মুশফিকের শতক হার মানলো মেহেদী ঝড়ের কাছে

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ মুশফিকুর রহিম ঠিক যতক্ষণ মাঠে ছিলেন, জয়ের ক্ষীণ আশা ছিল নাজমুল একাদশের। একা একপ্রান্তে শতক হাঁকিয়ে লড়ে যাচ্ছিলেন জাতীয় দলের এই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান। যোগ্য সঙ্গীর অভাবে শেষদিকে চাপে পড়ে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে মেহেদী হাসানের হাতে ধরা পড়েন। আর নাজমুল একাদশের পরাজয়ও নিশ্চিত হয় তাতে।

দুর্দান্ত এক শতক হাঁকিয়েও তাই পরাজিত সৈনিক হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মুশফিককে। মূলত মেহেদীর ঝড়ো ইনিংসের কাছেই হার মানতে হয় মুশফিককে। এই তরুণের ঝড়ো ৮২ রানে বিবর্ণ তামিম একাদশ পায় ২২১/৯ স্কোর। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে মুশফিকের শতক সত্ত্বেও ১৭৯ রানে থামতে হয় নাজমুল একাদশকে। এই ম্যাচে নাজমুল একাদশ হেরে যাওয়ায় প্রতিযোগিতাটিতে লড়াই দারুণভাবে জমে উঠেছে। সিঙ্গেল লিগ শেষে তিন দলের জয় দাঁড়ালো একটি করে, পরাজয়ও সমান।

ম্যাচে তামিম একাদশের দেওয়া ২২২ রানের জবাবে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে নাজমুল একাদশ। টপ অর্ডারে এক মুশফিক ছাড়া দাঁড়াতে পারেনি আর কোনো ব্যাটসম্যান। ৭৪ রানেই দলের পাঁচ ব্যাটসম্যানকে হারায় দলটি। ষষ্ঠ উইকেটে ইরফান শুক্কুরকে নিয়ে ৬০ রানের জুটি গড়েন মুশফিক। এরইমাঝে ৬১ বলে ৩ চারে তুলে নেন ফিফটি। তবে ২৪ রান করে ইরফান ফিরে গেলে যোগ্য সঙ্গীর অভাবে ভুগতে থাকেন মুশি।

শেষ তিন ব্যাটসম্যানকে নিয়ে গড়েন ৪০ রানের জুটি। যেখানে অপরপাশের সঙ্গীদের সংগ্রহ ছিল কেবল ১ রান। শুরুতে কিছুটা রয়েসয়ে খেলা মুশফিক পরের পঞ্চাশ ছুঁতে বাউন্ডারি হাঁকান ৭টি, যেখানে ৬টি চার এবং ১টি ছয়ের মার ছিল। শেষ পর্যন্ত দলীয় ১৭৩ রানের মাথায় ১০৩ রান করা মুশফিক ফিরলে লড়াই থামে নাজমুল একাদশের। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬ রান করে তাসকিন ফেরেন দলীয় ১৭৯ রানে। তামিমদের পক্ষে তিন পেসার নেন মোট নয় উইকেট। যেখানে সবচেয়ে সফল শরীফুল নেন ৩৭ রানে ৪ উইকেট। এদিকে মুস্তাফিজ ৮ ওভারে ১৫ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। আরেক পেসার সাইফউদ্দীনের শিকার ২ উইকেট।

এদিকে দুপুরে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে তামিম একাদশ। টপ অর্ডারে তামিম ছাড়া রান পাননি আর কোনো ব্যাটসম্যান। দলীয় ৬৫ রানে ৪ উইকেট হারায় দলটি। যেখানে তামিমের সংগ্রহ ছিল ৩৩। পঞ্চম উইকেট জুটিতে অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে উঠে আসা শাহাদাত হোসেন ৪০ রানের জুটি গড়েন মোসাদ্দেকের সঙ্গে। তবে লেগ স্পিনার রিশাদের বলে ১২ রান করে মোসাদ্দেক ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। মুহূর্তের মধ্যে ১০৫/৪ উইকেট থেকে তামিম একাদশের স্কোর দাঁড়ায় ১০৮/৭। শাহাদাত ফেরেন ৩১ রান করে।

৩৪ ওভারের মধ্যে ৮ উইকেট হারিয়ে বসে তামিম একাদশ; যখন অলআউট হওয়ার কথা ভাবছিল তারা সেখান থেকে আক্রমণ শুরু করেন মেহেদি। এই ডানহাতির ৫৭ বলে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় সাজানো ৮২ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২২১/৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তামিম একাদশ। নবম উইকেট জুটিতে মেহেদির সঙ্গে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ৯৫ রানের জুটি গড়েন তাইজুল। এই বাঁহাতি স্পিনারের ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ২০ রান। নাজমুল একাদশের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন আল আমিন। ৪৩ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এছাড়াও নাঈম হাসান এবং রিশাদ হোসেন নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। ১ টি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন ও মুগ্ধ।

ব্যাট হাতে অসাধারণ খেলা মেহেদী হাসান ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন। সেরা ফিল্ডার হোন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। মুস্তাফিজুর রহমান জিতে নেন সেরা বোলার এবং সেরা ব্যাটসম্যান হোন মুশফিকুর রহিম।

Comments are closed.