আজ মহান স্বাধীনতা দিবস

Independent-Day.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ  দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর শোষণ-বঞ্চনা পথ পেরিয়ে ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে বাঙালি জাতি স্বাধীকারের পথে পা বাড়িয়েছিলো। ২৫ মার্চের মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বাঙালি এই দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ স্বাধীন করার শপথ গ্রহণ করে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ঢাকা ছাড়া সারাদেশে ওড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। আজ মহান স্বাধীনতা দিবস এবং ৪৯তম জাতীয় দিবস। বাংলাদেশের মানুষের কাছে মুক্তির মন্ত্রে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার দিন আজ। বেদনাকে প্রতিজ্ঞায় পরিণত করে যুদ্ধের শপথ নেওয়ার দিন আজ। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

বিশ্বব্যাপী মহামারিতে রূপ নেওয়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাধীনতা দিবসের সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ স্বাধীনতা দিবসের সব কার্যক্রম বাতিল করেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে পুরো রাজধানী সেজেছে লাল-সবুজ আলোকসজ্জায়। সরকারি ভবন, পথ-ঘাটের সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো সাজিয়ে তোলা হয়েছে জাতীয় পতাকা ও উজ্জ্বল আলোয়। সারাদেশের মানুষ দিনটিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয় পেলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সেনারা গণহত্যা শুরু করে। তাদের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সব রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা করা। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যে কোনো মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মুহূর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণা ওয়ারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

তত্কালীন ইপিআরের ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি ছিল এরকম-‘ইহাই হয়তো আমাদের শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছে, যাহার যাহা কিছু আছে, তাহাই নিয়া রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও। শেখ মুজিবুর রহমান। ২৬ মার্চ, ১৯৭১।’

লেখক ও গবেষক অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, গণহত্যা শুরু হবার পরে প্রস্তুতি নিতে কিন্তু সময় লেগেছে। প্রাথমিক ধাক্কাটা কাটিয়ে ওঠার পরে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ হয়েছে। যেহেতু এটা জনযুদ্ধ, যিনি মুক্তিযুদ্ধে প্রশিক্ষণ নিয়ে করেছেন তিনিও যেমন যোদ্ধা, তেমনি এখানে থেকে যিনি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন তিনিও যোদ্ধা। তাজউদ্দিন আহমদ এর নেতৃত্বে যখন বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলো, তখন পুরো বিষয়টা একটা সংগঠিত রূপ পেলো।

একটি জাতির জন্য দিশেহারা সময়েও, নির্দেশ দিতে দেরি হয়নি তার নেতার।

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, বঙ্গবন্ধু কিন্তু অনেক আগেই এ বিষয়গুলি ভেবে রেখেছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষণা, কোথায় প্রবাসী সরকার গঠিত হবে। এসব কিছু কিছু নেতৃবৃন্দকে বলে রেখেছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সাড়ে সাত কোটি মানুষের নেতা তার জায়গা থেকে পালিয়ে যেতে পারেন না। তিনি তার জায়গাতেই থাকবেন। ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন, স্বাধীনতার জন্য ছিল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে এইটা যদি আন্তর্জাতিক মহল বুঝতে পারে, তাহলে আমাদের প্রতি তাদের সমর্থন কমে যাবে। বঙ্গবন্ধু কিন্তু নির্বাচন করে প্রমাণ করলেন তিনি কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে যাচ্ছেন না। বঙ্গবন্ধু’র লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিলো একটি স্বাধীন বাংলাদেশ।

চারদিকে থমথমে পরিবেশ। ২৫শে মার্চে নৃশংস গণহত্যার পর বাঙালি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তারা দেশকে স্বাধীন করবে। অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল এবং ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিল।