নিরাপত্তা নিয়ে স্কুলে যেতে শিক্ষা সচিবের কাছে কালার পোল স্কুলের প্রধান শিক্ষকের আবেদন

শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে স্কুল সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করলেন কালার স্কুলের প্রধান শিক্ষক
kalarpoole.jpg

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম কর্ণফুলী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালারপোল হাজী মো. ওমরা মিয়া চৌধুরী বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও নানা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আবদুর রহিম চৌধুরী।


এর প্রেক্ষিতে ষড়যন্ত্র থেকে কালারপোল স্কুলকে রক্ষা করতে ১৪ জুলাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের কেন্দ্রীয় পত্র গ্রহণ ও অভিযোগ শাখা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম, দুর্নীতি, সুবিধা আদায় ও বিদ্যালয়ের জমিজামা ভোগ দখল সহ স্কুলের যাবতীয় দলিল তার দখলে রেখেছে বলে আরো একাধিক অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে সভাপতিকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, সভাপতির এসব অন্যায় আবদারে সায় না দিলে স্কুলের অন্যান্য ফাঁকিবাজ শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে সভাপতি গ্রæপিং করতে শুরু করেন। স্কুল থেকে অনৈতিক স্বার্থ আদায়ে সব সময় তৎপর থাকেন। শিক্ষকদের নিয়ে ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি তিনি এলাকার একটি দুষ্ট চক্রের সাথে হাত মেলান। প্রাক্তন শিক্ষানুরাগী সদস্য স্থানীয় চেয়ারম্যান সহ ৫ জন লোক দিয়ে স্কুলে ক্যান্টিন নির্মাণ করেন।
ঠিকমত ক্যান্টিনের ভাড়া পরিশোধ না করে সভাপতি নিজের নামে স্কুল মাদ্রাসা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এ নিয়ে অতীতে অতিরিক্ত শিক্ষা সচিব, কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর নানা অভিযোগ দেওয়া ও প্রতিবেদন প্রদানে তদন্ত করা হয়। পরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যাওয়া তদন্ত রিপোর্ট গুলো পরিচালনা পরিষদ পর্যালোচনা করে রেজুলেশনে সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে একমত পোষণ করে স্বাক্ষর করেন।
একটি স্বার্থন্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে হুমকি ও মানববন্ধন করা হবে অভিযোগে আশঙ্কার কথা জানান প্রধান শিক্ষক।
লিখিত অভিযোগে প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, তিনি ৬ মাসের ছুটিতে যেতে রাজি ছিলেন না বরং নিয়ম না থাকা সত্বেও সভাপতি নিজেই তাকে ছুটিতে যাবার প্রস্তাব করেন। কেননা স্কুলে স্থাপিত শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব কার্যকর ভাবে চালু করার লক্ষ্যে প্রধান শিক্ষক’কে কম্পিউটার দক্ষতা অর্জনে ছুটি দেন। ফলে আগামী ২০২০ সালের ৩১শে জানুয়ারী পর্যন্ত তাকে স্ব-বেতনে ছুটিতে বহাল রাখে পরিচালনা কমিটি।
এছাড়াও অভিযোগে তিনি আরো জানান, স্থানীয় কিছু কুচক্রীমহল স্কুলের সহায় সম্পদ ভোগ দখলের লোভে সব সময় তৎপর। নির্দোষ হওয়া সত্বেও থাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। সভাপতি’কে তিনি অনিয়মতান্ত্রিক ছুটি কাটাতে চান না এবং নিরাপত্তা নিতে থানায় অভিযোগ করার কথা জানালেও তিনি রাজি হচ্ছেনা বলে মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্ত হন। এমনকি সভাপতি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তৈরিকৃত রেজুলেশনে স্বাক্ষর দিতে বাকিদের বাধ্য করছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যে সব অভিযোগ করা হয়েছে তা অবগত করে জানতে চাইলে কালারপোল হাজী মো. ওমরা মিয়া চৌধুরী বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমিও চাই একটা তদন্ত হোক। কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা সেটা তদন্ত করা হলে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে। কেউ যখন মামলা করে তখন সে অভিযোগে সব সত্য বলে দাবি করে। কিন্তু ঘটনা তদন্তে পরে সত্য-মিথ্যা সব বের হয়ে আসে।’
এ প্রসঙ্গে কালারপোল হাজী মো. ওমরা মিয়া চৌধুরী বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আবদুর রহিম চৌধুরী বলেন, ‘কারো মুখের কথায় নয়, আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ হবে কাগজে কলমে আর তদন্তে। অতিসত্বর নিরাপত্তা নিয়ে যেন আমি স্কুলে যেতে পারি তার জন্য মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করি শিক্ষা মন্ত্রণালয় তার তড়িৎ ব্যবস্থা নেবেন।’
অপরদিকে স্থানীয় জনসাধারণ ও অভিভাবকেরা কালারপোল স্কুলে শিক্ষার সুস্থ্য পরিবেশ ফিরে পেতে চায়। কোন কারণে যেন ক্লাস বর্জনের মতো ঘটনা না ঘটে।