচল করে লাইটিং করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে আগে থেকে ঈদগাহ ময়দান সংস্কার করে চতুর পার্শে নেট দিয়ে ঘিরে নতুন লোহার গেইট বসানো হয়েছে।ঈদগাহ ময়দানের পবিত্রতা রক্ষা হওয়ায় এলাকাবাসীর প্রশংসা পাচ্ছে প্রশাসন।
প্রতিটি অফিসের সামনে ও রাস্তার পাশে থাকা জঙ্গলময় অবস্থা এখন নেই এতে আগের তুলনায় উপজেলা চত্ত্বরের সৌন্দর্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় এর শিক্ষক আব্দুল হালিম ফারুক বলেন, এখন উপজেলা চত্ত্বরে এলে মনে হয় কোন উদ্যানে প্রবেশ করছি, মেইন গেট থেকে উপজেলা চত্ত্বরের রাস্তাগুলোর পাশে সাজানো টবে সবুজ গাছে ফুটপাত দেখতে খুবই ভালো লাগে।
জানা গেছে, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল অত্র উপজেলায় যোগদানের পর থেকে উপজেলা চত্ত্বরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির দিকে নজর দেন। তিনি নিজের হাতে বিভিন্ন সময় নানা জাতের চারা রোপন করতে দেখা যায়।
উদ্বোধন কালে বকুল গাছের চারা রোপন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি সহ বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যান সহ রাজনীতিক ব্যক্তিবর্গের হাতে রোপন করিছেন নানা প্রজাতির চারা গাছ।
শহীদ মিনারের সামনে মাটি ভরাট করে পাকাকরন সহ স্মৃতিসৌধ এর সামনে ৫২ থেকে ৭১ চীর জাগ্রত বাংলাদেশ চত্বর নির্মাণ, এবং ৭ ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষনের আন্তর্জাতিক শিকৃতির উপরে নির্মিত দেশের প্রথম “বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের নিদর্শন” নির্মাণ করে ইতিমধ্যে সাড়া জাগিয়েছে।
সাংস্কৃতিক জাগরণের জন্য উপজেলা চত্বরে তৈরি করা হয়েছে গ্রীক থিয়েটারের আদলে বঙ্গবন্ধু মুক্ত মঞ্চ।
সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি এই সকল উন্নয়নকাজ পরিদর্শন সহ উদ্বোধন করেন। সামগ্রিক কাজের উপর মন্ত্রী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং আরো কিছু শিল্পনির্দেশনা দিয়েছেন।
এবিষয় তদারককারী স্থানীয় স্থাপত্য শিল্পী সাইফুদ্দিন শিমুল বলেন, আমরা উপজেলাবাসী ইউএনও এসএম সরওয়ার কামাল স্যার এর নিকট কৃতজ্ঞ, তিনি সুন্দর সৃজনশীল কর্ম দিয়ে অত্র উপজেলা কে পরিপূর্ণ করেছেন।
বিশেষ করে আমি ব্যক্তিগত ভাবে অনেক ঋণী দেশের জন্য কোন কাজের তদারকি দায়িত্ব পেয়ে আমি স্বাধীন ভাবে নিজের শিল্পকর্ম উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছি। যতদিন এখানে শ্রম দিয়েছি ততদিন সার্বক্ষণিক তিনি খুজখবর রাখতেন, একজন কর্মকর্তা হিসেবে যেমনি কাজের অনিয়মে শাসাতেন ঠিক তেমনি স্নেহ করতেন।
জানতে পেরেছি তিনি প্রশাসনিক পদোন্নতি পেয়েছেন এডিসি হিসেবে। ছাড় পেলেই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন বলে জানা গেছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.