কৃতকর্মের ফল সে ভোগ করেছে: মারজানের বাবা

ওয়ান নিউজ ডেক্স: গুলশানের হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী জঙ্গিনেতা নুরুল ইসলাম মারজান তার কৃতকর্মের জন্য শাস্তি পেয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বলেছে, যারা মারজানকে জঙ্গিনেতা বানিয়েছে তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মারজান ঢাকার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর এলাকাবাসী ও তার স্বজনরা ভীড় করেন মারজানের পাবনা সদর উপজেলার আফুরিয়া গ্রামের বাড়িতে। মারজানকে যারা বিপথে নিয়ে গেছে তাদেরও কঠোর শাস্তির দাবী জানান তার মা-বাবা।

মারজানের বাবা নিজাম উদ্দিন জানান, আমার ছেলে যে অন্যায় করেছে তার কৃতকর্মের ফল সে ভোগ করেছে। কিন্তু আমার মেধাবী এ সন্তানকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। তাকে যারা জঙ্গি বানিয়েছে তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।

মারজানের মা সালমা খাতুন জানান, আমার ছেলে কিভাবে এ কাজে জড়িয়েছে তা আমাদের জানা নেই। কিন্তু তার স্ত্রী ও একমাস বয়সী শিশু সন্তান যেন আমাদের কাছে ফিরে আসে।

এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে মারজানের বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে। জেলায় নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটবে এমন কোন শংকা নেই। লাশ বহনের আর্থিক সামর্থ তাদের নেই বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, পাবনা সদর উপজেলার আফুরিয়া গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে মারজান গত বছরের জানুয়ারী মাসে সর্বশেষ বাড়িতে আসে। ওই সময় তার স্ত্রী প্রিয়তিকে সঙ্গে নিয়ে যাবার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে আর কোন যোগাযোগ ছিল না তার। গুলশান হামলার পর গণমাধ্যমের সংবাদে মারজানের জঙ্গি পরিচয় জানতে পারেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছাত্র মারজান গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে পাবনা শহরের বাঁশবাজারের আহলে হাদীস কওমী মাদরাসায় ভর্তি হন। পরে পাবনা আলীয়া মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাশের পর চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় নব্য জেএমবিতে যোগ দেয় বলে জানা গেছে।

Comments are closed.