মানবতার ফেরিওয়ালা হলেন ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইসমাঈল মোঃনোমান

Anser.jpg

মোঃসাইদুজ্জামান সাঈদঃ

রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে বিরল রোগে আক্রান্ত আনছার উল্লাহ (১৯) কে চিকিৎসা সহায়তার জন্য নগদ ১০ হাজার টাকার অর্থ সহায়তা দিলেন মানবতার ফেরিওয়ালা উন্নয়নের প্রতীক কচ্ছপিয়া ইউপি থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু ইসমাঈল মোঃনোমান।

২০ অক্টোবর (রবিবার) সকালে ইউপি কার্যালয়ে চেয়ারম্যান নোমান অসহায় এ রোগীকে মানবিক সহায়তার জন্য এ সব টাকা প্রদান করেছেন। সহায়তা প্রাপ্ত আনছার উল্লাহ ওই ইউনিয়নের বালুবাসাপাড়া গ্রামের ছেলে। সুত্র জানায়,আনছার উল্লাহ জটিল ও কঠিন রোগে ভোগছিলেন। গত কয়েক মাস আগে তার শরীরে একটি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

শরীরের স্পর্শক স্থানে গুটি বসন্তের মত ওই রোগের আবির্ভাব। ক্রমশ রোগটির বিস্তৃতি ঘটে। রোগটি শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে মৌ-মাছির বাসার মত রুপান্তরিত হয়। ক্রমান্বয়ে অজ্ঞাত ওই রোগটি অসহায় যুবক আনছার উল্লাহ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। উরুর মাঝখানে এ রোগটি প্রথমে আংশিক দেখা গিয়েছিল। আস্তে আস্তে অধিক জায়গা গ্রাস করে ফেলেছে। দেখতে ফোস্কার মত। চামড়ার উপরিভাগে গুটি গুটি আকৃতির এ রোগ। কয়েকশত গুটির মত দানা তৈরী হয়ে রোগটি সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। আনছার উল্লাহ বিরল এ রোগ নিয়ে অত্যন্ত কঠিন যন্ত্রনা ভোগ করছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগটি অজ্ঞাত। এর নাম অজানা। তবে রোগটি রক্তচুষা। ছোঁয়াচে ও চত্রাকের মত এর বিস্তৃতি। এর চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। এর চুড়ান্ত নিস্পত্তি করতে হলে শরীরে অস্ত্রোপাচারের বিকল্প নেই। দেশে এর উপযুক্ত চিকিৎসা রয়েছে। চিকিৎসা ব্যয়বহুল।

এ দিকে আনছার উল্লাহ জানায়, আমি দিনমজুর। পিতা অনেক আগে মারা গেছেন। মাকে নিয়ে আমার সংসার। দিনমজুরী করে সংসার চালায়। রোগটি জটিল আকার ধারণ করায় শরীরে কাজ করার মত সক্ষমতা নেই।

চিকিৎসকরা বলছেন, প্রায় ১ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। চিকিৎসা খাতে ব্যয়িত অর্থ আমার নেই। দ্রুত সময়ে এ রোগের চিকিৎসা করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন। না হয় রোগ সমস্ত শরীর গ্রাস করবে। মাত্রাঅতিরিক্ত হলে এর চিকিৎসা দু:সাধ্য হবে। জীবন তখন অনিশ্চিত হবে। আমি এতিম ও অসহায় যুবক। এখনো বয়স বিশের নীচে।

এ সুন্দর পৃথিবীতে আমি বাঁচতে চাই। পৃথিবীর মায়া-মমতা আলো বাতাস ও হৃদ্ধতা ছেড়ে আমি অসম বয়সে পরবাসী হতে চায় না। ধনবান ও মানবিক সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ এগিয়ে আসলে চিকিৎসার মাধ্যমে আমি বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারি।

কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আমাকে তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন। তিনি যে উদারতা ও মহানুভবতা দেখিয়েছেন আমি ও পরিবার আজীবন কৃতজ্ঞ।

কচ্ছপিয়া যুবলীগে ৪নং ও ৭নং নেতৃবৃন্দ মিলে এলাকায় মানুষের কাজ থেকে অনেক মানবিক সহায়তা এ দিকে বিরল রোগে আক্রান্ত আনছার উল্লাহকে চিকিৎসা সহায়তার জন্য হাত বাড়িয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

তার জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন পর্যায় থেকে চিকিৎসা সহায়তার অনুদান আসা শুরু হয়েছে। চিকিৎসার জন্য কচ্ছপিয়া দরিদ্র ও অসহায় এ রোগীকে নগদ ২০ হাজার টাকার চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন। আনছার উল্লাহ জানায়, এলাকা মানুষের কাজ থেকে ২৫ হাজার টাকার অনুদান দিচ্ছেন।

ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের ওই নেতা ২০ হাজার টাকা বিরল রোগে আক্রান্ত আনছার উল্ললাহকে দিয়েছেন। অবশিষ্ট টাকা খুব শীঘ্রই ওই রোগীর কাছে পৌঁছবেন বলে আনছার উল্লাহ এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।

আনছার উল্লাহ জানায়, ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইসমাঈল মোঃনোমান হাজির পাড়াই সন্তান। তার পিতা মাষ্টার হাজী নাছির আহম্মদ প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও দেশের খ্যাতিমান শিক্ষক।

এ গর্বিত ধনের টাকা আমাকে জীবন বাঁচাতে সহায়তা করবে। মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য। গরীব মানুষ চিকিৎসা নিয়ে বেঁচে থাকে। এর দৃষ্টান্ত আবু ইসমাঈল মোঃনোমান চেয়ারম্যান এর স্থাপন করেছেন। আমি কৃতজ্ঞ। তাকে যেন আরও এ ভাবে দান করার তাওফিক দেয়া হয়। আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা।