কেমন এই চীনা ট্রেন যা চলবে বিমানের চেয়েও দ্রুত!

উন্মোচিত হলো ৬০০ কিমি/ঘণ্টা গতিবেগের ট্রেন
Train..jpg

মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে চীনা ম্যাগলেভ ট্রেনের। ছবি : সংগৃহীত

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ গত ৪-৫ দশকে বিশ্ব সবচেয়ে উন্নতি করা জাতিটির নাম চীনা। গেল শতকেও যারা ক্ষুদ্র জাপানের শাসনে জর্জরিত ছিল তারাই মাত্র ৫০ বছরের ব্যবধানে আকাশচুম্বী উন্নতি করে। বিশ্ব প্রযুক্তিতে চীন এক অবিচ্ছেদ্য নাম, রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেশটির উন্নয়ন ঈর্ষণীয়। এবার ৬০০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে চলার ডিজাইন নিয়ে একটি নতুন চৌম্বকীয় লিভিয়েশন (ম্যাগলেভ) ট্রেনের প্রোটোটাইপ উন্মোচন করেছে দেশটি।

ম্যাগলেভ প্রযুক্তি শক্তিশালী ইলেকট্রোম্যাগনেটস ব্যবহার করে যা বাতাসের কুশনকে অগ্রসর করে ট্রেনটিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। চাকার এবং রেলগুলোর মধ্যে ঘর্ষণ সমস্যা ছাড়া, ম্যাগলেভ ট্রেনগুলো প্রচলিত লোকোমোটিভগুলোর তুলনায় আরও গতি, কম শব্দ এবং কম্পনে আরও গতিতে ছুটতে সক্ষম।

চীনে ইতোমধ্যেই বিশ্বের দ্রুততম বাণিজ্যিক ম্যাগলেভ সেবা চালু রয়েছে বলে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের এই প্রতিবেদনে জানানো হয়। ২০০৩ সাল থেকে সাংহাইয়ের পুডং বিমানবন্দর এবং শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি সাংহাই ম্যাগলেভ পরিচালিত হচ্ছে যা সর্বোচ্চ ৪৩১ কিলোমিটার/ঘণ্টা সর্বোচ্চ গতিতে চলতে পারে। ট্রেনটি ৩০ কিলোমিটার পরপর যাত্রীদের বহন করে।

২০১৭ সালে, ফুক্সিং বুলেট ট্রেনগুলো ১৩০০ কিলোমিটারের দূরত্বে বেইজিং-সাংহাই লাইনে চলাচল করা শুরু করে, যা উল্লেখযোগ্যভাবেই ভ্রমণের সময় হ্রাস করেছিল। এই ট্রেনগুলো প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার/ঘণ্টায় ভ্রমণ করে। তবে, প্রোটোটাইপ ম্যাগলেভ ট্রেনটি এত দ্রুত হবে যে তা আকাশ ভ্রমণের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বিকল্প হিসেবে পরিচিতি পাবে বলে কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস।

ট্রেনের ডেভেলপার সিআরআরসি কিংদাও সিফাঙ্গের ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার ডিং সানসান গণমাধ্যমকে বলেন যে, বেইজিং থেকে সাংহাই যাওয়ার সফরটিতে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা সময় লাগে তবে, যাত্রায় প্রস্তুতির সময়সহ উচ্চ গতির এসব রেলে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন। যেখানে ম্যাগলেভে সর্বমোট মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

জাপানের এসসি ম্যাগেলেভ ট্রেন, যার গতি উঠেছে সর্বোচ্চ ৬০৩ কিমি/ঘন্টা। ছবি : সংগৃহীত

চীনা সাউথ লোকোমোটিভ এবং রোলিং স্টক কর্পোরেশন (সিআরআরসি) রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন  একটি সহায়ক অংশীদার প্রতিষ্ঠান। তবে, যাত্রীসেবায় আসার আগে পূর্ব চীনা শহর কিনদাওতে নির্মিত নতুন ট্রেনটি ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে থাকবে।

ম্যাগলেভ প্রযুক্তির নিয়ে কাজ করা চীনই একমাত্র দেশ না। জাপান, হাই স্পিড রেলপথের অগ্রদূত, ২০১৫ সালে এসসি ম্যাগেলেভ ট্রেনের পরীক্ষামূলক চালানোর সময় ৬০৩ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতি উঠিয়ে নিজেদের অতীতের বিশ্ব রেকর্ডই ভেঙে ফেলেছিল। টোকিও ও নাগোয়ায় মধ্যে চলা এই নতুন ম্যাগলেভ ট্রেনটিকে ২০২৭ সালে চালু করতে সময় নির্ধারণ করেছে দেশটি।

এই পরিষেবাটি সর্বোচ্চ ৫০০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে চলবে, যা ১ ঘণ্টা ৩২ মিনিটের বর্তমান যাত্রা সময়ের পরিবর্তে ৪০ মিনিটের মধ্যেই ২৮৬ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি এই ট্রেনকে ঢাকা-চট্টগ্রাম লাইনে নামানো হয় তাহলে ৩০-৩৫ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছানো যাবে। টোকিও থেকে ওসাকা যাত্রা সময় কমিয়ে আনতে ২০৪৫ সালের মধ্যে ম্যাগলেভ ট্রেনটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

যদিও জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন এবং জার্মানিসহ পশ্চিমা ইউরোপীয় দেশগুলোতে ব্যাপক পরিমাণে উচ্চ গতির রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে, তবে চীনের ২৯ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি রেললাইন রয়েছে – যা বিশ্বের মোট রেল লাইনের দুই তৃতীয়াংশ।