মহাকবি মাইকেলের আজ ২৫ জানুয়ারি ১৯৩তম জন্মবার্ষিকী

ইয়ানুর রহমান : আজ ২৫ জানুয়ারি বাংলায় অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবক্তা মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৩তম জন্মজয়ন্তী। এ উপলক্ষ্যে চারদিন আগেই শনিবার (২১ জানুয়ারি) কবির বাস্তুভিটা যশোরের কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদতীরের সাগরদাঁড়িতে বসছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা। এবারের এ মেলাকে ঘিরে কবির জন্মস্থানে মধুসূদন সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

আজ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৩ তম জন্ম বার্ষিকী। ১৮২৪ সালের এই দিনে যশোরের সাগরদাঁড়ীতে মহাকবি জন্মগ্রহণ করেন। আধুনিক বাংলা কবিতার জনক ও যুগস্রষ্টা এক কবি বাংলা সাহিত্যে সনেট, চতুর্দশপদী কবিতা এবং মহাকাব্য সৃষ্টি করেছেন। কবিতাকে দিয়েছেন বিশ্বসাহিত্যের সাথে পরিচয় করিয়ে। তার অমর সৃষ্টি মেঘনাদবধ কাব্য। এছাড়ারও দ্য ক্যাপটিভ লেডি, শর্মিষ্ঠা, কৃষ্ণকুমারী, পদ্মাবতী, বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা, চতুর্দশপদী কবিতাবলী ইত্যাদি।

জমিদার ঘরে জন্মগ্রহণ করেও শুধুমাত্র সাহিত্যকে ভালোবেসে সমাজ সংসার থেকে পেয়েছেন বঞ্চনা আর যন্ত্রণা। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতায় মারা যান মহাকবি মাইকেল মধুসূদন। এরপর কবির ভাইয়ের মেয়ে কবি মানকুমারি বসু ১৮৯০ সালে কবির প্রথম স্মরণসভার আয়োজন করেন সাগরদাঁড়িতে। সেই থেকে শুরু হয় মধু মেলার। এর ধারাবাহিকতায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় জেলা প্রশাসন এবারও আয়োজন করেছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলার।

মেলাকে ঘিরে এরই মধ্যে উৎসব আমেজের সৃষ্টি হয়েছে কেশবপুরসহ আশপাশের এলাকায়। মেলায় বিনোদনের নানা আয়োজন ছাড়াও প্রতিদিন মঞ্চে থাকছে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেখানে পরিবেশন করবে জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। বিভিন্ন এলাকার মানুষ মধুমেলা উপভোগের জন্য আসছেন।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে এবার মধুকবির জন্মজয়ন্তী উৎসবকে ঘিরে কবির জন্মস্থানে মধুসূদন সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। এ দাবিতে গঠিত হয়েছে আন্দোলন কমিটি। যশোরবাসীর প্রাণের দাবি মহাকবি মধুসূদন দত্তের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের। পাশাপাশি মধু কবির জন্মদিন, মৃত্যুদিবস পালন ছাড়াও তাকে ঘিরে গবেষণা আরও বিস্তৃতি করার দাবিও মধু গবেষকদের।

তবে মধুকবির নামে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভিন্ন কথা বলেছেন যশোর-৬ আসনের এমপি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসামত আরা সাদেক। তবে এই এলাকায় পর্যটনের বিকাশের জন্য গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।  তিনি জানিয়েছেন, সাগরদাঁড়ীতে পর্যটন বিকাশে বর্তমান সরকার কাজ করবে। সেলক্ষ্যে এ অঞ্চলের রাস্তাঘাট সংস্কার এবং সাগরদাঁড়ীতে একটি ৫ তলা মোটেল গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হবে। মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ’র পাড়ে কবির বাস্তুভিটায় একটি সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে কবির প্রতি যথাযথ সম্মান
প্রদর্শন করা হবে; এমন প্রত্যাশা সকলের।

Comments are closed.