শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী আলী আকবর ধরা ছোঁয়ার বাইরে

Ali-Akbor.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক

উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারপাড়া গ্রামের আবদুল মতলব এর ছেলে আলী আকবর প্রাঃ জুয়াটি আকবর(৩৮) দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানযায় আজ থেকে ৩-৪ বছর আগেও সমুদ্রে পোনা ধরে ও সোনারপাড়া বাজারে কলমি শাক বিক্রয় করে সংসার চালাত। অল্প সময়ের ব্যবধানে ইয়াবা ব্যবসা করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয় আলী আকরর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি জানান আলী আকবর এখন নতুন কৌশলে পোনার ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা করছে। সোনারপাড়ার প্রায় সব হ্যাচারি থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিংড়ি পোনা সরবরাহ করা হয়, কিছু সংখ্যক পোনার গাড়িতে যোগান স্থাপন করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইয়াবা পাচার করে।

তাছাড়া একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানাযায়, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রত্যেকে আলাদা দায়িত্ব পালন করে (যেমনঃ  ইয়াবা  সংগ্রহ , সরবরাহ, চালান নিয়ন্ত্রণ, প্রসাশন নিয়ন্ত্রণ,মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ,) ব্যবসা পরিচালনা করছে গোপন সূত্রে তদন্ত করে অতি শীঘ্রই সবাইকে মিডিয়ার সামনে আনা হবে।

আলী আকবরের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযানের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে আরো জানাযায় যে, তাদের সিন্ডিকেটের নিজস্ব ফিশিং ট্রলার দিয়ে মিয়ানমার হতে ইয়াবা এনে নিজস্ব মালিকানাধীন ট্রাক, পিকআপ, সিএনজিসহ একাধিক গাড়ি থাকায় নির্বিঘ্নেই সারাদেশে ইয়াবা সরবরাহ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

এদিকে জাতীয় ক্রাইম রিপোর্টার সোসাইটি(গভঃরেজিঃনং -এস ১২৬৬২) এর তথ্য মতে  দক্ষিণ কক্সবাজার হতে সারাদেশে সরবরাহকৃত ইয়াবার সিংহভাগ এদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, যার প্রমাণ

গত ০৩/০২/২০১৬ ইং বাঁকখালী নদীর উত্তর নুনিয়ার ছড়া ল্যান্ডিং ষ্টেশন বিআইডব্লিউটিএ ঘাট হতে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ৭ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবাসহ “এমভি বাবা মায়ের দোয়া” নামে একটি ফিশিং ট্রলার জব্দ করা হয়। যার মামলা নং সদর (জি.আর.৮৩/১৬) এই ইয়াবার চালান আলী আকবরদের ছিলো।

আলী আকবরকে গ্রেফতার পূর্বক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসবে সিন্ডিকেটহস পুরো তথ্য এমনটাই দাবী করেন সচেতন মহল, তারা আরও বলেন,  মাদকবিরোধী অভিযানে অনেক নিরিহ মানুষের ক্রসফায়ার হয়ছে কিন্তু প্রকৃত অনেক ইয়াবা কিং আন্ডার গ্রাউন্ডে থেকে যাচ্ছে, তাই আলী আকবরসহ প্রকৃত ইয়াবা কিংদের ক্রসফায়ারের আওতায় আনার জোর দাবী জানান তারা ।

স্থানীয় মেম্বার জনাব, রফিক বলেন ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসা অতি গোপনে ও নিত্য নতুন কৌশলে করা হয় এবং তিনি  ইয়াবাসহ মাদকের বিরুদ্ধে শোচ্চার হওয়ায় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা তার থেকে দূরে থাকে।

উল্লেখ্য যে, বর্তমান সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন কে আরো কঠোর ও যুগোপযোগী করে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করে মাদকের ব্যবহার হতে যুব সমাজকে বাঁচাতে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৭৫ শতাংশ পরিবর্তন করে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৭’ পাশ করে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করলে গত বছরের ৪ মে মাস থেকে ইয়াবাসহ অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে বন্দুক যুদ্ধে প্রায় ৩৫১ জন নিহত হয়েছে। এছাড়াও সরকার মাদকাসক্তি রোধে মানসম্পন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র, পরামর্শ কেন্দ্র ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণে কার্যকরী ভূমিকা রাখেন।

উখিয়া থানার সহকারী অফিসার ইনচার্জ  (ওসি তদন্ত) জনাব, নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, আলী আকবরের ইয়াবা ব্যবসার বিষয়ে অবগত আছেন, তদন্ত পূর্বক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইয়াবার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।