আজ কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সে প্রথম জয়ের অপেক্ষায় দক্ষিণ আফ্রিকা-আফগানিস্তান

South-Afrika-V-Afgan.jpg

ওয়ান নিউজ ক্রীড়া ডেক্সঃ বিশ্বকাপে আজ দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হচ্ছে আফগানিস্তান। কাগজে-কলমে দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তান কখনোই একই মানের দল নয়। তবে, বিশ্বকাপের এখন যে অবস্থা, তাতে তাদের একই পাল্লায় না মেপে উপায়ও নেই। এই দুই দলের কোনোটাই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের চলতি আসরে কোনো জয়ের দেখা পায়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকা চারটি ম্যাচ খেলেছে। হেরেছে তিনটিতেই। বৃষ্টির বদান্যতায় একটা ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট নিতে পেরেছে। অন্যদিকে আফগানরা তিনটি ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই হেরেছে। ফলে, আজ কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সে প্রথম জয় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া দুই দলই।

দক্ষিণ আফ্রিকা এত বাজেভাবে বিশ্বকাপ শুরু করবে— এটা সম্ভবত তাদের প্রচণ্ড নিন্দুকও স্বপ্নেও ভাবেনি। ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও ভারতের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করেছে তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচটা শেষ অবধি পণ্ডই হয়েছে। ফলে, সেমিফাইনালের আগেই বাদ পড়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে ফাফ ডু প্লেসিসের দলের।

অন্যদিকে আফগানরা অনুমিতভাবেই হেরেছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের একটা সম্ভাবনা ছিল তাদের। বলা উচিত, ম্যাচের বড় একটা সময় তারা এগিয়েই ছিল। কিন্তু, শেষ রক্ষা হয়নি। ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থান যেমন, তার প্রতি সুবিচারই করেছে আফগানরা। র‌্যাংকিংয়ের তলানির দলটা বিশ্বকাপের পয়েন্ট তালিকারও তলানিতে আছে।

দুটো দলের মধ্যে বিস্তর মিলও আছে। ইনজুরির কারণে দুই দলেরই সিনিয়র দুই ক্রিকেটার বিশ্বকাপের মাঝপথে বাড়ি চলে গেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা হারিয়েছে তাদের শীর্ষ পেসার ডেল স্টেইনকে। তিনি ইনজুরিকে সঙ্গী করেই বিশ্বকাপে এসেছিলেন। কিন্তু ফিটনেস ফিরে না পাওয়ায় বিশ্বকাপকে বিদায় বলে দিতে হয় তাকে। অন্যদিকে, আফগানিস্তান বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদকে। দুটো ম্যাচ আফগানদের হয়ে এই বিশ্বকাপে খেললেও ফিটনেস ও ইনজুরিজনিত কারণে তাকে আর টেনে নিয়ে যেতে চায়নি আফগান টিম ম্যানেজমেন্ট।

মজার ব্যাপার হলো, এখন অবধি কখনোই আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডেতে নিজেদের মধ্যে মুখোমুখি হয়নি। দুই দলের মধ্যে হয়েছে কেবল দুটো টি-টোয়েন্টি। দুটোতেই জিতেছে প্রোটিয়ারা।

বলা হচ্ছে, কোনো নির্দিষ্ট দল নয়— এবারের বিশ্বকাপে মূলত বৃষ্টিরই জয়জয়কার দেখা যাচ্ছে। তবে, এই ম্যাচে এখন পর্যন্ত বৃষ্টির কোনো শঙ্কা নেই। সকালের দিকে নাকি আকাশ একেবারেই পরিষ্কার থাকবে। এত কিছুর পরও যদি এই ম্যাচেও প্রোটিয়ারা জয় বঞ্চিত হয়, তাহলে এটাকে তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বললেও কম বলা হবে!