‘যতবারই হত্যা করো ইতিহাস হয়ে আবার জন্মাবো’: ছাত্রনেতা তাজ

SL-1.jpg

জে.জাহেদ, বিশেষ প্রতিনিধি:

তাজ উদ্দিন। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় চার নেতার অন্যতম নেতা তাজউদ্দীন আহমেদের নামানুসারে নাম।

পিতা- আলহাজ্ব আবদুল মুনাফ, মাতা- আলহাজ্ব শাহ্ জাহান বেগম। পারিবারিকভাবে তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা দীর্ঘদিন চকরিয়া পৌরসভা ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছেন।

বিএনপি-জামায়েত জোটের দুঃসময় দেখে শৈশবে বেড়ে উঠা। ২৮ অক্টোবর ২০০৬ উত্তাল রাজপথ। সক্রিয় রাজনীতির বয়স তখনো হয়নি। তারপরও ভালবাসার টানে আওয়ামী লীগের মিছিলে চলে যাওয়া আর বিএনপি জামায়েত জোটের ধাওয়া খাওয়া। এভাবেই শুরু তাঁর আওয়ামী লীগের প্রতি ভালবাসা।

উচ্চ মাধ্যমিক শেষে স্বপ্নের ঠিকানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত আইন বিভাগে পড়ার প্রবল ইচ্ছে ছিল। চান্স হয়নি এ বিভাগে। তাতে কি? জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার পদধূলি ধন্য বাংলা বিভাগে ভর্তি হয়ে রাজনীতিতে শুরু হয় সক্রিয় পদচারণা। শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলেই রাজনীতির হাতেখড়ি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদে ছিলেন।

রিপন-রোটন কমিটি

জহুরুল হল ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হয়ে রাজপথে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সুমন-রাহাত ভাইয়ের কমিটিতে সদস্য মনোনীত হন।

সোহাগ-নাজমুল কমিটি

রিফাত জামান ও জয় হলের সভাপতি সম্পাদক।
দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তাদের কমিটিতে সহসভাপতি মনোনীত হন।

সোহাগ-জাকির কমিটি

২০১৩-১৪ সালের বিএনপি জামাত জোটের ককটেল পেট্রোল বোমা উপেক্ষা করে রাজপথে সদা জাগ্রত ছিলেন। গণজাগরণ মঞ্চেও সরব উপস্থিতি ছিল। রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে ছিলেন সোচ্চার। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপসম্পাদক মনোনীত হন। কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় যখন রাজপথ পাহারা দেওয়ার লোকের অভাব ছিল তখন নির্ঘুম রাত কাটান। ততোদিনে ফেসবুকের রাজনীতি তুঙ্গে। হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসা পান তিনি।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সফর করাতে পরিচিতি আরো বহুগুণ বেড়ে যায়।

এরপর দরজায় কড়া নাড়ল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন। প্রার্থী হলেন সম্মেলনে। পত্রপত্রিকায় সম্ভাবনাময়ী প্রার্থী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তখনই একটি কুচক্রীমহল ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ‘জয় বাংলা’ নামে একটি অখ্যাত ভূয়া অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত। অনুমান নির্ভর তথ্যে তাঁর নামে ভূয়া একটি ফরম প্রচার করা হয়। তথ্য বিভ্রাট ও অসংগতিপূর্ণ হওয়ায় স্পষ্টত বুঝা যায় এর সাথে তাজ উদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা নেই।

শোভন-রাব্বানী কমিটি

নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকান্ড ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সক্রিয় কাজ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সম্পাদকের বাহবা পান তিনি। ষড়যন্ত্র থেমে নেই। রাব্বানী বললেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। তিনি তা ভূয়া প্রমাণ করেন।গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও তাঁর তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযোগ ভূয়া প্রমাণিত হয়। পরে তিনি ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হন। পদবঞ্চিতদের মনোবেদনা থেকে সৃষ্ট আন্দোলন ভূয়া তথ্যটি ব্যাপকহারে ভাইরাল করে জাতীয় দৈনিকে নিউজ করানো হয়।

এমনকি ষড়যন্ত্রকারীরা তার দীর্ঘ রাজনীতির পথচলার আন্দোলন সংগ্রামের তথ্যবহুল ফেসবুক আইডিটা রিপোর্ট করে ৩ জুলাই ২০১৯ তারিখ ডিজেবল করে ফেলে।

জয়-লেখক কমিটি (ভারপ্রাপ্ত)

বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার ব্যাপারে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে বিভিন্ন সময় তালিকা তৈরি করা হয়। কোন তালিকাতেই তাঁর নাম ছিল না।

তাজ উদ্দিন স্টুডেন্ট জার্নালকে বলেন, শোভন রাব্বানী ভাই ঘোষিত ১৭ জন ও পদশূন্য ঘোষিত ১৯ জনের তালিকা। জয় লেখক ভাইয়ের করা ২১ জনের তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল না। তারপরও হঠাৎ কোন কারণে কার অশুভ ইশারায় আমাকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে তা আমি বোধগম্য নই।

তাজ উদ্দিন আরো বলেন, রাজনৈতিক অনুর্বর এলাকায় জন্ম নেয়াটাই কি আমার অপরাধ?? আমার অঞ্চলে কোন জাতীয় নেতা নেই যে আমার জন্য একটু সুপারিশ করবে। মাথায় আশীর্বাদের হাত রাখার কাউকে পাইনি। প্রায় একযুগ রাজনীতি করে এমন কথা শুনলে মর্মাহত হই।আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে করে।

তিনি আরো বলেন, বুকে হাত রেখে বলছি ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে দু’পয়সা এখনো পকেটে ভরিনি। সর্বদা সততার পথে থেকে মা বাবা ও মুরব্বিদের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে পথ চলতে চাই।