অসময়ে বৃষ্টি কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভবনা!

FB_IMG_1573391256120.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায়ে সর্বাত্বক প্রস্তুতি নিয়েছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্টান। গতকাল সন্ধ্য পর্যন্ত কক্সবাজারের উপকূলে মানুষজন সর্বোচ্চ সতর্কঅবস্থায় রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এদিকে হঠাৎ করে ঘর্ণিঝড়ের প্রভাব জেলার মানুষের স্বাভাবিক কর্মকান্ডে ব্যাপক ছন্দপতন হয়েছে বলে জানা গেছে অন্যদিকে কৃষকের পাকাধান এবং সবজিতে ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছে কৃষকরা। এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ৯ নভেম্বর মধ্যরাতে ভারতের উড়িষ্যা এবং বাংলাদেশের খুলনা জেলা অতিক্রম করতে পারে। তাই কক্সবাজার সমদু বন্দরকে ৪ নং সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবহাওয়াবিদ মোঃ আবদুর রহমান বলেণ,অনেক অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে আমার নামে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব মুক্ত বা আশংকা মুক্ত কক্সবাজার। আমি এধরনের কোন বক্তব্য কাউকে দেয়নি। আর প্রকৃতির উপর কারো হাত নেই ১০ মিনিট পরে কি হতে পারে সেটা কেউ বলতে পারবেনা। আর ৯ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অবস্থান ছিল বাংলাদেশ থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণ পশ্চিমে। এটি আরো ঘনিভূত হয়ে সরে এসে উত্তর দক্ষিন উত্তরের দিকে ছুটে আসছে। এটি আজ ৯ নভেম্বর মধ্যরাত নাগাদ ভারতের উড়িষ্যা এবং বাংলাদেশের খুলনা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আর এই ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের তীব্রতা ঘন্টায় ৭৪ কিলোমিটার যা আরো শক্তিশালী হয়ে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। তবে এটা এই ঘুর্ণিঝড়ে কক্সবাজারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কম হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ৮ নভেম্বর থেকে কক্সবাজারের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। তবে ৯ নভেম্বর সকাল থেকে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যদিয়ে জানান দেয় ঘূর্নিঝড়ের অবস্থান। এদিকে সকাল থেকে বৃষ্টির কারনে জেলার সাধারণ মানুষের কর্মজীবনে এসেছে ছন্দপতন। বিশেষ করে শ্রমজীবি মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টির কারনে নির্ধারিত সময়ের আগেই মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ করা হয়েছে কক্সবাজারের জেলা ইজতেমা। এতে ইজতেমায় আসা সাধারণ মানুষ অনেকে নিরাপদে বাড়ি ফিরা নিয়ে কিছুটা আশংকা রয়ে গেছে বলে জানা অনেকে। তবে গতকাল সকালে মহেশখালী উপজেলা থেকে ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের সরকারি ভাবে বিআইডাব্লিউ ঘাট দিয়ে স্টিমান যোগে মহেশখালীতে পৌছে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এতে সর্বস্তরের মুসল্লিরা সন্তুষ প্রকাশ করেছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ভারী বৃষ্টির কারনে কৃষকের মাঠের ধান এবং শীতকালিন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।এ ব্যপারে পিএমখালী ইউনিয়নের ঘাটকুলিয়াপাড়ার আলী আকবর জানান,আমার প্রায় ১২ কানি জমিতে ধান অনেকটা পাকা রং ধরেছে এই বৃষ্টির কারনে ধানের মারাত্বক ক্ষতিহবে। কারন এই অবস্থায় ধান গাছের গোড়ায় পানি জমলে গাছ থাকবেনা ধান ঝরে যাবে মোট কথা আমরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবো।খুরুখকুল এলাকার লামাজিপাড়ার নাছির উদ্দিন বলেণ,আমার প্রায় ৬ কানি জমিতে শীত কালিন সবজি চাষ করেছি বৃষ্টির কারনে এখন সব সবজি নষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে।
এদিকে ঘর্নিঝড় মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। এ ব্যপারে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে ইতি মধ্যে প্রায় ৮০ টি সাইক্লোন সেল্টার সহ প্রায় ৬০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং উচ্চ বিদ্যালয় খুলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় এলাকাতে ব্যাপক প্রচার এবং মানুষকে নিরপতে সরিয়ে আনতে কাজ করছে প্রায় আড়াই হাজার কর্মী। এছাড়া পাহাড়ে বা সাগর পাড়ে থাকা মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে গাড়ী সহ সব কিছু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এবং মেডিকেল টিম সহ সব কিছু মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।