কলাতলীতে ইয়াবা ঘিরে সক্রিয় কিশোর গ্যাং; নেপথ্যে ইন্ধন ‘বড় ভাই’
ডেস্ক নিউজ: কক্সবাজার শহরের কলাতলীর পূর্বপাশে ঘনবসতি ও পাহাড়ি এলাকা। অপরাধ প্রবনতা লেগেই থাকে নিয়মিত। মাদক ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা বেশ দৃশ্যমান। এই অপরাধ প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে পূর্ব কলাতলী দক্ষিণ আদর্শ, চন্দ্রিমার ঘোনা, বখতিয়ার ঘোনা ও ঝরঝরি এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক গ্যাং। যারা এলাকায় কিশোর গ্যাং হিসেবে বেশ পরিচিত। মাদকের সূত্র ধরেই এসব এলাকায় কিশোর গ্যাং এর বিস্তার বেড়েছে বলে এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি এলাকায় ৮ থেকে ১০ জনের একটি গ্রুপ রয়েছে। তাদের বয়স ১৪ থেকে ২৫ বছরের মধ্যেই। বেশি ভাগের বয়স ১৮ থেকে ২০ এর মধ্যে। এলাকার মোড়ে মোড়ে বা গলিতে তাদের বিচরণ। নেই পড়ালেখা বা দৃশ্যমান কোন কাজ। সন্ধ্যার পর থেকে এলাকায় তাদের বিচরণ চোখে পড়ার মতো। ইয়াবা ছিনতাই ও মোবাইল ছিনতাই তাদের প্রধান টার্গেট। এলাকার কথিত সমাজ নেতাদের ইন্ধন রয়েছে তাদের এসব অপকর্মে।

অনুসন্ধান জানা গেছে, পূর্ব কলাতলী দক্ষিণ আদর্শ গ্রাম এলাকায় এক ডজন কিশোর গ্যাং এর সদস্য রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে, মো. নাছিরের ছেলে রাশেদ, বাবুল মিস্ত্রির ছেলে শাহিন, মো. সিরাজের ছেলে নুরুল ইসলাম ওরফে পুতু, বপ্পি, লাল বুইজ্জার ছেলে রাসেল, আবুল হোসেনের ছেলে একরাম, ওসমান, রবিউল, ইয়াছিন ও আজিজ।
পূর্ব কলাতলী দক্ষিণ আদর্শগ্রাম এলাকায় এই কিশোর গ্যাংয়ের লিডার হিসেবে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে রাশেদের নাম। তাদের কাছে দক্ষিণ আদর্শগ্রাম ছাড়াও চন্দ্রিমার ঘোনা ও বখতিয়ার ঘোনা এলাকার মানুষ জিম্মি।
ওই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দক্ষিণ আদর্শগ্রাম সমাজের সভাপতি সুমনের কারণে এই কিশোর গ্যাং এর বিচরণ বেড়েছে। কারণ সুমন একজন ইয়াবা সেবনকারী ও খুচরা বিক্রেতা। তাদের ইন্ধন দেন সমাজ নেতা সুমন। যার কারণে এই কিশোর গ্যাংটি নিয়মিত মানুষকে হয়রাণি ছাড়াও ছিনতাই করে যাচ্ছে এলাকায়। চার তলা একটি বিল্ডিং এর পাশে তাদের নিয়মিত অবস্থান। সন্ধ্যার পর থেকে নিয়মিত তারা এলাকার অলিগলিতে ঘুরে আর বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
সমাজ নেতা সুমনের সাথে রয়েছে আব্দুল্লাহ ওরফে গালবাজ আব্দুল্লাহ নামে এক মাদক কারবারি। এসব কিশোর গ্যাংদের পুরো এলাকার লোকজন ভয় পায়। তাদের কাছে নিয়মিত ধারালো ছুরি থাকে। কিশোর গ্যাং নেতা রাশেদের নেতৃত্বে তারা নিয়মিত অবস্থান নেন এলাকায়। এলাকাবাসীর কাছে তারা কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে কলাতলী চন্দ্রিমাস্থ বখতিয়ার ঘোনা এলাকায়ও রয়েছে কিশোর গ্যাংদের উৎপাত। বখতিয়ার ঘোনা এলাকায় ইমরান, রাহাত-১, সবুজ, রিদুয়ান, রাহাত-২, জুয়েল, বাবু ও নিশাদ। তারা এলাকায় কিশোর গ্যাং হিসেবে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছে। এলাকার বড় ভাইদের সেল্টারে তারা খুব জনপ্রিয় কিশোর গ্যাং। নেই পড়ালেখা, নেই আয়ের উৎস। নিয়মিত পকেটে থাকে চাকু। ছিনতাই, কাউকে মারধর ও বড় ভাইয়ের সাথে জমি দখলে তাদের ভূমিকা রয়েছে বেশি। সন্ধ্যার পর থেকে তাদের বিচরণ ও অপরাধ কর্মকান্ড শুরু হয়।
কলাতলীতে মাদকের ডিপো হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে ঝরঝরিকুয়া এলাকাটি। যেমন রয়েছে ইয়াবা সেবনকারী, তেমনি রয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়ী। তবে খুচরা ইয়াবা ব্যবসায়ী ঝরঝরি এলাকায় বেশি রয়েছে বলে এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে। সেখানে ইয়াবা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে জম্ম হয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের। কিশোর গ্যাংয়ের মূূূূূূূূূূূূূূূূূূূূল টার্গেট ইয়াবা ছিনতাই ও মোবাইল ছিনতাই। ঝরঝরি এলাকায় রয়েছে হিরু, সোহেল, শফি আলম ওরফে লাকি, তৌহিদুল ইসলাম, জামাল, রুবেল, হেলাল, রিদুয়ান ও সাকিব।
ঝরঝরি এলাকার কিশোর গ্যাংটি নিয়ন্ত্রণ করেন কথিত কয়েকজন সমাজ সেবক ও ছাত্রলীগ নামধারী কিছু অপরাধী। একটি গ্রুপ এই কিশোর গ্যাংটি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে নিয়মিত ব্যবহার করে আসছে। এলাকার সবার কাছে জানা রয়েছে তারা কিশোর গ্যাং। তাদের লিডারও রয়েছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ঝরঝরি এলাকার একজন সমাজসেবক জানান, এলাকায় অপরাধীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে অল্প বয়সী অপরাধীর সংখ্যা বেড়েছে। তারা কাউকে সম্মানত দূরের কথা পাত্তাও দেয় না। কারো কথা শুনে না। সবসময় উৎশৃঙ্খল আচরণ। ছিনতাই ও জমি দখলে অংশ নেন বেশি। এলাকায় তারা কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত। তাদের রয়েছে অনেক কথিত বড় ভাইও। বড়ভাইদের ইন্ধনে প্রতিনিয়ত ঘটছে অপরাধের ঘটনা। তারমধ্যে ইয়াবা ট্যাবলেট ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনও তাদের কিছুই করতে পারছে না। এসব কিশোর গ্যাংদের বিষয়ে নজর নেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীও। যদি প্রশাসন প্রতিটি এলাকায় অভিযান বা তথ্য সংগ্রহ করে তাহলে এসব অপরাধীদের নাম কিশোর গ্যাংয়ের প্রথম তালিকায় আসবে। চন্দ্রিমার ঘোনা এলাকায় এসব গ্যাংদের অবস্থান বলে তিনি জানান।
কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান বলেন, কক্সবাজার শহরে কিশোর গ্যাংদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে। নজরদারীতে রয়েছে কিশোর গ্যাংদের বড় ভাইসহ সকলে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.