রামুর সন্ত্রাসী জনপদ মিটাছড়িতে ১০ পয়েন্টে ইউনুচ ভুট্টো বাহিনীর পাহাড় কর্তন

সরকারী কর্মকর্তার উপর হামলা।।এজাহার দায়ের।
Mitachari..jpg

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রামুর উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়িতে পাহাড়কাটার স্থান পরিদর্শন করতে গিয়ে পাহাড় খেকোদের হাতে মারধরে শিকার হয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার শহীদুল হাসান। এতে তিনি জখম হয়ে আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে বলীপাড়া এলাকা এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় থানায় মামলার এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

হামলার শিকার সার্ভেয়ার শহীদুল হাসান জানান, দক্ষিণ মিঠাছড়ির বলীপাড়ায় পাহাড় কাটার খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনারের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান তিনি। পরিদর্শনে তিনি সরাসরি পাহাড়কাটার দৃশ্য দেখতে পান। এসময় তিনি পাহাড় না কাটতে পাহাড় কর্তনকারীদের নিষেধ করেন একই সাথে পাহাড় কাটার ছবি তুলেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পাহাড়কর্তনকারীরা তার উপর হামলে পরে। রক্ষা পেতে তিনি দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করেন। তবে তাকে পাকড়াও করে ধরে লাঠি দিয়ে নির্দয়ভাবে পেটায় ওই পাহাড়কর্তনকারীরা। এক পর্যায়ে তাকে ধারালো দা দিয়ে কোপাতে উদ্যত হন হামলকারীরা। তবে ছবি উঠানো মোবাইলটি পাহাড় কর্তনকারীদের দিয়ে দিলে প্রাণে রক্ষা পান তিনি।

তিনি জানান, দক্ষিণ মিঠাছড়ির পানেরছড়া বলিপাড়ার মোঃ আলমের পুত্র মোঃ শহীদুল্লাহ, পানেরছড়া পূর্বকূল পাড়ার আবদুল গফুরের পুত্র ফরিদ আলম, সিকদার পাড়ার মৃত আবু বক্করে পুত্র সরওয়ার আলম (চেয়ারম্যান ভুট্টোর ছোটভাই) ও নূরুল আজিম (চেয়ারম্যান ভুট্টোর ছোটভাই), হারুন সওদাগরের পুত্র মুফিজুর রহমান (চেয়ারম্যান ভুট্টোর চাচাতো ভাই), পূর্বপানের ছড়ার নূর আহামদের পুত্র জসিম উদ্দীন, মোঃ হোছেনের পুত্র জসিম উদ্দীন, পশ্চিম পানেরছড়ার নবী হোছেনের পুত্র নাছির উদ্দীন, আবদুস সালামের পুত্র মোঃ মিজান এবং বলীপাড়ার মৃত আবদুল মজিদের পুত্র মোঃ আলমসহ ১২-১৫ জনের একদল পাহাড়কর্তনকারী সার্ভেয়ার শহীদুল আলমের উপর হামলা চালায়।

অভিযোগ মতে, এসব পাহাড়কর্তনকারীরা সবাই দক্ষিণ মিঠাছড়ির চেয়ারম্যান ইউনুছ ভুটোর বাহিনীর লোক। তারা দীর্ঘদিন ধরে পুরো দক্ষিণ মিঠাছড়িজুড়ে ভয়ংকরভাবে পাহাড় কেটে সাবাড় করছে। চেয়ারম্যান ভুট্টো তাদেরকে আশ্রয় দেয় এবং তিনি এভাবে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং পাহাড়কাটা জায়গাগুলো জবর দখল করছেন।

এ প্রসঙ্গে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা বলেন, ‘পাহাড়খেকোরা কত বড় বেপরোয়া হলে একজন সরকারি কর্মকর্তার উপর হামলা করতে পারে তা সহজে অনুমেয়। তবে সেই দিন শেষ। এখন থেকে একটি পাহাড়ও কাটতে দেয়া হবে না। একই সাথে যারা সার্ভেয়ার শহীদুলের উপর হামলা করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবেই।