যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে একের পর এক দরপত্রে অনিয়ম

jossor-haspital.jpg

ইয়ানূর রহমান : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটছে। গত দুই বছরে ৩টি ঘটনায় ২০ কোটি টাকার দরপত্র নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে আর একটির আর্থিক কেলেঙ্কারি অডিটে প্রকাশ পেয়েছে।

জানা গেছে, অবৈধভাবে তত্ত¡াবধায়কের চেয়ার দখলে রাখা ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনু ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এমএসআরের ৬ গ্রæপের দরপত্র আহবান করে। ওষুধপত্র, গজ ব্যান্ডেজ ও তুলা, লিলেন সামগ্রী, সার্জিক্যাল ও যন্ত্রপাতি, ক্যামিক্যাল রি এজেন্ট ও আসবাব পত্র কিচেন সামগ্রী ক্রয়ের সাড়ে তিন কোটি টাকার কাজের জন্য ৩১ টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১৫২ টি সিডিউল কিনেছিলেন। কিন্তু দরপত্র জমাদানের শেষ ২৮ নভেম্বর ২০১৭ সন্ত্রাসীদের বাঁধার কারণে অনেক ঠিকাদার দরপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হন।

দরপত্রে বাধা দেয়া ও অনিয়মের দাবিতে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মামুন এন্টারপ্রাইজ, আতিকুর রহমান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ নামের তিনটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তারা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৬ গ্রæপের কাজের জমাকৃত দরপত্র বাতিলপূর্বক পুণরায় দরপত্র আহবানের দাবি জানান।

অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহা পরিচালকের নির্দেশে খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. রওশন আনোয়ারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুইজন ছিলেন খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক ডা. রেজা সেকেন্দার ও হিসাবরক্ষক স্বপ্ররাজ খান। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দরপত্র বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে ওই অর্থবছরে হাসপাতাল ওষুধ সংকটে পড়ে। ২০১৮ সালের ৭ এপ্রিল হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক পদে যোগদান করেন ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু। দায়িত্বের কয়েক মাস পর ডা, লিটু সেই ৩ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করেন। এটা নিয়েও নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিলো। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দরপত্র আহবান করা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়। যে কারণে দরপত্র আহবান করা হয়নি। দরপত্র নিয়ে কি কারণে বার বার জটিলতা তৈরি হচ্ছে তা পরিষ্কার করছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, গত অর্থবছরে ৩ কোটি টাকার দরপত্রের পর তত্ত¡বধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটুর অজান্তে দুইজন কর্মকর্তা ওষুধ সামগ্রী ক্রয়ে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম করে। এমনকি ওষুধ ক্রয়ের জন্য আসা বিদেশি অনুদানের টাকা অন্যখাতে ঢুকানো হয়। যা গত মাসের অডিটে ধরা পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচিত হওয়ায় অবসরে যাওয়ার আগে নতুন দরপত্রের আহবান করেননি তত্ত¡াবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এমএসআর মালামাল ক্রয়ের জন্য ১৪ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ এসেছিলো। কিন্তু দরপত্র আহবান না করেই অবসরে যান তত্ত¡াবধায়ক। নতুন তত্ত¡াবধায়ক যোগদান করে দরপত্র আহবান করতে পারেন। স্টোরে যে পরিমাণে ওষুধ সামগ্রী রয়েছে তাতে নুতন দরপত্রের সময়ের আগ পর্যন্ত চলে যাবে। সংকট না হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এক প্রশ্নের উত্তরে ডা. আরিফ আহমেদ জানান, বিদেশি অনুদানের অর্থ এমএসআর মালামাল ক্রয়ের মধ্যে ঢুকে যাওয়া ও ঠিকাদার অর্থবছরের মেয়াদ শেষের আগে সব মাল সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে একটু সমস্যা হয়েছে। এই অনিয়ম অডিটে ধরা পড়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।