ঈদের ছুটিতে ঢাকায় কোথায় ঘুরবেন

Hatirjheel-Dhaka.jpg

ওয়ান নিউজ ডেক্সঃ ঈদের ছুটিতে ব্যস্ত শহর ঢাকা এখন ফাঁকা। কোটি মানুষ নাড়ির টানে গ্রামে ফিরলেও ঢাকায় ঈদ করছেন এমন মানুষের সংখ্যাও অনেক। অনেকে নিজেদের বাড়ি ঢাকায় হওয়ার কারণে আবার অনেকে বিভিন্ন কারণে গ্রামে যেতে না পারায় ঢাকায় ঈদ করছেন। ফাঁকা ঢাকাতে ঈদের দিনে বেড়াতে যেতে পারেন ঢাকার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে।

রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো নগরবাসীর জন্য বিনোদনের পসরা সাজিয়ে বসে আছে। আবার প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে যেতে পারেন ঢাকার বিভিন্ন পার্কে। আর নির্মল বিনোদনের জন্য আছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, ধানমন্ডি লেক, সংসদ ভবন, চন্দ্রিমা উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেন।

ঈদের দিন রাজধানীতে কোথায় ঘুরতে যেতে পারেন, সেরকম কয়েকটি স্থানের নাম হলো-

চিড়িয়াখানা

অবস্থান ঢাকার মিরপুরে। এটি সরকারের মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান। ঈদের সময় ঢাকা চিড়িয়াখানা দর্শণার্থী কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবারও দর্শণার্থীর ঢল নামবে চিড়িয়াখানায়। প্রতিদিনের মতোই সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকছে চিড়িয়াখানা। চাইলে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন।

স্বাধীনতা জাদুঘর ও জাতীয় জাদুঘর

ঈদের পরদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকছে যাদুঘর দুটি। আনন্দ ও দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও একটু ভালোভাবে পরিচিত হতে ঈদের ছুটিতে সময় কাটিয়ে আসতে পারেন এখানে।

শিশুমেলা

শিশুমেলা অবস্থিত রাজধানীর শ্যামলীতে। এতে রয়েছে ৪০টির মতো রাইড। পরিবারের সবার চড়ার মতো আছে ১২টি রাইড। ঈদের প্রথম সাতদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকছে।

হাতিরঝিল

যারা প্রকৃতিপ্রেমি বা প্রকৃতির কাছাকছি থাকতে চান তাদের জন্য উপযুক্ত হচ্ছে হাতিরঝিল। এই ব্যস্ত শহরে হাতিরঝিল হয়ে উঠেছে মনোরম এক বিনোদন কেন্দ্র। দিনে কিংবা রাতে যে কেউই ঘুরে আসতে পারেন হাতিরঝিল। সন্ধ্যা হলেই বেশি জমে উঠে এই এলাকা। পুরো হাতিরঝিল ঘুরে দেখতে আরামদায়ক বাস সার্ভিসও রয়েছে।

লালবাগ কেল্লা

পুরান ঢাকার লালবাগে অবস্থিত এটি। মোগল আমলে স্থাপিত এই দুর্গটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনস্থলও এটি। পুরান ঢাকার ভিড় ঠেলে কেল্লার সদর দরজা দিয়ে ঢুকলেই চোখে পড়ে পরী বিবির মাজার। এখানে আছে দরবার হল, নবাবের হাম্মামখানা। আছে শাহী মসজিদ। রয়েছে একটি জাদুঘরও। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে এটি।

বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক

শানবাঁধানো নদীর ঘাটে নৌকা বাঁধা দেখতে যেতে হবে বুড়িগঙ্গা ইকোপার্কে। মৃদুমন্দ হাওয়া খেতে চাইলে এখানে নৌকায় করে ঘুরতে পারেন। জায়গাটি গাছগাছালিতে ঢাকা। গাছের সারির ফাঁকে পাকা রাস্তা। শহরের কোলাহল ছেড়ে রাজধানীর উপকণ্ঠ শ্যামপুরে প্রায় সাত একর জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে পার্কটি।

আহসান মঞ্জিল

নামে হয়তো আহসান মঞ্জিলকে অনেকেই জানেন। কিন্তু পুরান ঢাকার যানজটের কথা চিন্তা করে অনেকেই ওদিকে পা বাড়ান না। তবে এই ফাঁকা ঢাকায় একবার ঢু মারতে পারেন আহসান মঞ্জিলে। ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে মোগল আমলের ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আহসান মঞ্জিল। খোলা থাকে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত।

ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক

ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক ঢাকার সায়েদাবাদ রেলক্রসিংয়ের পাশে অবস্থিত। খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এখানে রাইডের মধ্যে রয়েছে ফ্লাওয়ার কাপ, মিনি ক্যাব, বেবি কার, টয় ট্রেন, ভয়েজার বোর্ড, টুইস্টার, সুপার চেয়ার, মেরি-গো-রাউন্ড, ওয়ান্ডারল্যান্ড হুইল ইত্যাদি।

ঢাকার আশপাশ থেকেও ঘুরে আসা যায়। নন্দন পার্ক, ফ্যান্টাসি কিংডম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। গাজীপুরে আছে অনেক রিসোর্ট। নারায়ণগঞ্জের পানাম নগরী, হাজীগঞ্জ জলদুর্গ, সোনারগাঁয়ে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর এবং বাংলার তাজমহল। মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদারবাড়ি থেকেও ঘুরে আসা যায়।

মেঘলা আকাশ এবং ক্ষণে ক্ষণে নামছে বৃষ্টি। এমতাবস্থায় ঘুরতে বের হলে অবশ্যই ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখতে ভুলবেন না। আর অবশ্যই বৃষ্টির প্রস্তুতি নিয়েই বের হোন।