আসামী র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার, থানায় ‘অপহরণ’ মামলা!

মেজর সিনহা হত্যা

ইমাম খাইর, ওয়ান নিউজঃ 

গত ৩১ জুলাই চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনার পর পৃথক দুইটি মামলাও করে টেকনাফ থানা পুলিশ।

ওই মামলায় টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের মারিশবুনিয়া এলাকার মো. নুরুল আমিন নামে একজনকে স্বাক্ষী করে পুলিশ। কিন্তু মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে তাকে ওই দুই মামলার তিন সাক্ষীকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব। তা ফলাও করে গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

কিন্তু টেকনাফ থানা পুলিশ নুরুল আমিনকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে বলে তার মায়ের দায়ের করা একটি মামলা নথিভূক্ত করেছে। অথচ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে তারা এখন কারাভ্যন্তরে। তাদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন।

একই দিন বিকালে জানা গেল, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা খুনের ঘটনায় র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার তিনজনের মধ্যে মো. নুরুল আমিনকে অপহরণের অভিযোগে টেকনাফ থানায় মামলা করেছেন তার মা খালেদা বেগম। মামলার আসামি সবাই অজ্ঞাতনামা। তবে র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতারের বিষয়টি বিকেলে আদালতে হাজির করার আগে পর্যন্ত পুলিশ জানতেন না বলে দাবি করেছেন টেকনাফ থানার নবাগত ওসি মো. আবুল ফয়সল।

তিনি জানিয়েছেন, সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে টেকনাফের মারিশবুনিয়া এলাকা থেকে মো. নুরুল আমিনসহ ৩ জনকে বাড়ি থেকে অজ্ঞাত একদল লোক জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। যারা সিনহার মৃত্যুর পর পুলিশের করা মামলার সাক্ষী। স্বজনরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়। পরে মঙ্গলবার সকাল ৭ টা ৩৫ মিনিটে থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছে।

মো. নুরুল আমিনসহ ৩ জনকে অপহরণের বিষয়টি থানায় অবহিত করার পর সোমবার রাত ৩ টার দিকে টেকনাফের মারিশবুনিয়া এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান স্বজনেরা। পরে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় মঙ্গলবার সকালে নুরুল আমিনের মা খালেদা বেগম বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

Comments are closed.