কক্সবাজার কারাগারে বন্দিরা পালাক্রমে ঘুমান

IMG_20190609_082752.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

  কক্সবাজার  জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতা ৫৩০ জনের। কলাতলী বাইপাসে পাহাড় ঘেরা ১২ একর আয়তনের কারাগারটিতে ৪৯৬ পুরুষ এবং ৩৪ জন নারী বন্দি থাকার কথা। কিন্তু চলতি বছরের শুরু হতে এ কারাগারে গড়ে বন্দি থাকছেন চার হাজারের অধিক। এতে একজনের জায়গায় রাত্রি যাপন করছেন আটজন বন্দি। ফলে মানবেতর অবস্থায় রাত পার করছেন নানা অপরাধে কারান্তরীণ হওয়া বন্দিরা। এ পরিস্থিতিকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তাই জামিনযোগ্য মামলাগুলোতে জামিন কিংবা নিষ্পত্তিমূলক মামলা দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।কক্সবাজার কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) মো. বজলুর রশিদ আখন্দ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ২০০১ সালে উদ্বোধন হওয়া ১২ দশমিক ৮৬ একর আয়তনের কারাগারে অভ্যন্তরের পরিমাণ আট দশমিক ৯ একর আর বাইরের পরিমাণ চার দশমিক ৭৭ একর। এটির ধারণক্ষমতা ৫৩০ জন। চলতি বছরের শুরু হতে কারাগারে গড়ে বন্দি থাকছে চার হাজারের অধিক। প্রতিদিনই আসছে নতুন নতুন বন্দি। রয়েছে ভারতীয় চার নারী-পুরুষসহ মিয়ানমার নাগরিক রয়েছে ২৪৩ জন। এদের মাঝে পাঁচজনের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে। কারা তত্ত্বাবধায়ক আরো বলেন, বন্দিরাও মানুষ। এভাবে একজনের জায়গায় প্রায় আটজন অবস্থান করা কষ্টসাধ্য। বন্দিদের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে জামিনযোগ্য মামলাগুলো দ্রুত জামিন দিতে জেলা বিচার বিভাগকে প্রায় অনুরোধ করা হয়। তারাও যথাসম্ভব জামিন দিচ্ছে কিন্তু যতজন বের হয় তার চেয়ে ঢের বেশি নতুন বন্দি যোগ হয় কারাগারে। তাই আমরাও বিপাকে রয়েছি।বাংলদেশ মানবাধিকার কমিশন কক্সবাজার জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউল করিম রেজা বলেন, একজনের জায়গায় আটজনের অবস্থান করা চরম অমানবিক। কিন্তু ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দি আসলে কারা কর্তৃপক্ষের করার কিছুই থাকেনি। সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায়, আইনী মারপ্যাঁচের কারণে বন্দির পরিমাণ কমা সহজসাধ্য নয়। কিন্তু পার্শ্ববর্তী জেলার কারাগারগুলোতে কিছু বন্দি স্থানান্তর করা গেলে হয়ত এ সমস্যা থেকে কিছুটা উত্তরণ করা যেত। এখানেও সমস্যা দেখা দেয়। দরিদ্র বন্দি হলে, তাদের স্বজনরা দূরের জেলায় গিয়ে তাদের দেখে আসাও কষ্টসাধ্য।কারাগারে আসা দর্শনার্থীরা জানান, দর্শনার্থী বসার জন্য সেমিপাকা বিশালাকার ঘর করে ফ্যানের নিচে সারিবদ্ধ টুলে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপরও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কারান্তরীণ স্বজনদের সাথে দেখা করতে হলে নির্ধারিত সময় অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু গণ-শৌচাগার ও পাবলিক টয়লেট না থাকায় চরম সমস্যার সম্মুখীন হয় নারী দর্শনার্থীরা। এত অভাব ও সংকটের পরও জামিনে আসা বন্দিরা বলছেন, ঘুমানোর জায়গার দুর্ভোগ ছাড়া কারাভ্যন্তরে ভোগান্তি ও সার্বিক পরিস্থিতি বদলেছে। এখন বাই রুটেশনে বন্দিরা সব জায়গায় ঘুমান। রান্নার মাছ, মাংস ও তরিতরকারি কাটার জন্য শেডসহ মঞ্চাকারে পরিচ্ছন্ন স্থান তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান, সমুদ্রসৈকতসহ নানা আলপনায় বদলানো হয়েছে কারাভ্যন্তরের দেয়াল। জেল সুপার বজলুর রশিদ আখন্দ বলেন, বিগত একযুগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছি কারাগারটি শুরুর পর থেকে দুই হাজার পাঁচশজনের নিচে কখনো আসেনি। এটি দিন দিন বাড়তে থাকায় কারাভ্যন্তরে নতুন ছয়তলা ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। ১২ কক্ষ বিশিষ্ট ভবনে ২০০ জনের ধারণক্ষমতা থাকছে। প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ভবনটি চলতি বছর কাজ শেষ হলে বন্দিরা একটু স্বস্তি পেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান সরকারের চোখে কারাগার হলো অপরাধ শোধনাগার।