এনেসথেসিওলোজির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও বিকাশ প্রসঙ্গ

ডা. বিধান পাল:

সার্জারী বলা মাত্রই প্রচন্ড ব্যথা, অজানা নানান ভয়, প্রচুর রক্তপাত, অচেতন করা হলে চেতনা ফিরে না আসা, শারীরিক লজ্জা ইত্যাদি উৎকন্ঠায় ভোগে মানুষ। এসব উৎকন্ঠা নিরসনে মেডিকেল বিজ্ঞানের যে পড়ালেখা, কর্মপদ্ধতি এবং গবেষণা তার নাম এনেসথেসিওলোজি। বর্তমানে এর প্রয়োজনীয়তা শুধু অপারেশন চলাকালীন নয়, অপারেশনের আগে-পরেও বিস্তৃত হয়েছে হেতু এ সাবজেক্ট পেরি অপারেটিভ মেডিসিন (পিওএম) নামেও পরিচিতি পাচ্ছে।

পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে, মানুষ যখন থেকে কোন ঘটনা দূর্ঘটনায় শরীরে কেটে ছিঁড়ে যাওয়া, জখম সারানোর চেষ্টা করেছে তখন থেকেই জখমীর ব্যথা সারানোর চেষ্টাও যুগপৎ করে আসছে। অতএব বলা যায় সার্জারী এবং এনেসথেসিয়ার ইতিহাস সন-শতাব্দী গণনারও অতীত।

চিকিৎসা শাস্ত্রীয় ইতিহাসে পাওয়া যায় মানুষ বিভিন্ন লতা-পাতার রস (কোকা ইত্যাদি) লাগানো, (মান্দ্রাগোরা ইত্যাদি) উদ্ভিদের মূল, অ্যালকোহল, আফিম, মন্দিরে দেবস্তুতি এমনকি রক্তনালী ছিদ্র করে শরীরের রক্ত ফেলে দিয়ে, কখনো ৪-৫ জন মিলে রোগীকে চেপে ধরে, কখনো বা মাথায় আঘাত পর্যন্ত করে নানাভাবে রোগীর জখমী চিকিৎসার ব্যথা-ভয় নিরাময়, রোগী নিস্তেজকরণ ইত্যাদির চেষ্টা করেছে। ইনকা সভ্যতার চিকিৎসক নিজে কোকা পাতা চিবানো লালা লাগিয়ে ক্ষতস্থান অবশ করে অপারেশন করার ইতিহাস আছে।

সে সময় অব্দি সার্জারী মানে আঘাতের ক্ষত, হাত-পা ভাঙ্গা বা জোড়া লাগানো কিংবা অকার্যকর হাত-পা কেটে ফেলে দেয়া প্রায় এ পর্যন্ত। তখনো আজকের মত আস্ত শরীর কেটে ভিতরে ঢুকে সার্জারী করার উপায় মানুষ করতে পারে নি। দেহের এনাটমি না জানা, রোগের কারণ না জানা, জীবাণু রোধ না জানা ইত্যাদির সাথে নির্ভরযোগ্য এনেসথেসিয়া ব্যবস্থা না পারার কারণে সার্জারী চিকিৎসা অগ্রহণযোগ্য-অবিকশিত থেকেছে বহু বহু কাল। রোগীর অবর্ণনীয় কষ্টভোগ, অবধারিত মৃত্যু মিছিলের অসহায় দর্শক হতে হতে অনেক সার্জন পেশা ছেড়েছেন, পেশা বদল করেছেন। যাঁরাওবা নিরন্তর চেষ্টা করে গেছেন তারাও ভূগেছেন হতাশায়, বিষন্নতায়, আত্নপরিচয় গ্লানিতে।

অদম্য মানুষ চেষ্টা করে গেছেন। অবশেষে সেই স্মরণীয় দিন, ১৬ই অক্টোবর, ১৮৪৬ সাল, আমেরিকার বোস্টন শহরের ম্যাসাচুসেস্ট জেনারেল হাসপাতাল, ডেন্টিস্ট উইলিয়াম থমাস গ্রিন মর্টন রোগী এডওয়ার্ড গিলবার্ট এবট এর বাম চোয়ালের পাশে রক্তনালীর টিউমার অপসারণে ইথার গ্যাস প্রয়োগ করে নিরাপদ, ব্যথামুক্ত অপারেশনে সার্জন জন কলিন্স ওয়ারেন সহ সফল হন। এটা ছিল উচ্চ পর্যায়ের এক চিকিৎসক – সুধী সমাবেশের সামনে অনেকটা উন্মুক্ত প্রদর্শনী যাদের উদ্দেশ্যে সার্জন ওয়ারেন বলেন, ভদ্র মহোদয়গণ, এ নয় কোন ছলনা।

বস্তুত: সেদিন থেকেই সার্জারী তথা সার্জন ও সার্জারী রোগীর সকল ছলনা-যন্ত্রণা দূর করতে উদ্ভব ঘটে মেডিকেল সায়েন্সের নতুন সাবজেক্ট এনেসথেসিওলোজি। এতদিনের অচিকিৎসক-চিকিৎসক-সার্জন প্রমুখের অসংলগ্ন-সংলগ্ন এনেসথেসিয়া প্রচেষ্টার বদলে একদল চিকিৎসক ‘এনেসথেটিস্ট’ হিসাবে সার্বক্ষণিক পেশায় আলাদা হয়ে গেলেন, যাঁদের হাত ধরে বৈজ্ঞানিক গবেষণা-আবিষ্কারের ক্রমোন্নতিতে ‘এনেসথেসিওলোজি’ আজ শুধু সার্জারী নয় সমগ্র মেডিকেল কর্মকান্ডের সায়েন্স এন্ড আর্ট অব সেফটি হিসাবে পরিগণিত, এ যেন একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা উইং সংঘঠন।

এনেসথেসিয়া শব্দটি প্রথম শতাব্দীতে প্রথম ব্যবহার করেন গ্রীক দার্শনিক ডায়োসকোরাইড। মেডিকেল বিজ্ঞানে ঠিক এ শব্দটি ব্যবহার করেন ওলিভার ওয়েনডেল ১৮৪৬ সালে ইথার প্রয়োগের ফলাফল বর্ণনায়। বৃটিশ চিকিৎসক জনস্রোত (মতান্তরে ডব্লিউ টি জি মর্টন, আমেরিকা) এনেসথেসিওলোজির জনক হিসেবে সমাদৃত যিনি ফুলটাইম ইথার এনেসথেসিয়া নিয়ে কাজ করেছেন এবং ১৮৪৭ সালে প্রথম জেনারেল এনেসথেসিয়া বিষয়ক বই প্রকাশিত হয় তাঁর লেখা অন দ্য ইনহেলেশান অব ইথার। ইথারের পর সমসাময়িক সময়ে ক্লোরোফর্ম এনেসথেসিয়াও প্রচলিত হয় এবং জন ¯েœা ইংল্যান্ডের রাণী ভিক্টোরিয়ার শেষ দুই সন্তানের জন্মের সময়েই ক্লোরোফর্ম প্রয়োগে ব্যথামুক্ত নরমাল ডেলিভারী সম্পন্ন করান। প্রসংগত উল্লেখ্য যে, মাহাত্মা গান্ধীর এপেনডিক্স অপারেশনেও ক্লোরোফর্ম প্রয়োগ হয়েছিল। অবশেষে প্রাই ১০০ বছর পর ১৯৫১ সালে হ্যালোথেন গ্যাসের ব্যবহার শুরু হলে ইথার সহ ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়।

অচেতনকারী গ্যাস হিসাবে অনুন্নত দেশসমূহে হ্যালোথেন এখনও চলছে বটে, উন্নত দেশে গত শতাব্দীর শেষ দশক থেকে ব্যবহার হচ্ছে ডেসফ্লুরেন ও সেভোফ্লরেন গ্যাস। সেই সাথে ২০-৩০ % অক্সিজেনের সাথে লাফিং গ্যাস নাইট্রাস অক্সাইড আজ পর্যন্ত প্রায় হুবহু ব্যবহৃত হচ্ছে। সে ১৮৬৮ সালে আমেরিকান সার্জন এডমন্ড এন্ড্রুস যা শুরু করেছিলেন।

এদিকে লোকাল এনেসথেসিয়ার প্রথম ঔষধ কোকেইন আবিষ্কারের ঘটনা দারুণ মজার। ভিয়েনার মেডিকেল স্টুডেন্ট কার্ল কোলার (পরবর্তীতে চক্ষু বিশেষজ্ঞ) শুধু চোখে অবশ করার ঔষধ খুঁজছিলেন মনে মনে। এ সময় বন্ধুর দেওয়া কোকা গাছের পাতার নির্যাসের প্যাকেট ছিঁড়ে পড়ে কোলারের জামার পকেটে। খেয়ালিভাবে সে রস আঙ্গুলের ডগায় নিয়ে জিহ্বায় চেটে দেখেন কোলার। জিহ্বা অবশ হয়ে ওঠল। পরবর্তীতে কোলার ও তাঁর ল্যাব সহকারী গার্টনার এ নির্যাসের সাসপেনশন তৈরি করে নিজেদের চোখে প্রয়োগ করে দেখেন যে চোখে পিন লাগিয়েও কোন ব্যথা নেই। চক্ষু অপারেশনে সূচিত হয় বিশাল অগ্রগতি। প্রায় কাছাকাছি যৌগ প্রোকেইন এখনও ব্যবহার করছেন চক্ষু চিকিৎসকগণ।

