দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করার অধিকার সেই বিএনপি’র নেই: তথ্যমন্ত্রী

hasan-inner20190325100828.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ  তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ বলেছেন, যারা দুর্নীতিতে দেশকে পরপর পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশকে লজ্জিত করেছিলেন, দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করার অধিকার সেই বিএনপি’র নেই। দুর্নীতিকে কঠোর হস্তে দমন করার জন্য সরকার কাজ করছে।

আজ চট্টগ্রামে রবি-দৃষ্টি বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে দেশে উন্নতি নয় বরং দুর্নীতির মহোৎসব চলছে বিএনপির এমন অভিযোগের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজে কালো টাকা সাদা করেছেন। তাদের অর্থমন্ত্রীও কালো টাকা সাদা করেছিলেন। তারেক রহমানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এফবিআই এসে বাংলাদেশে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন। যে কারণে তার ১০ বছর সাজা হয়েছে। আরাফাত রহমানের দুর্নীতি সিঙ্গাপুরে ধরা পড়েছে। তাদের পুরো রাজনৈতিক নেতৃত্ব যেখানে দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিলেন। সেটির সাথে বালিশ আর পর্দা দুর্নীতির কোন তুলনা হয়না। এটি হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তারা কিছু দুর্নীতির সাথে যুক্ত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।’

দৃষ্টির সভাপতি মাসুদ বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রবি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির সদস্যা সাফিয়া গাজী রহমান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য শামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, কর্ণফুলি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুদ্দিন তাবরীজ প্রমুখ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বালিশ কিংবা পর্দা দুর্নীতি ঘটেছে কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে। এখানে কোন রাজনৈতিক বা জনপ্রতিনিধির সংশ্লেষ নাই। এই দুটি দুর্নীতির ব্যাপারেই সরকার অত্যন্ত কঠোর। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন। বালিশ দুর্নীতির সাথে যারা যুক্ত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্দা দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তারা পাবে।’

সরকার কুটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হবার কারণে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হচ্ছেনা বলে বিএনপির অভিযোগ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ড. হাছান মাহ্মুদ বলেন, ‘সৌদি আরবে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আছে যারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশি পরিচয়ে সেখানে বসবাস করছে। সেখানে তারা সমস্ত অপকর্মের সাথে যুক্ত। তাদের জন্য বাঙালিদের বদনাম হচ্ছে সৌদিতে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন হাজার হাজার রোহিঙ্গা সৌদি আরব গিয়েছিল তখন বিএনপিই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘সরকার কূনৈতিকভাবেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের জন্য কাজ করছে। সহসাই এই সমস্যার সমাধান হবে। নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে রোহিঙ্গাদের প্রচেষ্টা আছে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর সাথে মিশে যাবার জন্য। তাদের পাসপোর্ট তৈরিসহ নানাভাবে যারা সহযোগিতা করছে তাদেরকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিতে অস্থিরতা চলছে এব্যাপারে সরকারের ভুমিকা কি হবে প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পার্টির সমস্যাটি তাদের দলের আভ্যন্তরীণ বিষয়। আমি আশা করবো জাতীয় পার্টি সাময়িক মতপার্থক্য ও সংকট সেটি কাটিয়ে উঠবে। সহসাই তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।’

এর আগে রবি-দৃষ্টি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সমাজে অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হচ্ছে বিতর্ক। বিতর্ক ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। যুক্তিতর্কের মাধ্যমেই সমাজ এগিয়ে যেতে পারে সে কারণে বিতর্কের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে বিতর্কের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বিতর্ক ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজ টিকতে পারে না।’

বিতার্কিকদের ড. হাছান মাহ্মুদ বলেন, ‘জীবন মানে সংগ্রাম। জীবন মানে যুদ্ধক্ষেত্র। যুদ্ধক্ষেত্রে যেমন প্রতিপক্ষের আক্রমণে সহযোদ্ধার মৃত্যুতে তুমি এক পলক তাকাতে পারবে কিন্তু থমকে যেতে পারবে না, যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয় অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য, জীবনযুদ্ধও সে রকম। জীবন চলার পথে মাথার উপর থেকে অনেক আচ্ছাদন হারিয়ে যাবে। তাতে থমকে গেলে চলবে না। জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে হলে স্বপ্ন দেখতে হবে। যার স্বপ্ন নেই তার স্বপ্ন পূরণের তাগাদাও নেই। সবাইকে স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছার জন্য জীবনটাকে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো নিয়ে লড়াই করতে হবে। পারার প্রতিজ্ঞা যার মাঝে থাকবে তার সাথে প্রচেষ্টা যুক্ত করবে তার অনেক স্বপ্ন পূরণ হবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জন্য দুটি স্বপ্নের কথা বলেছেন। একটি হচ্ছে ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করা। আরেকটি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি পরিপূর্ণ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা। আজ বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছে। ২০৪১ সাল নাগাদ আমরা যে উন্নত দেশ রচনার স্বপ্নের কথা বলেছি সেই স্বপ্নের ঠিকানায় তোমাদেরকেই এদেশকে নিয়ে যেতে হবে। তোমাদের স্বপ্ন আর প্রচেষ্টার ভেলায় চড়ে বাংলাদেশ ২০৪১ সাল নাগাদ স্বপ্নের ঠিকানাকেও অতিক্রম করবে।’