কক্সবাজার লকডাউন : বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের তৎপরতা বৃদ্ধি

Ramu-Army-2.jpg

নীতিশ বড়ুয়া, রামু

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কক্সবাজার জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রামু সেনানিবাসের কঠোর তৎপরতায় লকডাউনের আওতায় থাকবে কক্সবাজার জেলার বাসিন্দারা।

বুধবার (৮ এপ্রিল) থেকে কক্সবাজার জেলায় আগমন ও বর্হিগমনে কঠোর ভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বুধবার থেকে কেউ কক্সবাজারে প্রবেশ করতে ও কক্সবাজার থেকে বাহির হতে পারবেন না। এ আদেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে জরুরি চিকিৎসা সেবা ও খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। স্থানীয় প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে বলে রামু সেনানিবাস সূত্র জানায়।

জানা গেছে, কক্সবাজার জেলায় ৫১৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫২ জন ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ৭৬ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে তাদের সবার রেজাল্ট নেগেটিভ। কক্সবাজার জেলায় প্রবেশ ও কক্সবাজার থেকে বের হওয়া ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রামু সেনানিবাসের সেনাটহল দল।

লকডাউন কক্সবাজার ঘোষনার সাথে সাথে কক্সবাজারের প্রধান প্রধান সব প্রবেশ পথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। কক্সবাজারের সব উপজেলায় সেনা টহল জোরদার করা হয়েছে। জরুরী সেবাদানকারী যানবাহন ব্যতীত সব ধরনের যানবাহনের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বুধবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ঘোষিত এ নির্দেশনা বলবত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের আর্থিক জরিমানা ও প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে রামু সেনানিবাস সূত্র।

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায়ও একই রকম পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেনাবাহিনী এবং পুলিশের অতিরিক্ত চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। ওই এলাকায় সীমিত করা হয়েছে সকল ধরনের যান চলাচল। অতি প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা ও ত্রাণ সংক্রান্ত গাড়ি ব্যতীত কোন ধরনের যানবাহন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করতে বা বের হতে দেয়া হচ্ছে না।

রামু সেনানিবাস সূত্র আরও জানিয়েছে, আরআরসি কমিশনের স্টিকার বা লিখিত অনুমোদন ব্যতীত দেশি, বিদেশি এনজিও বা ব্যক্তিরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ বা বাহির সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।