কবি নজরুলের জন্মসাল ১৮৯৮ তে অগাষ্ট বায়ার কোকেন দিয়ে নিজে এবং সহযোগীর শরীরে প্রথম স্পাইনাল এনেসথেসিয়া প্রয়োগ করেন এবং যথারীতি দুজনেই প্রচন্ড মাথা ব্যথায় পিডিপিএইচ ভোগেন। আমাদের ঢাকা ভার্সিটি স্থাপিতের ১৯২১ সালে ফিডেল পেইজ লাম্বার এপিডুরাল এনেসথেসিয়ার কথা বলেন। এরপর ভারত-পাকিস্তানের অভ্যুদয়কাল ১৯৪৭ সালে আসে সবার পরিচিত ঔষধ লিগনোকেইন। পরে আরও ৩ টি গুরুত্বপূর্ণ এল. এ ড্রাগ আসে যথাক্রমে মেপিভেকেইন (১৯৫৭), বুপিভেকেইন (১৯৬৩) এবং রপিভেকেইন(১৯৭২)।

এনেসথেসিয়ার গ্যাস আর লোকাল ঔষধ পেয়েও মানুষের প্রয়োজন ফুরোয়নি। ১৯৩৪ সাল থেকে আমেরিকান বিখ্যাত এনেসথেসিও জন লান্ডি এবং আর ওয়াটারের হাত ধরে আজ পর্যন্ত সমানে ব্যবহার হচ্ছে শিরাপথের হিপ্নোটিক ড্রাগ ‘থায়োপেন্টোন’। যা প্রয়োগের ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে রোগী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে প্রায় ৫ মিনিট। ১৯৬৫ সনে কর্সেন এন্ড ডোমিনো মিলে প্রথম প্রয়োগ করেন ‘কেটামিন’ যা একই সাথে ঘুম পাড়ানি ও ব্যথা নিবারণী। সবশেষে ১৯৮৯ সালে আসে ‘প্রপোফল’ যা সঠিকভাবে যত খুশি দেন বন্ধ করার ৫ মিনিটের মধ্যে রোগী জেগে ওঠে। এমনিভাবে অপারেশন রোগীর ঘুম পাড়ানি, ঘুম জাগানি, ব্যথা নিরাময় তো বেশ হলো। রোগীর মাংসপেশী শিথিলকরণও ।

অনেক সার্জারীতে খুব দরকার। লোকাল এনেসথেসিয়ার পর ১৯৪২ সালে সেরকম শিরাপথের ঔষধ নিয়ে এলেন হেরাল্ড গ্রিফিথ এন্ড জনসন। তাঁরা কিউরের তৈরির কাঁচামাল নিয়েছিলেন শিকারীর তীরের মাথায় লাগানো বিষ থেকে। তারপর গ্যালামিন, সাক্সামিথোনিয়াম, নরকিউরেনিয়াম, রোকুরোনিয়াম একঝাঁক এনএমবিএ ঔষধ। সে ১৮০৫ সালে আফিম থেকে সার্টিনারের তৈরি মরফিনের পর পেথিডিন আর অধূনাকালের সিন্থেটিক ঔষধ ফ্যান্টানিল, সুফেন্টানিল, রেমিফেন্টানিল ইত্যাদি নারকোটিক্স এবং বহুবিধ নননারকোটিক পেইন কিলার ব্যবহারে এনেসথেসিয়া হয়ে উঠলো ১০০% ব্যথামুক্তির রক্ষাকবচ।

পলিফার্মাসির কল্যাণে এত রকমের ঔষধ সবগুলো যোগ্য কম মাত্রায় প্রয়োগে সিনারজিস্টিক এক্শন পাওয়া গেল। চালু হলো ব্যালেন্সড এনেসথেসিয়া (জন লান্ডি, ১৯২৬) রেস্পিরেটরি, সার্কুলেটরি, সিএনএস ডিপ্রেশন ইত্যাদি ভয়ংকর ঝুঁকি প্রায়ই নাই হয়ে গেল।

