তারকাদের অনীহা: আয় ও যত্নে ঘাটতির অভিযোগ

ওয়ান নিউজ বিনোদন ডেক্সঃ ধারাবাহিক নাটক থেকে রীতিমতো মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন দেশের তারকা অভিনয়শিল্পীরা। এসব কারণে ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়শিল্পীর সংকট তৈরি হচ্ছে, ধারাবাহিক হারাচ্ছে গৌরব। অন্যদিকে টেলিভিশন হারাচ্ছে দর্শক। অভিনয়শিল্পীদেরও রয়েছে ধারাবাহিকে কাজ না করার পেছনে নানা যুক্তি। টিভি ধারাবাহিকে কাজ করে অর্থনৈতিক বা মানসিকভাবে সন্তুষ্ট নন তাঁরা।

ধারাবাহিকে কাজ কমিয়ে দিয়েছেন, এ রকম তারকার তালিকায় আছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, আফরান নিশো, মম, তানজিন তিশা, জোভান, তৌসিফ মাহবুবসহ আরও বেশ কজন অভিনয়শিল্পী।

 

আবুল হায়াতসংগৃহীত।

গত বছর নয়টি ধারাবাহিকে দেখা গেছে মোশাররফ করিমকে। এখন তিনি কাজ করছেন তিনটিতে। আফরান নিশোকে সর্বশেষ দেখা গেছে গোল্ডেন ভাই ধারাবাহিকে। অপূর্বকে গত দুই বছরে পাঁচটি ধারাবাহিকে দেখা গেছে। ধারাবাহিক থেকে ক্রমশ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কেন? জানতে চাইলে মোশাররফ করিম বলেন, ‘অনলাইনের কাজে নির্মাতারা যতটা যত্ন নিচ্ছেন, টিভি নাটকে তার অভাব রয়েছে। ধারাবাহিকে এক দিনে ১৫ থেকে ২০টি দৃশ্যের শুটিং করতে হয়। অনেক সময় চিত্রনাট্য গোছানো থাকে না, অবহেলার ছাপ থাকে। তবে ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে অবশ্যই কাজ করব।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিনয়শিল্পী জানান, অনলাইনের কাজের পারিশ্রমিক বেশি। টিভি ধারাবাহিকে নানা অজুহাতে বাজেট কমানোর ফন্দি থাকে। নির্মাতারা তিন দিনের কাজ এক দিনে করিয়ে নিতে চান। দর্শকদের কাছে একটা নাটক জনপ্রিয়তা পেলে হুট করে পর্ব বাড়ানো শুরু হয়।

মোশাররফ করিম সংগৃহীত।

কদিন আগেও সারা বছর পর্দায় থাকার তাগিদে ধারাবাহিকের জন্য সময় রাখতেন অভিনয়শিল্পীরা। সম্প্রতি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একক ও সিরিজের চাহিদা তৈরি হওয়ায় তাঁরা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন সেসবে। সপ্তাহে ১০টির বেশি নাটক প্রচারের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, যেগুলোর শেষ ঠিকানা হচ্ছে ইউটিউব। জানা গেছে, একটি ধারাবাহিক নাটক করে প্রতিদিন তারকাদের যে আয় হয়, তার তিন গুণ আয় হয় অনলাইনভিত্তিক কাজে। অন্যদিকে প্রযোজকদের অভিযোগ, অনেক অভিনয়শিল্পীকে চাহিদামতো পারিশ্রমিক দিয়েও ধারাবাহিকের শিডিউল পাওয়া যায় না। টেলিভিশন প্রযোজক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজু মুনতাসির বলেন, ‘দর্শক যাঁদের দেখতে চায়, তাঁরা অনেকেই এখন ধারাবাহিকের কথা শুনলে নাক সিটকান। জনপ্রিয় তারকারা বলেন, আমি ধারাবাহিক করি না।’ তিনি মনে করেন, ধারাবাহিক নাটক বাঁচানো না গেলে দেশের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস হয়ে যাবে।

ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে আলোচনায় এসেছিলেন বহু তারকা। তাঁদের অনেকে নিয়মিত অভিনয় না করলেও কেউ কেউ নাটক নির্মাণ করছেন। তাঁদের অন্যতম জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের সময়ে ধারাবাহিক নাটকে সুযোগ পাওয়া অনেক বড় ব্যাপার ছিল। তখন থেকেই নিয়মিত ধারাবাহিকে কাজ করতাম। এখন দেখি অনেকেই ধারাবাহিক নাটক করতে চান না, কমিটমেন্টের অভাব। একজন শিল্পীর দায়বদ্ধতা থাকা জরুরি। এখনকার ছেলেমেয়েদের অনেকেই অস্থির। অনেকেরই নাটকের প্রতি ভালোবাসা নেই, বরং টাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’

আফরান নিশো।সংগৃহীত।

ধারাবাহিকের মাধ্যমে একসময় চরিত্র সৃষ্টি হতো। ছোট চরিত্রগুলোতেও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ থাকত। এভাবে অনেক শিল্পীও তৈরি হতো। আজ রবিবার নাটকে ফারুক আহমেদ, বহুব্রীহি নাটকে আফজাল শরীফরা ছোট্ট চরিত্রে কাজ শুরু করেছিলেন। আজ তাঁরা প্রতিষ্ঠিত অভিনয়শিল্পী। এ প্রসঙ্গে অভিনেতা ও নির্মাতা আবুল হায়াত বলেন, ‘ধারাবাহিক নাটক ঐতিহ্য ও পারিবারিক গল্পে সমৃদ্ধ ছিল। এখন মানুষ নাটকই দেখছে না। শিল্পীরা দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সরে যাচ্ছেন। আমরা অভিনয় করে আনন্দ পেতাম। এখন সবাই অভিনয়কে ব্যবসা হিসেবে নিয়েছে। আগে চিন্তা করছেন কোন কাজ করে কত টাকা পাওয়া যাবে।’ প্রথম আলো।

Comments are closed.