মহেশখালীতে বন কর্মকর্তার উপর হামলাকারী ভুমিদস্যু কালাইয়্যা গ্রেফতার

৫জনকে প্রধান আসামী করে থানায় মামলা

মোঃ নেজাম উদ্দিন,কক্সবাজার।
মহেশখালীতে দখলরত সংরক্ষিত বন রক্ষা করতে গিয়ে সশস্ত্র ভূমিদস্যূদের হামলায় ঘটনার গত শনিবার (১আগষ্ট) মহেশখালী কেরনতলী বিট কর্মকর্তা আহসানুল কবির বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় ৫জনকে আসামী বাকিদের অজ্ঞাত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মামলা নং১/১৭৪ । এ ঘটনায় মহেশখালী থানা গত শনিবার রাতে মামলার পর রবিবার পুলিশ কলিম উল্লাহ ওরফে কালাইয়া (৪৮) নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মহেশখালীর হোয়ানক লম্বায়াকাটা এলাকার আক্কেল আলীর ছেলে। ওই মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তারা হলেন,মহেশখালী হোয়নক এলাকার মোঃ কলিম উল্লাহ প্রকাশ কালাইয়্যার পুত্র মোঃ আনোয়ার হোসেন ( ৩৫) একই এলাকার আক্কেল আলীর পুত্র কলিম উল্লাহ প্রকাশ কালাইয়্যা( ৫০) মোঃ কলিম উল্লাহর পুত্র আক্তার হোসেন(২৫) মোঃ কলিম উল্লাহ পুত্র মোসেন (২০) মৃত বসো আলীর পুত্র মোঃ নাছির(৫৫) তাদেও প্রত্যেক এর বাগি মহেশখালী হোয়ানক এলাকায় বলে এজাহারে বলা হয়েছে\

এজাহারে বলা হয় সংরক্ষিত বনে অনধিকার প্রবেশ করেবন বিভাগের জমিতে চাষসহ অন্যান্য বেআইনি কাজ করে আসছিল বন বিাগ এতে বাধা প্রদান করলে আসামীগন ও অন্যান্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে সরকারী কাজে বাধা প্রদান করে ও সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদেও হত্যার উদ্যেশ্যে হামলা চালায়। এতে সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দীন (৩০), কেরুনতলী বিট কর্মকর্তা আহসানুল কবির (৪৫) এবং বন বিভাগের নৌকা চালক জিয়া রহমানসহ আরও কয়েকজন বন কর্মকর্মী। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বনদস্যুরা। বনবিভাগের অভিযানে যাওয়া সকলে আহত হলেও সহকারী রেজ্ঞ কর্মকর্তা মো ইউসুফ গুরুতর আহত হলে তাকে বর্তমানে লাইফ সার্পোটে রাখা হয়েছে । তার অবস্কা সঙ্কটাপন্ন্য বলে জানান বন বিভাগ কতৃপক্ষ।

উপকূলীয় বনবিভাগ সূত্র জানায়, কোরবানির ঈদের ব্যস্ততা নিয়ে উপকূলীয় বনবিভাগের মহেশখালী রেঞ্জের সংরক্ষিত বনভূমিতে স্থানীয় ভূমিদস্যু চক্র অবৈধভাবে পানের বরজ তৈরি করছিল। উপকূলীয় বনবিভাগের মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতানুল আলম চৌধুরী বলেন, মহেশখালীর সাধারণ বন দুরে থাক সংরক্ষিত বন রক্ষাও দুস্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধ দখলের খবর পেয়ে অভিযানে গেলেই ভূমিদস্যুদের আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে বনকর্মীদের। বৃহস্পতিবারও একইভাবে সহকারি রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ তিনজন কেরুনতলী বিটের করইবুনিয়া এলাকায় হামলার শিকার হয়েছেন। এতে সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তার অবস্থা সংকটাপন্ন।

বাঘখালী রেজ্ঞ কর্মকর্তা মোঃ আবু খায়ের আতা এলাহী জানান,জাতিরপিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ঝাউ গাছ লাগিয়ে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলকে রক্ষার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। জাতীর পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বন বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমুদ্রের চরে সমস্ত উপকূল জোরে তৈরি করছে সবুজ বেষ্টনী,এই সবুজ বেষ্টনী আমাদের কক্সবাজারকে কিভাবে রক্ষা করেছে তার সবচেয়ে বড় প্রমান ঘূর্নিঝড় মোড়া,আয়লা,সিডরের মত প্রাকৃতিক দূর্যোগ। আজ বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে একজন বনকর্মী বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন করতে গিয়ে কিছু স্বার্থান্ধ মানুষের প্ররোচনায় ভূমিদস্যূর হামলায় মৃত্যু শয্যায়।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ দিদারুল ফেরদৌস জানান, মামলা নথিভুক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিশেষ টহল দলের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমদাদুল হক জানিয়েছেন, গত ৩০ জুলাই মহেশখালী দ্বীপের কেরুনতলি লম্বাইয়াকাটা করইবুনিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমিতে দস্যুদের হামলার এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার রেঞ্জ কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দিন ওই এলাকায় গড়ে তোলা অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদ অভিযানে গেলে দখলবাজরা হামলা চালায়। এ হামলায় আরো কয়েকজন বনকর্মী আহত হন।

 

Comments are closed.