প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইউপি সদস্য আব্দুল গফফারের খোলা চিঠি

মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী
দেশরত্ন শেখ হাসিনা
আসসালামু আলাইকুম।

বিষয়:উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ, সুষম বন্টন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পেমুখিতা পরিহারে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘ এক যুগ ধরে টানা তিনবার সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। সরকার প্রধান হিসাবে রয়েছেন জাতির জনক ও বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। সঙ্গত কারণেই জনগণের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির শেষ ভরসাস্থল হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্র পরিচালনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা যা বলেছেন তার সবকিছুই বাস্তবায়ন করেছেন। তাই বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যার প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহস করে এ খোলা চিঠি লেখা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, ‘গ্রাম হবে শহর’। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও ব্যক্ত হয়েছিল এ প্রত্যয়। যার ভিত্তিতে উন্নয়নের বিকেন্দ্রিকরণ ও সুষম বন্টনের কারণে প্রতিটি গ্রাম ক্রমান্বয়ে শহরে উন্নীত হবে। বর্তমান সরকারের আমলে সারাদেশে ভৌত অবকাঠামোসহ সর্বক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। কিন্তু অতীতের ন্যায় আমার প্রিয় মাতৃভূমি উখিয়া টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ঢাকামুখিতা অথবা ঢাকামুখী স্রোত আমরা ঠেকাতে পারিনি। দুই দিনের অধিক যখন কোন ছুটি ঘোষণা হয় তখন দেখা যায় যে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নাড়ির টানে অসংখ্য ঢাকাবাসী গ্রামে বা নিজ এলাকায় চলে যায়। ছুটি শেষ হলে আবার যে যার কর্মস্থলে কিংবা শিক্ষাঙ্গনে যোগ দিতে আবার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ফিরে আসে।

আমাদের দেশ আটটি বিভাগীয় শহরে বিভক্ত হলেও সকল বিভাগের শিক্ষিত লোকজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরিরত রয়েছেন, যেখানে একটি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র, সেখান থেকে রাস্তা দিনে দিনে সংকুচিত হচ্ছে, প্রায় এগারো লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীরা নিত্য দিনে চলাফেরার কারণে,পাশাপাশি যানজটের তীব্রতাও দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আমরা উখিয়া টেকনাফে উপজেলার জনগ বাসযোগ্য করতে হলে রোহিঙ্গা শরণার্থী চলাফেরার জনস্রোত ঠেকাতে হবে। বর্তমান করোনা ভাইরাসের এ সময়ে বিষয়টি জনমনকে আরও বেশী ভাবিয়ে তুলেছে। গণপরিবহনসহ যাতায়াতের সকল মাধ্যম বন্ধ থাকার পরও রোহিঙ্গা শরণার্থী উখিয়া থেকে টেকনাফে, তাদের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রাম ঢাকা থেকে গ্ আবার ক্যাম্পে,ক্যাম্প থেকে আবার চট্টগ্রাম ঢাকায় যাতায়াত করছেন। ফলে করোনা ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে , আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে এ খোলা চিঠি

সরকারের একটি মাত্র কঠিন সিদ্ধান্ত আইনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলে এই রোহিঙ্গা চলাচল এবং চট্টগ্রাম ঢাকা থেকে স্বাগতম চাকরিজীবীরা আইন মানতে বাধ্য হবে বলে মনে হয়, এতে সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা সহজ হবে, বৃদ্ধি পাবে জীবন যাত্রার মান।

পরিশেষে সরকারী সিদ্ধান্ত ও আইনের প্রয়োগ কিংবা জনসচেতনতা যে প্রকারেই হোক জনস্রোত ঠেকাতে সরকারী উদ্যোগ আরও বেগবান করার প্রস্তাব করছি। এ উদ্যোগ দীর্ঘ মেয়াদী হলেও এর বাস্তবায়ন সহজ হবে কারণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহে সাধারন গ্রামের মানুষ করুণা থেকে রক্ষা পাবে ইতিমধ্যেই গ্রামের উদ্দেশ্যে ছুটতে শুরু করেছে। জীবন ও অস্তিত্বকে টিকানোর মৌলিক রসদ শহরে নয় গ্রামেই রয়েছে এ উপলব্ধি এখন সকলের। অচিরেই ‘গ্রাম হবে শহর’ এ প্রতিপাদ্যের বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরও চিন্তাশীল হবেন বলে আশা করছি।

নিবেদক
আব্দুল গাফফার ( মেম্বার)
১নং হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন পরিষদ ৫,নং ওয়ার্ড , টেকনাফ, কক্সবাজার।

Comments are closed.