ইরান আগুন নিয়ে খেলছে: ট্রাম্প

Tramp-6.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ইরান আগুন নিয়ে খেলছে।

২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কথা রয়েছে ইরান তা থেকে বেশি করার কথা ঘোষণা দেয়ার পর সোমবার ট্রাম্প এমন হুঁশিয়ারি দিলেন।

ইরানের এমন পদক্ষেপে দেশটির বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছে ইসরাইল।

এদিকে রাশিয়া দুঃখ প্রকাশ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে তেহরান বাধ্য হয়ে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে চুক্তিটি ভেঙ্গে যাওয়ার দিকেই যাচ্ছে।

ব্রিটেন এ যুগান্তকারী চুক্তি থেকে দূরে সরে যাওয়ার আর কোনো পদক্ষেপ না নিতে তেহরানের প্রতি আহবান জানিয়েছে। এদিকে জাতিসংঘ এ চুক্তির আওতায় করা ইরানের প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে তাদেরকে অটল থাকতে বলেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ তাদের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএকে বলেন, মে মাসে ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ৩শ’ কিলোগ্রামের সীমা অতিক্রম করেছে। ২০১৫ সালে করা পারমাণবিক চুক্তি অনুযায়ী তেহরান সর্বোচ্চ ৩শ’ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে।

ইরানের ব্যাপারে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তারা জানে তারা কি করছে। তারা জানে তারা কি নিয়ে খেলছে। আমি মনে করি তারা আগুন নিয়ে খেলছে।

তেহরানের প্রতি তার কোনো বার্তা আছে কী না, উত্তরে তিনি বলেন, ইরানের প্রতি কোনো বার্তা নেই। যাই ঘটুক না কেন, ইরানের প্রতি কোনো বার্তা নয়।

যুক্তরাষ্ট্র গত বছর এ পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস ইরানের ঘোষণা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার এক মুখপাত্র বলেন, কোনো বিচ্যুতি ঘটলে পরমাণু চুক্তির আওতায় থেকেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি ইরানের উদ্দেশে অর্থনৈতিক সুবিধা বজায় রাখতে চুক্তি মেনে চলার পরামর্শ দেন।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে বাকি দেশগুলোও ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক খর্ব করতে বাধ্য হচ্ছে। ইরানের পেট্রোলিয়াম রফতানিও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। চরম অর্থনৈতিক দুর্দশার ফলে সে দেশের নেতৃত্ব মরিয়া হয়ে আন্তর্জাতিক সমাজের উপর পালটা চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।

তেহরান মনে করিয়ে দিচ্ছে, যে পরমাণু চুক্তির আওতায় সে দেশের অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করার যে শর্ত রয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে তা সম্ভব হচ্ছে না। তাই একতরফাভাবে চুক্তি মেনে চলা ইরানের পক্ষেও সম্ভব নয়। সূত্র: এএফপি ও ডয়চে ভেলে