বিস্ময়কর ‘কবুতর রেসিং’ প্রতিযোগিতা

নেজাম উদ্দিন, সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার

কথায় আছে সখের দাম কোটি টাকা, এই সখের বশে কক্সবাজারের কিছু তরুন কবুতর পালনে আগ্রহী হয়, এই আগ্রহ হয়ে উঠে তাদের প্রতিযোগিতা মুলক তারা এই ট্রেনিং করা কবুতর দের দিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিগত দিনে রেস করছেন এইবার প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের সৈকত থেকে পর্যটন শহর কক্সবাজার এলাকার দূরত্ব প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার। কক্সবাজার শহরের কয়েকজন সৌখিন কবুতর খামারী শখের কবুতর নিয়ে জড়ো হন সেন্টমার্টিন দ্বীপে। ৪৩টি কবুতরই ‘রেসার’ প্রজাতির। পথ চিনে কার কবুতর কত সময়ের মধ্যে বাসায় ফিরতে পারে তা পরীক্ষার জন্যই আয়োজন করা হয় ‘কবুতর রেসিং’ প্রতিযোগিতার। বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো সাগর পাড়ি দেয়ার এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল কক্সবাজার ‘রেসিং পিজিওন ফেন্সিয়ার্স ক্লাব’। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ৪৩টি কবুতর। কবুতরগুলো যখন সেন্টমার্টিন সৈকত এলাকা থেকে খাঁচামুক্ত করা হয়, তখন উপস্থিত দর্শকের অনেকেরই সংশয় ছিল- নীল আকাশে ভেসে ১৩৫ কিলোমিটার দূরে সাগর পাড়ি দিয়ে কক্সবাজার শহরের নিজ নিজ বাসায় কবুতরগুলো ফিরতে পারবে তো? এসব কবুতরের দাম ছিল প্রায় ৪ লাখ টাকা। একেক একটি ‘রেসার’ প্রজাতির কবুতরের দাম ২ থেকে ১০ হাজার টাকা। দর্শকদের খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। উড়াল দেয়ার ১২০ মিনিটের মাথায় সেন্টমার্টিন সৈকত থেকে ১৩৫ কিলোমিটার সাগরপাড়ি দিয়ে কক্সবাজার সাগরপাড়ের মধ্যবাহারছড়া জাহেদুল ইসলাম ও তারাবনিয়ারছড়া এলাকার সিদ্দিক আহম্মদের বাড়িতে পৌঁছে যায় ৩৯টি ‘রেসার কবুতর’। বাসা থেকে ফোন আসে তাদের কবুতর বাসায় ফিরে এসেছে। ১২০ মিনিটের মাথায় নিজের কবুতর বাসায় ফেরার খবর পান সেন্টমার্টিন সৈকতে অপেক্ষমাণ জাহেদ। রেসিং প্রতিযোগিতায়’ অংশ নেয় জাহেদুল ইসলাম ও সিদ্দিক আহম্মদের ৪৩টি ‘রেসার কবুতর’। মালিকের বাড়িতেই ফিরে এসে এগুলো রেকর্ড গড়েন। প্রতিযোগিতায় দুজনই বিজয়ী হন। বিজয়ীদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ক্লাবের সদস্যরা। কক্সবাজার পৌর সভা কার্যালয়ের সামনে শনিবার পড়ন্ত বিকালে ফুলের তোড়া দিয়ে জয়ী জাহেদ ও সিদ্দিককে অভিনন্দিত করে ক্লাবের সদস্যরা। সৌখিন কবুতর পালনকারীদের নিয়ে গঠন করা হয় ‘কক্সবাজার রেসিং পিজিওন ফেন্সিয়ার্স ক্লাব’। এই ক্লাবে সদস্য সংখ্যা ৫২ জন। এরা প্রত্যেকে শখের বশে বাড়িতে কবুতর পালন (ফার্ম) করেছে। সংগঠনের সদস্যরা নিজেরাই কবুতর উৎপাদন এবং সংগ্রহ করে থাকেন। ‘রেসিং পিজিওন ফেন্সিয়ার্স ক্লাবের’ আহ্বায়ক জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো দীর্ঘ সমুদ্র পাড়ি দেয়ার এ রেসিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় বৃহস্পতিবার। প্রতিযোগিতার প্রথম পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।’ তিনি জানান, কক্সবাজারে কবুতর পালনে সৌখিন লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। জাহেদ বলেন, বাড়িতে কবুতর পালন একটা আলাদা মজা। শখের কারণে কবুতর পালন করে এখন কবুতর খামারী হয়ে গেছি। প্রত্যেক বেকার যুবক বাসা-বাড়িতে, ছাদের ওপর কবুতর পালন করলে নিজেরা লাভবান হবে। আর পরিবারেও আসবে স্বচ্ছলতা। তিনি বলেন, ‘আগামীতে আমরা তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৪০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেসের আয়োজন করতে যাচ্ছি।’ এই কবুতর পালনকে ঘিরে কক্সবাজার শহরের সদর মডেল থানা রোডের মাথায় প্রতি শুক্রবার ও সোমবার বসে কবুতর বাজার। সফল কবুতর চাষি ইয়াছিন আরাফাত রিগান এই কবুতর বাজারের উদ্যোক্তা।

Comments are closed.