ফরিদুল মোস্তফার অবস্থা জানতে ঢাকা থেকে আসছেন ৫ সদস্যের সাংবাদিক টিম

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিঃ
টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বর্বরতার শিকার হয়ে ১১ মাস ধরে কারাবন্দি হয়ে আছে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা। পাচ্ছে না সুচিকিৎসা। পার করছে মানবেতর সময়। অর্থনৈতিক দৈন্যতা ও মানসিক যাতনায় রয়েছে ফরিদের পরিবার ও স্বজনেরা।
একে একে ৬টি মিথ্যা মামলা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে কারাগারে।
এমন দুঃসময়ে ফরিদুল মোস্তফা ও তার পরিবারের খোঁজ খবর নিতে ঢাকার ৫ সদস্যের সাংবাদিক টিম কক্সবাজার আসছেন।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আহমেদ আবু জাফরের নেতৃত্বে টিমে রয়েছেন- বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার ও ক্রাইম ইনভেষ্টিগেশন সেল প্রধান সাঈদুর রহমান রিমন, বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদ (বনেক) সভাপতি মোঃ খায়রুল আলম রফিক, অনলাইন এডিটরস কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কালাম আজাদ ও ডেইলি ইন্ডাষ্ট্রি পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার নান্টু লাল দাস।
টিমের সহযোগি সদস্য হিসেবে বিভিন্ন জেলার আরো ২৫ জন সাংবাদিক সেখানে যোগ দেবেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) নেতৃবৃন্দ ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। পরেরদিন সকালে তাঁরা ফরিদুল মোস্তফার পরিবারের সাথে দেখা করে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলা প্রশাসক সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন।
সফেকালে তারা স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথেও মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টেকনাফের তৎকালীন ওসি প্রদীপ দাসের নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলার শিকার ফরিদুল মোস্তফা প্রাণভয়ে ১১ মাস ধরে কক্সবাজার কারাগারে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এই ওসি ও তার সহযোগীদের নানা অপকর্ম, গ্রেপ্তার বাণিজ্য, মাদক কারবারিদের সাথে সু-সম্পর্ক থাকার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় ওসি প্রদীপ কুমার এবং তাঁর সহযোগীদের সীমাহীন আক্রোশে ফরিদুল মোস্তফাকে ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে ধরে টেকনাফ থানায় নিয়ে তাঁর ওপর অমানষিক বর্বরতা চালায়। সে সময় তাঁর চোখে মরিচের গুঁড়া দিয়ে নির্যাতন করায় বর্তমানে দুটি চোখই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এছাড়া তাঁর হাত-পা ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়। এতেও ক্ষ্যান্ত হননি ওই বর্বর ওসি ইয়াবা ব্যবসায়ি সাজিয়ে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ওই মামলায় জামিনের ক্ষেত্রেও সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ নানা প্রভাব ও কুটকৌশল খাটিয়ে বাঁধার সৃষ্টি করে ছিলেন।
নজিরবিহীন নির্মমতার শিকার সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার ঘটনা জানতে বিএমএসএফ এর উদ্যোগে সাংবাদিক, আইনজীবি, মানবাধিকারকর্মীর সমন্বয়ে একটি টিম কক্সবাজারে যাচ্ছেন। তারা ঘটনার আদ্যপ্রান্তর পাশাপাশি আইনি সহায়তা প্রদানের যাবতীয় পদক্ষেপ নিবেন।
জেলগেটে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেয়াসহ উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার পদক্ষেপও নিবেন তারা।

Comments are closed.