ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ নির্বাচন কমিশার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের যারা আপিল করছেন তাদের কারো প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হবে না। প্রতিটি কেস মেরিট অনুযায়ী দেখা হবে।
তিনি বলেন, আপিলকারীদের ব্যাপারে আমরা সজাগ আছি। যেহেতু এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া। আমরা আইন অনুযায়ী তাদেরকে ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা করবো। আমি বিশ্বাস করি আপিলকারীরা ন্যায়বিচার পাবেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মঙ্গলবার আপিল দাখিল কার্যক্রম পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার আপিল গ্রহণের দ্বিতীয় দিন দুপুর ২টা পর্যন্ত ১৯৯ জন প্রার্থী আপিল করেছেন।
মাহবুব তালুকদার বলেন, শুনানিতে আমরা যা কিছু করব, তা আইনানুগভাবেই আমাদের করতে হবে। কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব আমরা অবশ্যই দেখাব না। প্রতিটি কেসেরই (আপিল) মেরিট আমরা দেখব। আমি যেটা মনে করি, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সব ব্যাপারেই একটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, নিরপেক্ষতা আপেক্ষিক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন সাজাপ্রাপ্ত হন, পরে আবার তিনি খালাসও পান। সেক্ষেত্রে আমি বলব, ন্যায়বিচার বিষয়টি পুরোপুরি আপেক্ষিক। কোনটা ন্যায়বিচার আর কোনটা নয়, সেটার বিচারক তো আমি নই।
উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে কি না এবং আপিলে কমিশন নিরপেক্ষতার পরিচয় দেবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে আমার এককভাবে কোনো বক্তব্য দেয়ার কথা নয়। এভাবে বলে তো আর লাভ হবে না। যারা আপিল করেছেন বা করছেন, শুনানিতে তারা তাদের তথ্যগুলো উপস্থাপন করবেন। এ বিষয়ে ব্যক্তিগত কোনো অভিমত আমার নাই। আমরা অবশ্যই ন্যায়বিচারপ্রত্যাশী।
ন্যায়বিচার নিয়ে তিনি বলেন, এটা আসলে আপেক্ষিক বিষয়। এটা একেকজনের কাছে একেকরকম। তবে সকল প্রার্থীর যুক্তিতর্ক শুনেই আপিলের সিদ্ধান্ত দেবে কমিশন।
রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে মাহবুব তালুকদার বলেন, আমিও পত্রিকায় দেখেছি। এ বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী আপিল করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।
তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ আছে কি নেই, যদি দুই পক্ষই (আওয়ামী ও বিএনপি) অভিযোগ করে, আমরা এখন কী বলব? নির্বাচনী পরিবেশ আছে কি নেই সে বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে দেখতে পারি। এই মুহূর্তে আমি কোনো কিছু বলার জন্য প্রস্তুত নই।
যাচাই বাছাই শেষে ২ ডিসেম্বর ৭৮৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন নিচ্ছে ইসি। ৫ ডিসেম্বর আপিল দায়েরের শেষ সময়। ৬-৮ ডিসেম্বর শুনানি করে আপিল নিষ্পত্তি করবে ইসি।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.