শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় সিক্ত কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

ওয়ান নিউজঃ মহান বিজয়ের ৪৫ তম দিনের প্রথম প্রহরে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকদের শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় সিক্ত হলো কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
বিজয়ের দিন ঘড়ির কাটা রাত বারটা বেজে এক মিনিট পার হতে না হতেই শহীদ বেদিতে ফুল নিবেদন করে শ্রদ্ধা জানায় জেলা প্রশাসন।
শহীদ মিনারে ক্রমান্বয়ে শ্রদ্ধা জানায় সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা অাওয়ামীলীগ, জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক আকতার চৌধুরীর নেতৃত্বে জেলা বিএনপি, এডভোকেট মো. তারেক এর নেতৃত্বে জেলা জাতীয় পার্টি। এরপর একে একে বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, সংস্থার প্রতিনিধিরা শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পন করে। বিজয়ের মহান দিনে শহীদ মিনারে ফুল নিয়ে যায় কক্সবাজার উন্নয়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কণেল (অব.) ফোরকান আহমদের নেতৃত্বে কউক সদস্যরা। আর শহীদ মিনারে এই ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা নাগাদ পুরোশহীদ মিনার এলাকাজুৃড়ে উপচেপড়া ভীড় চোখে পড়েছে। ধুম পড়ে ফুল বিক্রির দোকানসমূহে। বাংলাদেশের বিজয় ছিনিয়ে আনতে যাদের আত্নত্যাগ তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরন করতে রাত ১২টা নাগাদ জড়ো হয় দেশপ্রেমিক জনতা। রাতের ঘন কালো আঁধার কেটে প্রথম প্রহরে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ঘটনা হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক রাজনৈতিক স্বপ্ন সাধ পূরণ হয় এ মাসে।
বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত চূড়ান্ত বিজয় এ মাসের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয়। স্বাধীন জাতি হিসেবে সমগ্র বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে বাঙালিরা। অর্জন করে নিজস্ব ভূ-খ- আর সবুজের বুকে লাল সূর্য খচিত নিজস্ব জাতীয় পতাকা। ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এ দিনে।
বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নপূরণ হওয়ার পাশাপাশি বহু তরতাজা প্রাণ বিসর্জন আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই অর্জন হওয়ায় বেদনাবিঁধূর এক শোকগাঁথার মাসও এই ডিসেম্বর।
জাতি এ বছর বিজয়ের ৪৫তম বার্ষিকী পালন করছে আজ।

Comments are closed.