তুচ্ছ ঘটনাকে ভিন্নখাতে রুপদান, নিরঅপরাধীকে আসামী করে মামলা, আটক-১

অনুসন্ধানী প্রতিবেদকঃ

গত ০৮জুলাই’২০ইং তারিখে জালিয়াপালং সোনাইছড়ি বাদামতলীতে সুপারী ব্যবসায়ী সোলতান আহমদ ও আনছার উল্লাহ’র সাথে ভিজা সুপারির বকেয়া টাকা আদায়ের ব্যাপারে একজন আরেকজনের সাথে কথাকাটির এক পর্যায়ে সোলতান আহমদ রাজনৈতিক শক্তি দেখিয়ে আনছার উল্লাহকে ধাঁক্কা মারলে সংঘর্ষের সূত্রপাত শুরু হয়। এক পর্যায়ে দুইজনই মারামারি দিলে দোকানে বসারত লোকজন তাদের আলাদা করে দুইজনকে দুই দিকে সরিয়ে দিলে ঘটনার শেষ হয়ে যায়। কিন্তু সোলতান আহমদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও এলাকার স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে ফোনে বিষয়টি বিকৃত করে আনছার উল্লাহ’র বড় ভাই ছানা উল্লাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তাঁর সন্ত্রাস বাহিনী দিয়ে আমাকে লাঠি-পেঠা করে মৃত্যুর মুখে পতিত করেছে বলে উপস্থাপন করলে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ বিষয়টির ব্যাপারে খোঁজ-খবর না নিয়ে সোলতানের বক্তব্যের উপর নিজ নিজ ফেইজবুক আইডি তে মন্তব্য করলে বিষয়টি রাজনৈতিক রুপ ধারণ করে এবং জেলার কিছু সিনিয়র সাংবাদিকরাও নিজ নিজ ফেইজবুক আইডিতে মন্তব্য করলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নিদের্শ প্রদান করলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত না করে অসহায় ও নিরঅপরাধী এবং ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন চারজনসহ মোট ৫জনকে এজাহারভূক্ত এবং অজ্ঞাত নামা আরও ৪/৫জনকে আসামী করে গত ০৯জুলাই’২০২০ইং ২৩.২০ঘটিকায় মামলা নং ১৭/২০ রুজু করে।

ঘটনা সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদক কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ৫ম তলার সার্জারী বিভাগে ২১নং বেডে ভর্তিকালীন সোলতান আহমদের সাথে দেখা করলে তিনি জানান, আনছার উল্লাহ’র বড় ভাই ছানা উল্লাহ ঘটনা স্থলে দাঁড়িয়ে থেকে আনছার উল্লাহ, ছৈয়দ আলম, মোঃ সেলিম উদ্দিন প্রকাশ ভেলাইয়া কে দিয়ে আমাকে মারধর করে করেছে এবং স্থানীয় ফজল আহমদের ছেলে আকতার মিয়া আমাকে তাদের থেকে উদ্ধার করে গাড়ী তুলে দেয়। আমার কথা আপনাদের বিশ্বাস না হলে আপনারা আকতার মিয়ার সাথে আলাপ করলে বিস্তারিত জানতে পারবেন। কারণ আকতার মিয়া আমার কোন আত্বীয়ও নয়, তাদেরও আত্বীয় নয়। সবাই একই এলাকার অধিবাসী।

