তোতকখালী ছ-য়া পাড়ার শত বছরের পুরানো পুকুর রক্ষার দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী

pmk-p.jpg

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

পিএমখালীর তোতকখালী ছ-য়াপাড়া মসজিদের পাশে ডেইজা পাড়া ভেতরে কয়েকশত বছরের ঐহিত্যবাহী পুকুরটি রক্ষার দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী। তাদের দাবী কয়েক শত বছর ধরে প্রায় ৩ কানির জমির উপরে থাকা এই পুকুর জনস্বার্থে ব্যবহার হয়ে আসছে। ব্যাক্তিমালিকানাধীন হলেও এই পুকুরে এলাকার হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয়তা মিটাচ্ছে প্রতিদিন, সরকারি নক্সা পরিবর্তন করে গায়ের জোরে অন্যের জমি দখল করে পুকুরটি ধংস না করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে এলাকাবাসী।

পিএমখালী তোতকখালী ছ-য়াপাড়া অসংখ্য সচেতন মানুষ জানিয়েছেন সম্প্রতী বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানতে পেরেছি এলাকার ঐহিত্যবাহী পুকুরটি উন্নয়নের নামে রাস্তা করে ধংস করার ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের জানা মতে এই পুকুরের বর্তমান ওয়ারিশ সূত্রে মালিক চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক উনার পরিবারের ভাই আইনজীবি এবং অন্যজন ব্যবসায়ি বোন ডাক্তার। উনারা এলাকা না থাকলেও উনাদের পূর্ব পুরুষের মত পুকুরটি এলাকা মানুষের কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে।

তবে বর্তমানে পুকুরের পাশে রাস্তার নামে জমি দখল এবং উন্নয়নের নামে পুকুরটি ধংস করার প্রকৃয়া চলছে। এলাকার মানুষের দাবী বর্তমানে ঠিকাদার যে ভাবে রাস্তা করতে চাইছে সেটা সর্ম্পুন ব্যাক্তি মালিকাধীন জমি আর সেখানে রাস্তা হলে অদূরভবিষ্যতে পুকুরটি ময়লা আবর্জনায় ভরে যাবে পুকুরটি আগেরমত পরিস্কারপরিচ্ছন্ন থাকবে না। অথচ পুকুরের দক্ষিণ পাশেই শত বছরের পুরুনো রাস্তা আছে সেটা পাকা করলেই বরং মানুষের চলাচল সুবিধা হবে। আর এমনিতেই কারো ব্যাক্তি মালিকাধীণ জমির উপর রাস্তা করা অন্যায়। তাছাড়া বর্তমানে সরকার জলাধার বা পুকুর জলাশয় রক্ষার জন্য কঠোর আইন করেছে সেই আইন তোয়াক্কা না করে এভাবে পুকুরটি নষ্ট করা ঠিক হবে না। তাই দ্রæত সেই রাস্তা নির্মাণ কাজ থেকে সরে এসে পুকুর রক্ষার দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।

কক্সবাজার স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে তোতকখালী ভোক্তভোগী জমির মালিক মোঃ জাহেদুল হক এর লিখিত অভিযোগ এবং সদর থানায় দেওয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা গেছে তোতকখালী মৌজার বি.এস ১১ নং খতিয়ানের বি.এস ২০০ ও ২০১ নং দাগের জমির প্রকৃত মালিক প্রফেসর জামালুল আকবর চৌধুরী, এডভোকেট আনিসুল হক চৌধুরী এবং বোন ডাঃ জুবায়দা খানম চৌধুরী রেজিস্ট্রিযুক্ত কবলা দলীল মূলে অন্যান্য জমির সাথে পুকুর এবং পুকুর পাড় দীর্ঘ দিন ধরে ভোগ দখলে আছে।

ভোক্তভূগী জানান আমরা খবর নিয়ে জেনেছি উপজেলা প্রকৌশল অফিস হতে ই টেন্ডার নোটিশ-২০/২০১৯-২০২০ তাঃ ১২/০১/২০২০ ইং টেন্ডার আইড নং ৪০৯১৮৯ মতে পিএমখালী ইউনিয়নের তোতকখালী এলাকার বউ বাজার হইতে ছ-ভাইয়ের পাড়া জামে মসজিদ বায়া সিকদার পাড়া পাকা সড়ক উন্নয়নের টেন্ডার আহবান করিলে সে মতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কার্যাদেশ পায়। কিন্তু কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদার স্থানীয় কতিপয় ভুমিদুস্য এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির মানুষের সাথে যোগসাজোশে সরকারি নক্সা পরিবর্তন করে আমাদের জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার পায়তারা করে আসছিল।

পরে হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছে উক্ত জমিতে কোন ধরনের পূর্ব নোটিশ বা সরকারি কোন ক্ষতিপূরন অথবা কোন কথাবার্তা ছাড়াই রাস্তার কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে ঠিকাদার। মূলত সরকারি নক্সা পরিবর্তন করে জমি দখল করাই হচ্ছে ভুমিদস্যুদের মূল উদ্দেশ্য। এছাড়া উক্ত জমি নিয়ে কক্সবাজার জজ আদালতে অপর-১২১৬/২০১৪ ইং একটি মামলাও চলমান আছে।

এ ব্যপারে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর জামালুল আকবর চৌধুরীবলেন,আমাদের পুকুরের দক্ষিণ পাশে বৃটিশ আমল থেকে ২০ ফুট রাস্তা আছে,আমাদের স্থাণীয় মেম্বার আগে বলেছিল সেই রাস্তা পাকা হবে কিন্তু হঠাৎ করে দেখি আমাদের নিজস্ব জমিতেই জোর করে রাস্তা করছে। মূলত মেম্বারের শশুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য সহজ রাস্তা এটি তাই জোর করে রাস্তার নামে পুকুর দখল করছে। তাই বিষয়েটি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশল অফিসে অভিযোগ করলে ১৮ মে সেখান থেকে তদন্ত করতে আসলে উপজেলা প্রকৌশলীদের সামনেই স্থাণীয় মেম্বার তাজ মহলের নেতৃত্বে আরো বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী ও ভুমিদস্যু আমাদের উপর হামলা করে যার প্রেক্ষিতে সদর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ব্যপারে পিএমখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার আবদুর রহিম জানান,সরকারি নক্সা পরিবর্তন করে ঠিকাদারের কাজ করার কোন সুযোগ নেই বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। তবুও আমি খোঁজ নিচ্ছি। এব্যপারে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন,সরকারি নক্সা পরিবর্তন করে কাজ করার কোন সুযোগ নেই মূলত সেখানে জমি নিয়ে কিছু বিরোধ আছে বলে জেনেছি।