অচিরেই খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন জোরদার করা হবে: ড. কামাল

Dr-kamal-4.jpg

ফাইল ছবি

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভাঙছে না দাবি করে জোটের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন জানান, দলগুলোর সঙ্গে বসে ঐক্য আরও সুদৃঢ় করা হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেইলি রোডের নিজ বাড়িতে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

এই বছরই আন্দোলন জোরদার করা হবে। জোটের মধ্যে কোনো বিভক্তি নেই বরং জোট সম্প্রসারণ করা হবে বলেও জানান ড. কামাল।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য জনগণের ঐক্য গড়ে তোলা, আর সকল দল যারা সমমনা, তাদেরকে সঙ্গে নেয়া। সেই কাজটা আমাদের অব্যাহত আছে এবং আরও জোরদার করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই ধরনের একটা স্বৈরতান্ত্রিক অবস্থা থেকে মুক্ত হতে হলে জনগণের ঐক্য প্রয়োজন এবং সচেতন রাজনৈতিক দলগুলো যারা আছে, তাদের ঐক্য অপরিহার্য।’

গত নির্বাচনের আগে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি, গণফোরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য রয়েছে।

ঐক্যফ্রন্ট ভাঙছে কি না- জানতে চাইলে কামাল বলেন, ‘মোটেই না। আমরা আগামী ১২ তারিখে বসছি আবার। আমাদের কথা হলো, আমরা বসে পুরো কৌশলটা ঠিক করে মাঠে নেমে যাই, ঐক্য আরও সুসংহত করি।’ শক্তিশালী আন্দোলনের ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এখন ঐক্যফ্রন্টের প্রধান লক্ষ্য।

অচিরেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন জোরদার করা হবে।

কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে দেয়ার কথা বলেছেন।

ড. কামাল বলেন, ‘উনি (কাদের সিদ্দিকী) আমাদের ঐক্যের অন্যতম সাথী। তিনি প্রশ্নগুলো করতে পারেন। আমরা খোলামন নিয়ে ঘণ্টা দু’য়েক তার সাথে আলাপ করেছি। আমরা ১২ তারিখ বসে ইতিবাচক সিদ্ধান্তে আসতে পারবো।’

ঐক্যফ্রন্টের নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি সরকার না মানলে পরবর্তী কর্মকৌশল কী হবে- সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে কামাল বলেন, তারা কর্মকৌশল তৈরি করছেন। ঐক্য সংসুহত করে এই বছরেই আন্দোলন শুরুর করতে যাচ্ছেন।

গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক যে ব্যবস্থা হওয়ার কথা, তা থেকে দেশের আজ মানুষ বঞ্চিত। সে জিনিসটাকে যত দ্রুত ফিরিয়ে আনা যায়, দেশের নিয়ন্ত্রণ জনগণের হাতে নিয়ে আসা যায়, এটাই আমাদের মূল্য লক্ষ্য।’

কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি মনে করি, এই বছরের মধ্যে জনগণের মধ্যে ঐক্যকে আরও সুসংহত করে দেশে আরও প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার কাজে আমাদের সবাইকে নেমে পড়তে হবে।’

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া-সহ অন্যান্য নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।