আমাদের ভিসানীতির ভয় দেখিয়ে লাভ নেই

যুক্তরাষ্ট্রকে কাদের

ওয়ান নিউজঃ আমাদের ভিসানীতির ভয় দেখিয়ে লাভ নেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। নিষেধাজ্ঞা ও ভিসানীতির দিয়েও লাভ নেই। ৭১’র নিষেধাজ্ঞা পেয়ে ভয় করলে দেশ স্বাধীন হতো না। আজকেও নিষেধাজ্ঞাকে ভয় করলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারবো না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই নির্বাচন হবে। কোনো ছাড় হবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞাকে ভয় করলে বঙ্গবন্ধু এ দেশ স্বাধীন করতে পারতেন না। নিষেধাজ্ঞাকে কেউ ভয় করলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা, বাংলাদেশের সোনালী অর্জন সেগুলো হতো না। আমাদের নির্বাচন সংবিধান নির্ধারণ করবে। আমরা তত্ত্বাবধায়ক মানি না। তত্ত্বাবধায়ক এখন মরা লাশ, ওই লাশ এখন আমাদের দিয়ে লাভ নেই। বাংলাদেশে ওই তত্ত্বাবধায়কের ইতিহাস জানা আছে।

তিনি বলেন, ১৫ বছর আগের বাংলাদেশ, ১৫ বছর পরে বাংলাদেশ, ১৫ বছর আগের এই ঢাকা শহর, ১৫ বছর পরের এই ঢাকা শহর, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আলোতে ঝলমল। কী পরিবর্তন তাকিয়ে দেখুন। আগামী মাসে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেল চলবে। কী অপূর্ব সুন্দর ঢাকা শহর। এই রূপান্তরের রূপান্তর কে? সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দিয়েছে কে? আমাদের সাহস, আমাদের স্বপ্নের বর্ণিল ঠিকানা, কে তিনি? শেখ হাসিনা।

বিএনপিকে উদ্দেশ্যে করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের ৪৮ ঘণ্টা শেষ। আলটিমেটাম শেষ। খেলা হবে। ক্যাপ্টেন আমেরিকায়, তিনি এলে জোরদার খেলা হবে। আমাদের নির্বাচন আমাদের সংবিধান নির্ধারণ করবে। আমরা কীভাবে চলবো, আমরাই ঠিক করবো। আমরা তত্ত্বাবধায়ক মানি না। ওটা মরা লাশ। ওটা আমাদের কাছে এনে লাভ নেই। ২০০১ সালে দেখিছি, ফখরুদ্দীন-মঈন উদ্দিনেরটাও দেখেছি। সেই তত্ত্বাবধায়ক চালু করে বাংলাদেশে অস্বাভাবিক সরকার করবেন, সেটা আর হবে না।

মির্জা ফখরুলকে কাদের বলেন, কী করবেন? ৪৮ ঘণ্টা তো চলে গেলো। আন্দোলনে পাবলিক নেই। আন্দোলন আর দফা সবই ভুয়া। এ ভুয়া আন্দোলন এ দেশের মানুষ মানে না। কোনো ছাড় নেই। হুমকি দিয়ে লাভ নেই। বৃহৎ শক্তির হুমকিই শেখ হাসিনা পরোয়া করেন না। আপনারা? কী আশায় বাধি খেলাঘর? এ খেলাঘর ভেঙে সবই হবে বেদনার বালুচর। থাকবে আসল বঙ্গবন্ধুকন্যা।

তিনি বলেন, অনুমতি নেবেন না। আইন মানবেন না। জনগণ যখন ধাওয়া দেবে, কর্ণফুলী গিয়ে পড়বেন। আগুন নিয়ে আসবেন, নাশকতা করবেন? নাশকতার কালো হাত ভেঙে দেবো। মাঠ ছাড়বো না। ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবো।

সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাহজাহান খান, কামরুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ইঞ্জি. মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, আইন বিষয়ক সম্পাদক নাজিবুল্লাহ হিরু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নুরুল আমিন রুহুল প্রমুখ।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.