কে হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের মেয়র!

গোলাম মাওলা রনি

সেলিনা হায়াৎ আইভির হাসিমুখ এবং গণ সংযোগের সময় সাধারণ জনগণের উৎফুল্ল ভাবভঙ্গি প্রমাণ করে যে তিনি অতিশয় জনপ্রিয়।

বিএনপি প্রার্থী এ্যাডভোকেট শাখাওয়াতের গোমড়া মুখ এবং চালচলনের অড়ষ্টতা প্রমান করে – তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে বিএনপি তাকে মেয়র পদে নমিনেশন দিয়েছে এবং তিনি মেয়র হবেন!

বিএনপি ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের কেউই তাদের দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে আন্তরিকতা নিয়ে মাঠে নামেননি। ফলে পুরো নির্বাচনটির দুটি সম্ভাব্য পরিণতি হতে পারে-

১. যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তবে জয় পরাজয় ব্যালটে নির্ধারিত হবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি প্রার্থীর জয়ের সম্ভবনা প্রবল।

২. যদি সরকার অন্যান্য নির্বাচনের মতো আচরণ করে তবে সরকারী দলের বিজয় নিশ্চিত। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের হাতে যদি ভোট কেন্দ্রের দায় দায়িত্ব থাকে তাহলে আইভী বিরোধী আওয়ামী লীগের লোকজন কার পক্ষে ব্যালট বাক্স ভরবে তা পরিস্কার নয়।

সেলিনা হায়াৎ আইভীর জনপ্রিয়তা এবং নারায়ণগঞ্জ বাসীর জন্য তার কঠোর প্রেম এবং সীমাহীন অবদানের যদি মূল্যায়ন না হয় তবে ক্ষমতায় বসে ভালো কাজ করার উৎসাহ অনেকে হারিয়ে ফেলবেন। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে আইভী নিয়তির ফাঁদে পড়েছেন। এ ব্যাপারে সিটি কর্পেরেশন নির্বাচনে মেয়র মহিউদ্দিন সাহেবের পরাজয় এবং একটি বক্তব্য বারবার মনে পড়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি সপরিবারে চট্টগ্রাম ছিলাম মেয়র মহিউদ্দিনের পক্ষে নির্বাচন করার জন্য। একবার মহিউদ্দিন সাহেব বললেন-এম.পি সাহেব কতদূর থেকে এসে কতো কষ্ট করছেন। অথচ স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা আমার পাশে বসে পিঠে ছুরি চালাচ্ছেন। ওরা তো আমাকে ফেল করানোর জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করছে!

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেলো মহিউদ্দিন সাহেবের আশংকাই সত্যে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, তার পরাজয়ের পর তার রাজনৈতিক শত্রুদের যে উল্লাস সংসদ লবিতে দেখেছিলাম তা ভাষায় প্রকাশ করার সাধ্য আমার নেই।

লেখক : কলামিস্ট, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ

Comments are closed.