কক্সবাজারে সরকারি “কক্সবাজার বিশ্ববিদ্যালয়” স্থাপন করা হোক

Sea.jpg

‘কক্সবাজার’ নামটি শুনতেই কেমন যেন একপ্রকার আমেজ,অনুভূতি ও স্নিগ্ধভাব জেগে ওঠে প্রত্যেক ভ্রমনপিপাসু ও তারুণ্যে সিক্ত প্রাণে।বাংলাদের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এটি।নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর প্রিয় শহরটি।বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী নামে খ্যাত এই সেই ‘কক্সবাজার’।বাংলাদেশে হয়ত খুব কম লোকই পাওয়া যাবে যারা ‘কক্সবাজার’ নামটি শোনেননি। এমনকি বিদেশবাড়িতেও এই নাম খুবই লোভণীয়-ঈর্ষণীয়।কারণ,এটি তার বুকে ধারন করে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম ‘সমুদ্র সৈকত’। যার দৈর্ঘ্য ১২০ কি.মি.।সৌন্দর্য্যের শেষ নেই আমাদের প্রিয় শহরটির।

কক্সবাজার বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা।৮ টি উপজেলা,৮ টি থানা,৭১টি ইউনিয়ন,৯৯২ টি গ্রাম,আয়তন-২৪৯১.৮৬ বর্গ কি.মি. ও ২২,৮৯,৯৯০ (২০১১ সমীক্ষা) জন নাগরিক নিয়েই এর সমুজ্জ্বল অস্তিত্ব।এর পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র মায়ানমারের নির্যাতিত ‘রোহিঙ্গা’ জনগোষ্ঠী যখন মাঝে মাঝে স্বদেশের জালিমদের নির্মম নির্যাতনে নির্বাসিত হয়ে এতে আশ্রয় চায় তখন এর সহানুভূতি ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত সত্যি অতুলণীয়।শিক্ষার প্রতিটি স্তরসহ সব সেক্টরে অবদান রেখে চলেছে এর অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীরা।নিজে সুশিক্ষিত হয়ে সারাদেশ এমনকি বিশ্বব্যাপী শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকজন।এটি নিশ্চয়ই জানাকথা যে,একটি জাতিকে উন্নত করতে হলে তাকে সুশিক্ষিত করার বিকল্প নেই।অতপর উচ্চশিক্ষিত করা আরও প্রয়োজন।।

তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী,সৃজনশীল প্রতিভাধর আলেম-উলামা নিয়ে ভরপুর এ সুন্দর জেলাটি। এর রয়েছে অসংখ্য সম্ভবানময়ী মানবসম্পদ। প্রতিটি গরীব-দুঃখী-মেহনতি মানুষের রয়েছে এর প্রতি অসীম ভালবাসা।এর রয়েছে দেশসেরা ব্যারিস্টার,ম্যাজিষ্ট্রেট,অ্যাডভোকেট,ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার,এমপি,কবি-সাহিত্যিক,লেখক-প্রাবন্ধিক,প্রতিষ্ঠিত সেরা ব্যবসায়ী,কৃষকসহ আরও কত স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব।আলহামদুলিল্লাহ।।

অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন দর্শনীয় স্পট রয়েছে এর।উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো-

১.সমুদ্র সৈকত
২.সেন্টমার্টিন দ্বীপ
৩.ইনানী সমুদ্র সৈকত
৪.মেরিন ড্রাইভ রোড
৫.সাবমেরিন ক্যাবল
৬.হিমছড়ী
৭.মহেশখালী
৮.কুতুবদিয়া দ্বীপ
৯.রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড
১০.সোনাদিয়া দ্বীপ
১১.দরিয়া নগর
১২.ছেঁড়া দ্বীপ
১৩.কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ
১৪.রামু সেনানিবাস
১৫.রামু বৌদ্ধ বিহার

রয়েছে হাজারো স্বনামধন্য মাদ্রাসা, স্কুল,কলেজ,পলিটেকনিক,কারিগরি,মেডিকেল কলেজসহ আরও নানান সৃজনশীল প্রত্যয়দীপ্ত প্রতিষ্ঠান।কিন্তু এতকিছু সত্ত্বেও এর নেই শুধু কোন ‘সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়’। এই সুন্দর আলোকিত জেলাটির হাজারো ফুল দেশের বিভিন্ন স্কুল,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সুপ্ত প্রতিভার সুবাস ছড়াচ্ছে সুখ্যাতির সাথে।অবশ্য এর প্রয়োজনও আছে।দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের আল্লাহ প্রদত্ত মেধা দিয়ে নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে হবে।

তবুও অকালে ঝরে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু হাজারো ফুল।কারণ,তাদের অনেকের পারিবারিক স্বচ্ছলতা চরমে। পড়াশুনার যথাযথ সেবা থেকে তারা বঞ্চিত।দূরে কোথাও চান্স হলেও ভর্তি, যাতায়াত,থাকা-খাওয়ার ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব।সুতরাং তাদের দীর্ঘ দিনের লালিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে যাচ্ছে।কারণ,বাংলাদেশে যে হারে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে সেই হারে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা তার সীট সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি।এটিও সরকার ও কর্তৃপক্ষের বিবেচনাযোগ্য বিষয়।

দেশের অধিকাংশ স্বনামধন্য বিভাগ ও জেলায় রয়েছে একাধিক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ বাংলাদেশের ‘পর্যটন নগরী’ কক্সবাজারের মত একটি স্বনামধন্য জেলাতে এখনও কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি।কোন কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর নয়।বরং কক্সবাজারের জন্য স্বতন্ত্র জায়গায় স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হওয়াই বেশি মানানসই ও যৌক্তিক।

যদি কক্সবাজারে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে এ জেলার অনেক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সুন্দর স্বপ্ন থেকে আর ঝরে পড়তে হবেনা।তারা তাদের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দিতে পারবে।আরও বেশি উন্নত হবে আমাদের প্রিয় ‘কক্সবাজার’। এ সুবাদে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থীর লালিত স্বপ্নও পূরণ করা সম্ভব হবে।আগমন ঘটবে অনেক অতিথির।মুখরিত হবে প্রিয় জেলাটি।

পরিশেষে প্রিয় কক্সবাজারের মাটি ও মানুষের প্রিয় নেতা, জননন্দিত জননেতা,বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, কক্সবাজারের গরীব-দুঃখী-মেহনতি মানুষের কাছের বন্ধু,কক্সবাজার-৩ আসনের সম্মানিত সাংসদ মহোদয় জনাব সাইমুম সরওয়ার কমল- এর প্রতি আকুল মিনতি থাকবে তিনি যেন কক্সবাজারের ক্ষুদে শিক্ষার্থী ও সুন্দর আগামীর সেরা সম্পদগুলোকে ‘মানবসম্পদ বানানোর’ কথা বিবেচনা করে কক্সবাজারবাসীর পক্ষ থেকে সংসদে এ বিষয়ে একটি বিল উত্থাপন করেন।

আর কক্সবাজারবাসীর প্রাণের দাবি কক্সবাজারে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জোর দাবি জানান এবং এর সুব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব নেন।আমরা আশাবাদী, আমাদের প্রিয় নেতা এমন একটি মহতি উদ্যোগে অত্যন্ত আন্তরিকতা দেখাতে সক্ষম হবেন।আমরা কক্সবাজারবাসী দোয়া করি।

নিবেদক –
কক্সবাজারবাসীর পক্ষে
মুনিরুল আলম মুনির।
শিক্ষার্থী- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
গর্জনিয়া,রামু,কক্সবাজার