দন্ত চিকিৎসক মীম ইকবাল সবার থেকে আলাদা, ফি তার ১৫ হাজার!

received_262968081783784.jpeg

শাহীন মাহমুদ রাসেল

অসময়ে ভারতের প্রখ্যাত শিল্পী নচিকেতার ‘ও ডাক্তার’ গানের বাস্তবতা দেখা মিলেছে পেশাগত চরিত্রে কক্সবাজারের এক দন্ত চিকৎকের। অথচ বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে মানবিক এক পরিবেশ সর্বত্র। বলতে গেলে বাঘে মহিষে এক ঘাটে জল পানেও এখন আপত্তি নেই কারো। একদিকে করোনার কারণে মানুষ প্রাণভয়ে তটস্থ, অন্যদিকে আর্থিক সংকটে পড়ায় বেশিরভাগ মানুষই এখন দিশেহারা।

ভয়াল এই পরিস্থিতিতেও রীতিমতো অস্বাভাবিক ভিজিট ও বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছে কক্সবাজার শহরের ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের দন্ত চিকিৎসক বিডিএস ডিগ্রীধারী ডা: মিম ইকবালের বিরোদ্ধে। তিনি ৩ হাজার টাকার একটি রুট ক্যানেল করাতে হাতিয়ে নিচ্ছেন দাঁত প্রতি ১৫ হাজার টাকা। অন্য দন্ত চিকিৎসক একটি এক্স-রে তে যেখানে ১৫০ টাকা নেন সেখানে তিনি আদায় করেন ৫০০ টাকা। এমবিবিএস চিকিৎসকে বিশ্বাস বেশী থাকায় দাঁতের ব্যাথায় কাতর রোগীরা এক প্রকার জিম্মি হয়ে মীম ইকবালের অনৈতিক দাবি মিটিয়ে সমস্যা সারাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

রামু উপজেলার ফঁতেখারকুলের বাসিন্দা জুবাইদা বেগম বলেন, কয়েকমাস আগে দাঁতের ব্যথায় কাতর হয়ে ডাক্তার মিম ইকবালের শরণাপন্ন হই। তিনি দাঁতের অবস্থা দেখে তখন রুট ক্যানেল ও ক্যাপ করার পরামর্শ দিয়ে দাঁত প্রতি ৫ হাজার টাকা দাবী করেন। সেদিন অর্থিক সংকটের কারণে কোন রকম ব্যথা কমিয়ে ফিরে আসি। গত ৩১ মে তার দাবীকৃত টাকা জোগাড় করে পুনরায় গেলে দুটি এক্স-রে ও তার ফি বাবদ আমার কাছ থেকে দেড় হাজার টাকা নেন। পরে দাঁত প্রতি শুধু মাত্র রুট ক্যানেলের জন্য ১৫ হাজার টাকা দাবী করেন। অনেক আকুতি মিনতি করেও টাকা কম না নেওয়ায় চিকিৎসা না করিয়ে বাধ্য হয়ে চলে এসেছি। তবে আমার সামনে অন্য এক রোগীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা দাবী করে ৫ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে রুট ক্যানেলের কাজ শুরু করেন। তার অরাজকতা দেখে হতবাক হয়ে গেছি এবং ভাবছি, সে ডাক্তার না কসাই।

বিভিন্ন ডেন্টাল চিকৎকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি দাঁত রুট ক্যানেল করতে দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া পাপ্লপেকটমি এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা, ব্যথামুক্ত দাঁত তোলা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, অস্থায়ী ফিলিং ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, স্থায়ী ফিলিং ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, লাইট কিউর ফিলিং ৮০০ টাকা, পোরসিলিন ক্যাপ, পোরসিলিং ব্রিজ, মোটলিক ব্রিজ, মেটলিক ক্যাপ দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা নেয়া হয়। কিন্তু সরকারি সঠিক নীতিমালা না থাকায় নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা দাবী করে এইসব মূল্যের চার পাঁচগুন বেশি টাকা আদায়ের রেকর্ড গড়েছেন মীম ইকবাল।

তবে বিডিএস ও বিসিএস ডিগ্রীধারী কক্সবাজার সদর হাসপালের দন্ত রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা: বশীর আহমেদ বলেন, উপরের উল্লেখিত মূল্য তালিকার ৫শ টাকা এদিক-ওদিক করে আমরা নি। কেউ যদি এইসব নিয়মের বাইরে গিয়ে কাউকে জিম্মি করে তার ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

ডেন্টাল এসোসিয়েশন কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা: আলম বলেন, রোগগ্রস্ত অবস্থায় মানুষ অসহায় দুর্বল থাকে। এই দুর্বল সময় চিকিৎসকই তার বড় অবলম্বন, বড় বন্ধু, অসহায়ের সহায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, বর্তমানে পত্র-পত্রিকায় চিকিৎসার ওপর যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে তা পড়ে গা শিউরে ওঠে। কেউ যদি রোগীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এই ধরনের অমানবিক অর্থ দাবী করে একজন চিকৎসক হিসেবে আমি লজ্জিত।

এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ডা: মিম ইকবাল বলেন, আমি সবার চেয়ে আলাদা তাই রুট ক্যানেলের জন্য ১৫ হাজার টাকা নিচ্ছি। ডাক্তার বশীর ও অন্যদের ব্যাপারে দৃষ্টি আর্কষন করা হলে তিনি বলেন, কে কত নেয় তা আমার দেখার বিষয় না। আপনারা চাইলে দেড় হাজার টাকায়ও বাহির থেকে করাতে পারবেন। তাছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে সবকিছুর দাম বাড়তি, আমি একটি মাস্ক ব্যবহার করি ১১শ টাকায়।

তবে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাক্তার মাহবুবুর রহমান বলেন, এটি মোটেও ঠিক নয়। এইসব ডাক্তার আর কিছু ক্লিনিকের বিরোদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। করোনা ভাইরাসের কারণে সেদিকে নজর দেওয়া যাচ্ছেনা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর এই সময়ে এই পরিমাণে ফি নেয়াটাও খুবই অমানবিক।