প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্র ধ্বংস করার একদলীয় শাসন প্রবর্তনের রাস্তা থেকে সরে আসবেনঃ ফখরুল

ওয়ান নিউজঃ বিএনপি আশা করে প্রধানমন্ত্রী জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আগামী নির্বাচন এবং রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবেন। একই সাথে তিনি গণতন্ত্র ধ্বংস করার একদলীয় শাসন প্রবর্তনের রাস্তা থেকে সরে এসে গণতন্ত্রের মুক্ত পথে চলবেন। রাজধানীর গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুক্রবার বিকেলে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আশা ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে উন্নয়নের নামে বর্তমান সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত। আইনের শাসন অনুপস্থিত। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। দেশে এখন স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই। সরকারের রথি মহারথিরা গণতন্ত্রের চাইতে উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়ার নামে সকল সামাজিক চুক্তি ভঙ্গ করে জনগণকে শৃঙ্খলিত করছে। উন্নয়নের নামে চলছে বল্গাহীন লুন্ঠন। দেশে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী অলিগার্কি (ক্ষমতা মুষ্টিবদ্ধ করার প্রক্রিয়া)।

বর্তমানে বিরোধী দল নির্মূল করার প্রক্রিয়া চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। গণতন্ত্রকে হত্যা করে, জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে, একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা জনগণ কোনোদিনই মেনে নেবে না।’

আমরা এখনও আশা করি, প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্র ধ্বংস করার একদলীয় শাসন প্রবর্তনের ভয়ঙ্কর রাস্তা থেকে সরে গিয়ে গণতন্ত্রের মুক্ত পথে চলবেন। জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবার জন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আগামী নির্বাচন এবং রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবেন। নতুন আশার আলো দেখাবেন। অন্যথায় জনগণের কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী গতকাল তার ভাষণের শুরুতেই জাতিকে ভ্রান্ত তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ২০১৪এর ৫ ই জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের কথা বলেছেন, যা সঠিক নয়।

প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তার ভাষণে এমনভাবে চিত্রায়িত করেছেন যে সকল উন্নয়ন তার দুই দফার সরকারের ৮ বৎসরেই হয়েছে। যা সঠিক নয়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভিত্তি তৈরি করতে হয়, এরপর একটি একটি করে ইট লাগাতে হয়।’

গত ৮ বৎসরে ধনী আরও ধনী, গরীব আরও গবীব হয়েছে। প্রতি কেজি ১০ টাকা মুল্যে চাল সরবরাহের নামে সরকার ১০ ধরনের অনিয়ম করছে বলেন ফখরুল।

মেগা প্রকল্পে মেগা চুরির করা যায় তাই সরকার মেগা প্রকল্প গ্রহণে বেশি আগ্রহী মন্তব্য করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সড়ক উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়েছেন। কিন্তু তিনি বলেননি বাংলাদেশের ১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও ১ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ ব্যয় চীন, ভারত ও যুক্তরাজ্যের চেয়ে কত বেশি। তিনি বলেননি নানা অজুহাতে মেগা প্রজেক্টগুলোর প্রকল্প ব্যয় কয়েকশগুন বৃদ্ধি করে মেগা চুরির কি সুবন্দোবস্ত করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর প্রকল্প ব্যয় ছিলো ১১ হাজার কোটি টাকা আর তা বাড়িয়ে করা হয়েছে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা। মালিবাগ ফ্লাইওভারসহ প্রায় সবগুলো ফ্লাইওভারের প্রকল্প ব্যয় এভাবে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকার মেগা প্রকল্প গ্রহণে বেশি আগ্রহী কারণ এতে তারা মেগা চুরির সুযোগ সৃষ্টি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।

Comments are closed.