হিমেল হাওয়ায় উষ্ণ আলোর খেলা

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ শীতকালে উষ্ণতা পেতে মন চায়। অন্দরের বাইরে না হয় থাকুক ঠান্ডা। এটাই তো শীতের মজা। বাড়ির ভেতরে চলুক উষ্ণ আলোছায়ার খেলা। কৃত্রিম আলোর ব্যবহারেই বাড়ির অন্দরে চলে আসবে উষ্নতা।

স্থাপত্যবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আর্কভিজ লিমিটেডের প্রধান স্থপতি মেহেরুন ফারজানা জানান, ঘরের তাপমাত্রা বাড়াতে লাইটের সাহায্য নিতে পারেন। তবে ব্যবহার করতে হবে একটু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে। তাহলেই পুরো সফলতা পাওয়া যাবে।

বাড়িতে স্থায়ীভাবে যে বাতিগুলো থাকে, সেগুলো ছাড়াও কিছু টেবিল ল্যাম্প বা ফ্লোর ল্যাম্প ব্যবহার করা যায়। এতে কম ভোল্টেজের বাল্ব লাগানো যেতে পারে। তাহলে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চিন্তাও থাকবে না। ঘরে যদি কোনো অন্ধকার বা কম আলোকিত জায়গা থাকে, তবে সেখানে একটি বাতির ব্যবস্থা করুন। এতে ঘর উষ্ণ থাকবে। এ ছাড়া টেবিল ল্যাম্প, ঝুলন্ত বাতি, স্পটলাইট, ডিফিউজ লাইট—নানা ধরনের বাতি শীতের একঘেয়েমি কাটিয়ে ঘর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করবে।

সাদা আলোর চেয়ে হলুদ বা লাল আলো উষ্ণ পরিবেশ তৈরি করে সহজেই। বাজারে বিভিন্ন তাপমাত্রার বাল্ব পাওয়া যায়। অন্দরের তাপমাত্রা বাড়াতে উচ্চ তাপমাত্রার বাল্ব ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে যেখানে–সেখানে বাতি না দিয়ে যেখানে কাজ করা হয়, সেখানে বাড়তি আলোর ব্যবস্থা করা যায়। কাজের জায়গায় (রান্নাঘর বা খাবার ঘর) স্পটলাইট খুবই ভালো সমাধান। বসার ঘর বা শোবার ঘরের জন্য ডিফিউজ আলোই ভালো। বাতির বিপরীতে আয়না ব্যবহার করুন। এতে আলো অনেক বেশি মনে হবে, তাপমাত্রাও বাড়বে। শোকেস বা শেলফে আজকাল বাতির ব্যবস্থা থাকেই। সেগুলোতে সাদা বাতি থাকলে বদলে হলুদ বাতি লাগান। হলুদ বাতি জ্বালিয়ে রাখলে ঘর অনেকটাই গরম থাকবে। তবে আলো নিয়ন্ত্রণ করার সুব্যবস্থা রাখুন। অনেকগুলো বাতির একটি সুইচ রাখবেন না। আলাদা আলাদা সুইচের ব্যবস্থা থাকলে ভালো হয়।

যদি একান্তই এ ধরনের কোনো আলোর ব্যবস্থা না করা যায়, তবে বাজারে অনেক রকমের ফেয়ারি লাইট পাওয়া যায়। এই আলোর জন্য বাড়তি কোনো ঝামেলা করা লাগে না। সহজেই যেকোনো জায়গা আলোকিত করে, সেই সঙ্গে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে এই বাতিগুলো। বসার ঘরের এক কোণে ফেয়ারি লাইট সাজিয়ে শীতের আড্ডাটা আরও জমিয়ে তুলতে পারেন। লাইটিং ঘর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করলেও ঘরে তাপ প্রতিরোধক বিভিন্ন ব্যবস্থা নিলে আরও ভালো সুফল পাওয়া যাবে। ভারী পর্দা, দেয়ালের রং, কার্পেট—সবকিছু একটু চিন্তা করে বাছাই করলেই শীতকালটা পুরোপুরি উপভোগ করা সম্ভব।

Comments are closed.