শেষপর্যন্ত পদত্যাগই করলেন রাহুল গান্ধী

Rahul.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ বহু চেষ্টা করেও রাহুল গান্ধীর সিদ্ধান্ত বদলাতে ব্যর্থ হলো কংগ্রেস, পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বহুদিনের গুঞ্জনকে সত্যি প্রমাণ করলেন। লোকসভা নির্বাচনে হারের পর কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি পদে না থাকার সিদ্ধান্তেই অনড় রাহুল। যত দ্রুত সম্ভব কংগ্রেসের নতুন সভাপতি নির্বাচনের কথা বলেন রাহুল। সেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যেও থাকছেন না তিনি, সাফ জানিয়েছেন সনিয়া পুত্র।

রাহুলের পিতা, দাদী, পিতামহ সবাই ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বুধবার (৩ জুলাই) টুইটারে পোস্টকৃত রাহুলের পদত্যাগপত্রে তিনি কংগ্রেসের পরাজয়ের দায়ভার নিজ কাঁধে নিয়ে নেন। চিঠিতে তিনি বলেন, ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতি ‘ঘৃণা বা রাগ’ নেই। তবে, ‘আমার দেহের প্রতিটি জীবন্ত কোষ স্বাভাবিকভাবেই তাদের ভারত ধারণাকে প্রতিরোধ করে’। যে ধারণাকে তিনি বিভক্ত ও ঘৃণার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত বলে অভিহিত করেন।

তিনি নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুদ্ধ করিনি … আমরা ভারতের সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি। আর দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব দলের নতুন সভাপতি নির্বাচন করা হোক,আমি এই প্রক্রিয়ার মধ্যেও থাকছি না। আমি ইতোমধ্যেই আমার পদত্যাগপত্র দিয়ে দিয়েছি এবং দলের সর্বভারতীয় সভাপতি পদের দায়িত্ব থেকে সরে গেছি।’

যতই কংগ্রেসের নেতারা তাকে বারবার নিজের পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে নিতে অনুরোধ করুন না কেন তাতে তিনি সাড়া দিতে অপারগ, নিজের সিদ্ধান্ত বদলানো সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটিকে বলেন, খুব তাড়াতাড়ি একটি বৈঠক ডাকা হোক, যাতে দলের নতুন সভাপতি কে হবেন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। নতুন নাম নির্বাচন করে তা জানিয়ে দেয়ার জন্যেও দলকে পরামর্শ দেন রাহুল।

ভারতের সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনে গোটা দেশেই অত্যন্ত খারাপ ফল করে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীর নিজের আসন, কংগ্রেসের গড় বলে পরিচিত আমেথিতে প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী স্মৃতি ইরানির কাছে হেরে যান। যদিও কেরালার ওয়ানাড কেন্দ্র থেকে জিতে কিছুটা হলেও মুখ রক্ষা হয় সনিয়া পুত্রের। এরপরেই রাহুল অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন কংগ্রেসের এই হারের দায় কোনো নেতাই নিতে আগ্রহী নন।

তাই তিনিই কংগ্রেসের খারাপ ফলের দায় নিয়ে গত ২৫ মে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন। তার আগে ২০ জুন এনডিটিভিকেও এক সাক্ষাৎকারে রাহুল জানান, যে কোনো বিষয়েই একটি দায়বদ্ধতা থাকে। তবে রাহুল গান্ধির পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পরেই দেশজুড়ে বিভিন্ন কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে পদত্যাগ করার হিড়িক পড়ে যায়। তবে, কোনো কিছুই টলাতে পারে নি রাহুলকে। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি পদে আর না থাকার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তিনি।