ঔষধের পাশাপাশি সমানে এগিয়ে চললো আনষঙ্গিক এনেসথেসিয়া যন্ত্রপাতি ও মেশিনাদির আবিষ্কার- গুডেল’স এয়ারওয়ে মাস্ক, এন্ডোট্রকিয়াল টিউব, ল্যারিংগোস্কোপ (ভলিয়ার জ্যাকসন) টি-পিস (আয়ার), ব্রেথিংসার্কিট (বেইন), মাউথ গ্যাগ এবং বয়লি’স এনেসথেসিয়া মেশিন (বয়লি এন্ড ডেভিস), এলএমএটিউব (ব্রেইন), ফরসেপ্স (মেগিল), ভেন্টিলেটর (ম্যানলি), স্পাইনাল নিডল (কুইনকি শুইটেকার), এপিডুরাল নিডল (লি, টুহি), ভেপোরাইজার (গোল্ডম্যান), (সোয়ান-গ্যঞ্জ), এন্ডোব্রংকিয়াল টিউব (কার্লেন ১৯৪৯) ম্যাকিনটস মাল্টিপ্যারা মনিটর মেশিন ইত্যাদি একইসাথে চলছে সায়েন্টিফিক শিক্ষণ, প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন কর্ম সহায়ক সিস্টেম উন্নয়ন- আপগার স্কোর (ভার্জিনিয়া আপগার), ম্যালামপেটি স্কোর, রিকভারী স্কোর (এলড্রেট), মোটর ব্লক স্কোর (ব্রোমেজ), এনেস্থেসিয়া ফিটনেস (এএসএ) স্কোর উল্লেখযোগ্য।

এসব আবিস্কারের অনেক কিছু হুবুহু এখনও ব্যবহার হচ্ছে। কতগুলো পরিত্যক্ত বা পরিবর্তিত হয়ে গেছে শুধু এনেসথেসিয়ার ব্যবহারে নয়, মেডিসিন, কার্ডিওলোজি, সার্জারী, আইসিইউসহ মেডিকেল সায়েন্সের অন্যান্য বিভাগের কাজে ও গবেষণায়। ১৯৩৯ সালে ইংল্যান্ডে শুরু হয় পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী ডিএ। এখন বাংলাদেশ থেকেও ডিএ সহ এমসিপিএস, এফ পিসপিএস, এমডি (এনেসথেসিয়া) এবং এমডি (ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন) ডিগ্রীর সুযোগ পাচ্ছেন দেশ বিদেশের মেডিকেল গ্রাজুয়েটগন।

দেশের ১ম ফুলটাইম এসেস্থেটিস্ট হিসাবে ডা. বেনী মাধব বসাক (আর.এস.ডি এমসি, ১৯৪৮), প্রথম ডি.এ অর্জনকারী ডাঃ আ.কাদের (ইউ কে, ১৯৫১) এবং ডা. ফকরুন্নিসা এবং ডা. দিলীপ দাশ (বি.ডি) প্রথম এমসিপিএস-ডা. শফিকুর রাসেল (পাকি) ডা. এম খলিলুর রহমান (বিডি) প্রথম এফসিপিএস-ডা.সেলিম মোঃ জাহাঙ্গীর (১৯৮৩) প্রথম এম ডি- ডা. মো. আব্দুল হাই (১৯৮৭) প্রমুখ স্বরণীয় আছেন। সু-সংবাদ হলো- বাংলাদেশ থেকে মেডিকেল ডিগ্রী সমূহের মধ্যে এক মাত্র এফসিপিএস (এনেসথেসিওলোজি) বৃটিশ মেডিকেল কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত।

অপারেশনকে ব্যাথামুক্ত করতে গিয়ে যে এনেসথেসিয়ার পথ শুরু সে কাজ আজ যথেষ্ট অপারেশন বান্ধব, রোগী ও চিকিৎসক বান্ধব হয়েছে, ইতিমধ্যে মেডিকেল জগতের অন্যান্য শাখা থেকেও নানাভাবে ঋদ্ধ হয়েছে এনেসথেসিওলোজি । আবার সবাইকে দিয়েছে ও অনেক। যেমনঃ শিশু জন্মের পরপরই গুরুত্বপূর্ণ আপগার স্কোরিং, ইএনটিতে ব্যবহৃত বয়লি-ডেভিস মাউথ গ্যাগ সব রকমের সার্জারীর ফলাফল বিবেচনার এএসএ ক্লাস স্কোর ইত্যাদি। এনেসথেসিয়া আজ অনেক আধুনিক মেডিকেল বিভাগ ও বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির জন্মদাতা।

যেমনঃ আধুনিক ইমার্জেন্সী বিভাগ, কয়েক সেকেন্ডে কার্যকর ঔষধ উদ্ভাবনী ফার্মাকোলজি, মেডিকেল পুনরুজ্জীবণি তথা সিপিআর, ব্যথামুক্ত নরমাল ডেলিভালী, অপারেশন বিহীন ইন্টারভ্যানশনাল পেইন মেডিসিন, রেসপিরেটরী থেরাপী বিভাগ, ডে কেয়ার এনেসথেসিয়া এন্ড সার্জারী, আইসিইউ-সিসিইউ-এইচডিইউ ইত্যাদি বিভিন্ন নামের নিবিড় রোগী পরিচর্যা বিভাগ, এমনকি নিরাময় অযোগ্য রোগীর পেলিয়েটিভ (উপশম) কেয়ার বিভাগ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য । কম্পিউটার, ইম্যুনোলোজি, জেনেটিক্স, লেজার, ইমেজিং প্রভৃতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে এনেসথেসিয়া ভবিষ্যতে আর ও সু সংহত হবে নিশ্চয়।

বর্তমানে এনেসথেসিয়া কর্মকান্ডের ব্যাপকতা ও বৈচিত্রতা হেতু এনেসথেসিয়াবিদকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের একাডেমিক প্রায়োগিক এমনকি মেডিকোলগালসহ সব বয়সী সব ধরণের চিকিসায় অবদান রাখার মত কমপ্লিট ফিজিশিয়ানশীপ অর্জনের চ্যানেঞ্জ নিতে হয়। লক্ষ্যনীয় যে, এনেসথেসিয়া ঔষধসমূহ খুবই দ্রুত কার্যকর হয় এবং এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও সর্বশরীরে বিস্তৃতহয়। তাই এ ঔষধগুলো দেখতে আর দশটা ইনজেকশনের মতো মনে হলেও তা একমাত্র দক্ষ এনেসথেসিও গণই প্রয়োগ করতে পারেন, তাতেও প্রয়োগের আগে রোগীর সম্পূণ শরীর ও মনোজগতের মেডিকেল চেকআপ, অনুমিত সকল প্রতিক্রিয়ারোধের ব্যাকআপ ইত্যাদি আবশ্যিক পূবশর্তস্বরূপ।

বস্ততঃ জন্মের মুহুর্তে শিশু ও মায়ের জীবন সংকট থেকে শুরু হয়ে বাকী জীবনে যেখানেই মৃত্যুসংকট সেখানেই অন্যান্য চিকিৎসক অদল বদল হয় বটে, এনেসথেসিয়াবিদ সবসময় কমন। এমন সংকট বন্ধু যাঁরা, তাঁদের অবদান দেশের মানুষদের কাছে প্রায় অজানাই বলা চলে, নাীতি নির্ধারণী মহলেও নানা কারণে এনেসথেসিওর ব্যাপক সক্ষমতা প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্যঘাটতি তথ্যবিভ্রাট থাকা অনুমেয়। যত দ্রুততায় সব অব্যবস্থাপনা, অপকারণ সমূহ দূর করা যাবে ততই আমার আপনার তথা জনস্বাস্থ্যের সংকট মোকাবেলা স্বচ্ছ-সহজ নিরাপদ হবে প্রত্যাশা। বর্তমানে বিশ্ব করোনা মহামারী সংকটে সচেতন জনগন ও রাষ্ট্র এ সর্ম্পকে ভালই অবগত হচ্ছেন।

পরিশেষে এ বছর ১৬ অক্টোবর পালিত ১৭৪ তম বিশ্ব এনেথেসিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য…… অকুপেশনাল ওয়েলবিং অব এনেসথেসিওলোজিস্টস্ এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক দেশবাসী ও সংশ্লিষ্ট সকলে উদাত্ত আহবান, অত্যন্ত সংকটঘন চিকিৎসক হিসেবে এনেথেসিও গণের কাজের মূল্যায়ন ও পরিবেশ স্বাচ্ছন্দ্য করণে খোলামন নিয়ে অবদান রাখুন। করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী সকলের আত্নার শান্তিকামনা করি। সবার জীবনের সংকট কাটিয়ে উঠুক।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, এনেসথেসিওলোজি বিভাগ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও ইনচার্জ, আইসিইউ, কক্সবাজার সদর হাসপাতল।

Comments are closed.