মামলার স্বাক্ষী সোনাইছড়ি বাদামতলীর অধিবাসী ফজল আহমদের ছেলে আকতার মিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করলে, আকতার মিয়া জানান, আমি এবং মোঃ সেলিম উদ্দিন প্রকাশ ভেলাইয়াসহ আজিজ উল্লাহ’র দোকানে বসে আছি। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করে আনছার উল্লাহ ও সুপারী ব্যবসায়ী সোলতান আহমদের সাথে কথা কাটাকাঠি দেখতে পায় কিন্তু কি বিষয়ে কথা কাটা-কাঠি তা জানার চেষ্টা করেনি কারণ সবাই একই এলাকার বাসিন্দা। তৎমধ্যেই দুইজনই একজন আরেকজনকে মারধার করতে দেখে তাদের আলাদা করে দিলে দুইজন দুদিকে চলে যায়। কিন্তু ঘটনা স্থলে মোঃ সেলিম উদ্দিন প্রকাশ ভেলাইয়া থাকলেও সে মারামারিতে ছিল না এবং ছানা উল্লাহ ও জাহেদুল ইসলাম কে ঘটনার আগে বা পরে ঘটনাস্থলে আমি দেখতে পায়নি। কারণ আমি ঘটনার আধা ঘন্টা আগে থেকে দোকানে বসা ছিলাম। যদি সোলতান আহমদ বলে থাকে মোঃ সেলিম উদ্দিন প্রকাশ ভেলাইয়া, ছানা উল্লাহ, জাহেদ ঘটনার সাথে সম্পৃত তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সেলিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কিন্তু ঘটনার সাথে সম্পৃত্ত ছিল না। ছানা উল্লাহ এবং জাহেদ কে আমি ঘটনাস্থলেও দেখেনি।

বাদামতলী এলাকার অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শী ও দোকানদারদের কাছে জানতে চাইলে বলেন, আনছার উল্লাহ ও সোলতান আহমদের সাথে মারামারি হয়েছে আমরা দেখেছি কিন্তু ছানা উল্লাহ ও জাহেদ কে বাদামতলীতেই আমরা দেখতে পায়নি। আকতার মিয়া ও সেলিম প্রকাশ ভেলাইয়া ঘটনার আগে থেকে দোকানে বসে ছিলেন দেখেছি কিন্তু সেলিম মারামারি করেছে আমরা দেখেনি। তবে আকতার মিয়া উভয়পক্ষকে আলাদা করে সরিয়ে দিয়েছে আমরা দেখেছি।

এ বিষয়ে আমাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ছানা উল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করলে ছানা উল্লাহ জানান, আমি জানি না কেন আমাকে আসামী করা হল?  আমি একজন সরকারী চাকরীজীবি হয়ে কেন এসবে যাব? আমি জালিয়াপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্য, আগামী প্রজম্মকে জীবন ধবংসকারী মাদকের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মাঝে মাঝে জালিয়াপালং উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে বিভিন্ন ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার আয়োজন করি যেখানে উখিয়া-টেকনাফ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান, উখিয়া উপজেলা প্রশাসন, উখিয়া থানার কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থাকেন। শিক্ষাকে আধুনিকায়নে রুপ দেয়ার জন্য উচ্চ বিদ্যালয়ে জমিদান করি এসব কর্মকার্ন্ডের কারণে আমার এলাকার কিছু রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আমাকে পছন্দ করছে না, তাই জালিয়াপালং সোনাইছড়িতে যেকোন ঘটনা হলে আমাকে ইয়াবা ও মানবপাচারকারীর গড়ফাদার বানিয়ে তাদের নিজস্ব ফেইসবুক, ফেক আইডি ও বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে বিভিন্ন মন্তব্য ও নিউজ করা হয়। কখনও কোন ঘটনার জন্য আমাকে ফোন করে আমার বক্তব্য নেয়নি, মন চাইলেই নিউজ বা মন্তব্য করে দেয় যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার জানামতে আমি কারও সাথে কখনও ঝগড়া বা মারামারি দিয়েছি এরকম কোন নজির এলাকাতে নেই। যা আমার মুখের ভাষা নয়। আপনারা এলাকাবাসীদের কাছ থেকে জানতে পারেন। পরিশেষে তাদের সেই আশা পূর্ণ করার জন্য আমাকে ৩নাম্বার আসামী করে মামলা করা হয়েছে। আপনারা দেখেন ৮ই জুলাই আমি সারাদিন কক্সবাজারস্থ গণপূর্ত অফিসে কর্মব্যস্থ ছিলাম। যা আমার অফিস থেকে আমাকে প্রত্যায়নপত্র প্রদান করেছে। আমি দীর্ঘদিন যাবৎ গণপূর্তের সরকারী কোয়াটারে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছি এবং এলাকায় সামাজিক ও পারিবারিক কোন প্রোগ্রামে ছাড়া এলাকায় যাওয়া হয় না। ঘটনার সময়তো দুরের কথা বিগত ঈদের পর থেকে এলাকায় যায়নি এরপরও আমি আসামী। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি উখিয়া থানার মাননীয় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোনে অবগত করেছিলাম। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নিজেকে শিক্ষা ও জীবন ধবংসী মাদক থেকে আগামীদিনের কর্ণধারদের জন্য কাজ করতে গিয়ে মামলা কেন, জীবন বিসর্জন দিতে আমার কোন সংকোচ নেই। আমি মাস্টাস ডিগ্রী অর্জনকারী একজন বাংলাদেশের প্রথমশ্রেণীর নাগরিক। সত্য একদিন প্রকাশ হবে, সেই আশায় আমি আছি।

মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামী জাহেদুল ইসলামের বাবা ইসহাক আহমদের সাথে দেখা করলে বলেন, আমার ছেলে এই ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেনা এবং জড়িত নয়। গত ৩ই এপ্রিল সুপারী ব্যবসায়ী সুলতান আহমদগং এর নেতৃত্বে সংঘটিত হওয়া ঘটনায় জালিয়াপালং ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি নুরুল আবছার নান্নুর মা ও আমার ভাই আলী হোছনের বউয়ের হত্যা কান্ডের মামলায় সার্বিক সহযোগিতা করায় আমার ছেলেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামী করা হয়েছে। আমার ভাই আলী হোছন বাদী হয়ে গত ০৫/০৩/২০ইং তারিখে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা নং- ০৩/২০২০রুজু করলে উক্ত মামলার এজাহারভূক্ত আসামী সুপারী ব্যবসায়ী সোলতান আহমদ, সোলতানের বড় ছেলে সাইফুদ্দিন, ছোট ছেলে শাহীন সরওয়ার। গত ০৯জুলাই’২০ইং উখিয়া থানায় মামলা লিপিবদ্ধ করে ঐদিন রাতে ফিল্ম স্টাইলে ন্যাক্করজনকভাবে সোলতানগং এর ২০/২৫জন ছেলেরা আমার ছেলেকে আমার বাড়ীর পাশ্বে থেকে ধরে অমানুষিকভাবে মারধর করে বিবস্ত্র অবস্থায় পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। আমার ছেলে জড়িত থাকলে অবশ্যই সর্তক বা পালিয়ে থাকতো। আমার ছেলে র্নিদোষ, আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্টু তদন্ত ও বিচার কামনা করছি। আমার ছেলে দোষী হলে অবশ্যই তাকে শাস্তি পেতে হবে।

ঘটনার বিষয়ে ১নং জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান- আমি ঘটনার খবর শুনে এলাকাবাসীদের কাছ থেকে জেনেছি, স্থানীয় অধিবাসী মৃত বজল আহমদের ছেলে আনছার উল্লাহর সাথে সোলতান আহমদের সাথে ঘটনায় হয়েছে, অন্য যে ৪জনকে আসামী করা হয়েছে তারা ঘটনার সাথে সম্পৃত্ত ছিলনা। মৃত বজল আহমদের বড় ছেলে ছানা উল্লাহ একজন সরকারী কর্মচারী। সে ঘটনায় উপস্থিত ছিল না। সে জড়িত থাকার কথা নয়। মোঃ সেলিম উদ্দিন প্রকাশ ভেলাইয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও সে মারামারিতে সম্পৃত্ত ছিলনা বলে আমাকে জানান । গ্রেফতার হওয়া ইসহাক আহমদের ছেলে জাহেদুল ইসলাম এ ঘটনার সাথে সম্পৃত্ত ছিল না। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে আসামী করা হয়েছে বলে শুনেছি। আমি আশা করবো সংশ্লিষ্ট প্রশাসন প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে নিরঅপরাধী লোকজনকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করবে না বলে আশা করি।

এলাকাবাসী উক্ত ঘটনার সুষ্টু তদন্ত পূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় এনে সোনাইছড়ি এলাকাকে কলস্কমুক্ত করবে। নিরহ ও ঘটনায় জডিত নয়, এমন লোকজনকে মামলা থেকে অব্যহতি দিয়ে সুষ্টু বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

Comments are closed.