সমিতিপাড়ায় অঘোষিত মাদকের হাট, প্রতিবাদ করলে নেমে আসে হামলা-মামলা

জাহাঙ্গীর আলম শামস:
কক্সবাজার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কুতুবদিয়াপাড়া, সমিতিপাড়া, ফদনারডেইল এলাকা এখন অঘোষিত মাদকের হাটে রূপ লাভ করেছে। হাত বাড়ালে মেলে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। ক্ষুদ্র দোকানের আড়ালে মাদকের থাবা ভয়াল আকার ধারণ করেছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মাদক কারবারীরা তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে নেমে আসে হামলা, মামলাসহ বিভিন্ন প্রকার নির্যাতন। চিহ্নিত মাদক কারবারীদের কবলে পড়েছে যুবক, যুবতিরা। মাদকাসক্ত হচ্ছে বৃহত্তর সমিতিপাড়ার ওঠতি বয়সি যুবক সমাজ। মাদক বিকিকিনিতে জাড়ানো হচ্ছে সরল নারী-পুরুষদের। বৃহত্তর সমিতিপাড়ার এককালের সুনাম এখন দিন দিন ক্ষুণœ হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে সরেজমিন অনুসন্ধান করে এসব তথ্য ওঠে আসে।
সমিতিপাড়া বাজারের এক মুদির দোকানদার জানিয়েছে, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য চরম আকারে বিকিকিনি হচ্ছে। চিহ্নিত ১০-১৫ জন গডফাদার পুরো মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে। কেউ প্রতিবাদ করলে নেমে আসে হুমকি ধমকি ও মিথ্যা মামলা।
ফদনার ডেইল এলাকার ষাটোর্ধ আবদুল করিম জানিয়েছেন, তাদের এলাকার বিভিন্ন ছেলে মাদক কারবারীদের শিকার হচ্ছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ সরলমনা ছেলে মেয়েদের মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। টাকার লোভে পড়ে অনেকেই বিপদগামী হচ্ছে।
কুতবদিয়াপাড়ার একজন শিক্ষক দুঃখ করে জানিয়েছে, তাদের অনেক নিয়মিত শিক্ষার্থী ক্লাসে এখন অনিয়মিত হয়ে গেছে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখে, এসব শিক্ষার্থী মাদক ব্যবসায়ীদের ‘বাহকে’ পরিণত হয়েছে। প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে অভিভাবকেরা অনেকটা অসহায়। যে কারণে সন্তানদের সরিয়ে আনা তাদের পক্ষে কষ্ট হয়ে পড়েছে। অদূর ভবিষ্যতে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড মাদক ব্যবসায়ীদের কারণে ‘অশান্তির নগর’ হিসেবে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
ফদনার ডেইল এলাকার বাসিন্দা বীরমুক্তিযোদ্ধা মৃত আবুল হাশেম (পুলিশ) এর ছেলে মোহাম্মদ হোসেন জানান, কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী পুরো এলাকাকে জিম্মি করে ফেলেছে। খুচরা ও পাইকারী হারে ইয়াবা বিক্রি করার কাজে গরীব নারী ও রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। দিনদিন মাদক কারবার ভয়াল আকার ধারণ করেছে।
তিনি জানান, রোজিনা আকতার নামের এক মহিলা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা করে আসছে। তার শক্তিশালী সিন্ডিকেটে রয়েছে অন্তত ১০০ জন সদস্য। শহরের বিভিন্ন এলাকার মাদক কারবারী ও মাদক সেবনকারীদের সাথে রোজিনার ব্যবসা পরিচালিত হয়।
মোহাম্মদ হোসেন দুঃখ করে জানান, রোজিনাকে মাদক ব্যবসা না করার জন্য বেশ কয়েকবার অনুরোধ করা হয়। এলাকাবাসীও নিষেধ করে। কারো কথায় পাত্তা দেয়নি রোজিনা। নির্দিধায় চালিয়ে যাচ্ছে অপকর্ম। উল্টো হুমকি দিয়ে বলে, তাকে গ্রেফতার করে কোন কাজ হবেনা। তার সিন্ডিকেটে ১০০ জন গডফাদার রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে হলে ওই ১০০ গডফাদারকে গ্রেফতার করতে হবে। রোজিনার এসব ভয়েস রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
এদিকে, রোজিনা আকতারের অপকর্মের প্রতিবাদ করায় এলাকার নিরীহ মানুষদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন লোক দিয়ে মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ জানিয়েছে। এসব হয়রানী থেকে ভুক্তভোগিরা পরিত্রাণ চায়।
স্থানীয় একটি সুত্র জানিয়েছে, আয়েরা বেগম নামের এক মহিলা রোজিনার সহকারী হিসেবে কাজ করতো। পরে নিজের ভুল শূধরে সুপথে ফিরে আসলেও রোজিনার কবল থেকে রেহায় পাচ্ছেনা। মাদক বিকিকিনির কাজে ব্যবহৃত হতে আয়েরাকে বাধ্য করছে। এমনকি গত ক’দিন আগে আয়েরা বেগমকে ব্যাপক মারধর করে রোজিনা। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক দেবব্রত রায় জানিয়েছেন, রোজিনা আকতারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অনেক অভিযোগ রয়েছে। একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার কক্সবাজার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোজিনা আকতারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগে একজন মহিলা মামলাও করেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত চলছে।

Comments are closed.