অর্ধশত বছরের ফোরকানিয়া ভেঙে রাতারাতি গাছগাছালি রোপন!

received_499085414075879.jpeg

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার 

আদালতের গঠিত উকিল কমিশনের সরেজমিন প্রতিবেদন দাখিলের আগেই প্রায় অর্ধশত বছরের একটি ফোরকানিয়া মাদরাসায় ভাঙচুর চালিয়ে নিশ্চিহ্ন করেছে দুর্বৃত্তরা। শুধু তাতে শেষ নয়, প্রতিষ্ঠানের চিহ্ন না রাখতে রাতারাতি রোপন করা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি। সরিয়ে ফেলা হয় ফোরকানিয়ার বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অবকাঠামো। চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা ভেঙে চোরমার করেছে স্থানীয় এমপির নাম ফলক। কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়া জুমছড়ি এলাকায় ২২ জানুয়ারী দিবাগত রাতে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বাদি হয়ে ২৩ জানুয়ারী রামু থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এতে আবু তাহের, আবদুল মান্নান, আবুল কালাম, আবুল কাসেম, পারভিন আক্তারসহ ৭/৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগটি গর্জনিয়া ফাঁড়ির এএসআই মনজুরকে তদন্তপূর্বক ববস্থা নিতে নির্দেশ দেন থানার ওসি মো. আবুল খায়ের। এর আগে মামলা নং-৯৮/২০১৯ শুনানী শেষে ২২ জানুয়ারী কক্সবাজার সহকারী জজ আদালত (রামু) এর বিচারক ৩ সদস্য বিশিষ্ট উকিল কমিশন গঠন করেন। কমিশনে রয়েছেন- এডভোকেট মোহাম্মদ নেজামুল হক, এডভোকেট সিরাজ উল্লাহ, এডভোকেট নুর আহমদ। সেই সঙ্গে নালিশী জমিতে সরেজমিন গিয়ে ফোরকানিয়া মাদরাসার অস্তিত্ব আছে কিনা? প্রতিবেদন দাখিল করতে আদালতের আদেশে বলা হয়। কমিশনের সদস্যরা এলাকায় যাওয়ার পূর্বেই ফোরকানিয়া মাদরাসা নিশ্চিহ্ন করে দখলবাজরা।
স্থানীয় সাবেক এমইউপি আবুল কাসেম জানিয়েছেন, তৎকালীন এমপি ও রাষ্ট্রদূত মরহুম ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী, পঞ্চায়েত কমিটির চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ্ব মোস্তাক আহমদ, সদস্য মাস্টার ফারুক আহমদ, জমিদাতা মরহুম বাঁচা মিয়া প্রকাশ সোলতান আহমদ, মরহুম ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হাকিমসহ একদল সমাজ সংস্কারক ১৯৭৪ সালে জুমছড়ি ফোরকানিয়া মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা এই প্রতিষ্ঠানটিতে নানাভাবে সহযোগিতা করে চালু রাখেন।
ফোরকানিয়া মাদরাসটি ঝরাজীর্ণ দশা থেকে উন্নয়নের উদ্যোগ নেন সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি। ইবতেদায়ী শ্রেনীতে উন্নীত করতে ২০১৬ সালে নতুন ভবনের ফলক উন্মোচন করা হয়। কিন্তু গত ২২ জানুয়ারী দিবাগত রাতে মাদরাসাটি গুড়িয়ে দেয় চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা। ভেঙে দেয়া হয় এমপির নামফলকটিও। আঘাত করা হয়েছে ধর্মীয় অনুভূতিতে। এতে সরকারী-বেসরকারী অন্তত ২লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তর্পূবক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছে স্থানীয়রা। এ প্রসঙ্গে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা জানান, ঘটনার বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয় নি। অবগতও করে নি। তবু খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।