মানবাধিকার উন্নয়ন, বঞ্চিত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে রিসডা-বাংলাদেশ

RISDA.jpg

উখিয়া উপজেলা (কক্সবাজার) প্রতিবেদক।

রিসডা-বাংলাদেশ একটি জাতীয় পর্যায়ের বে-সরকারী সংস্থা বা এনজিও । মানবাধিকার উন্নয়ন, বঞ্চিত, প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকায় জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এটি ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

ইন্সাপোসিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি (আইডিসিওল), শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ ব্যাংক, মহিলা বিষয়ক বিভাগ, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন, কেয়ার ফাউন্ডেশন, তুর্কিয় ডায়ানেট  ফাউন্ডেশন, স্প্রিহ ফাউন্ডেশন এবং পৃথক দাতা সমূহের সহযোগিতায় রিসডা-বাংলাদেশ স্বল্প ব্যয় অথবা বিনামূল্যে বঞ্চিত, প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার জনগোষ্ঠীর সামাজিক উন্নয়ন ও সেবা প্রদান,নাগরিক সেবা: স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি সরবরাহ ও পয়ঃ নিষ্কাষসহ প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করে আসছে।

নাফ নদীর ওপাড়ে দেখা যায় মিয়ানমারের পাহাড়। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধুষ্বিত রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান শুরু হলে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলের সৈকতে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা আরো প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গাসহ মোট সাড়ে ১১লাখ বাড়তি মানুষ এখন উপজেলার দুটি শরনার্থী শিবিরগুলোতে ঝুকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ শিশু। তারা বিশ্ববাসীকে জানিয়েছিলো রাখাইনে বিভৎস আক্রমণের কথা। আত্মীয়স্বজন, ঘরবাড়ি ও প্রতিবেশীদের হারানোর কথা।

সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকে রিসডা বাংলাদেশ বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। জরুরী খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, বস্তু বিতরণ, সোলার স্ট্রেট লাইট স্থাপন, সোলার হোম সিস্টেম, সোলার লাইট বিতরণ, অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও, শরনার্থী ক্যাম্পেগুলোতে উল্লেখিত সেবা সমূহ প্রদানের লক্ষ্যে পরিচালিত শাখা অফিস (উখিয়া উপজেলাধীন জালিয়াপালং) প্রধান সুদক্ষ পিসি জনাব, আবদুল গফফার সাহেবের অক্লান্ত পরিশ্রমে তুর্কি ডায়ানেট ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ৫ নং ও ১৭ নং শরনার্থী ক্যাম্পে ৪৫০টি সেলটার হাইজিন কেক বিতরণ, সামাজিক বনায়ন প্রভৃতি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে রিসডা বাংলাদেশ। পিকেউপি এর সহায়তায় একটি মোবাইল হেলথ ক্লিনিক পরিচালনা করা হচ্ছে, এবং আইএমও এর সহযোগিতায় টেকনাফের শামলাপুর শরনার্থী ক্যাম্পে ১০০০টি সেলটার নির্মাণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য বিভিন্ন ক্যাম্পে ইউনিসেফ এর সহায়তায় ১৫০ টি শিক্ষা কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে যার মাধ্যমে ১২০০০ রোহিঙ্গা শিশু শিক্ষার আলোয় আলোকিত হচ্ছে।

গভীর নলকূপ ও পাম্পের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং সেনীটারি লেট্রিন স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের বিশুদ্ধ খাবার পানি, রান্না ও গৃহস্থালি কাজ এবং গোসলের জন্য পানি সরবরাহ নিশ্চিত হচ্ছে।

তুর্কি ডায়ানেট ফাউন্ডেশন এর সহায়তায় রিসডা বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্য একটি সাবান তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করছে।

রোহিঙ্গা নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে গড়ে তুলা হয়েছে সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং প্রশিক্ষিতদের মধ্যে সরবরাহ করা সেলাই মেশিন।

বর্তমানে ১২০ টি শাখা অফিসের মাধ্যমে ৩০ টি জেলায় প্রকল্প এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা সহ প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।