সেবার শেষ আটে, এবার তাহলে শেষ চারে-কি বলেন?

Tiger-18.jpg

ওয়ান নিউজ ক্রীড়া ডেক্সঃ  একটা প্রশ্ন উঠলো।

বাংলাদেশের খেলা ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের সঙ্গে এবারের ২০১৯ বিশ্বকাপের একটা বড় পার্থক্য কি?

উত্তর মিললো এমন।

তখন বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে গিয়েছিলো শুধু অংশগ্রহণকারী একটা দল হিসেবে। আর এবার যাচ্ছে টুর্নামেন্টের সেরা হওয়ার একটা দৃঢ় ইচ্ছে নিয়ে। এই সাফল্যের সম্ভাবনাকে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা কঠিন বললেও অসম্ভব মানছেন না-‘সেমিফাইনালে যাওয়ার চ্যালেঞ্জটা অনেক বড়। তবে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। বিষয়টা অনেক কঠিন, তবে সম্ভবপরও বটে। এবার বিশ্বকাপের ফরম্যাট বদলেছে। আগে গ্রুপ পর্যায়ে একটা বড় দলকে হারালেই চলতো। তখন তাদের জন্য টুর্নামেন্টে ফিরে আসাটা কঠিন হয়ে যেতো। কিন্তু এবার সবমিলিয়ে গ্রুপ পর্যায়ে নয়টি ম্যাচ আছে। যেসব দল সেমিফাইনালে খেলার আশা নিয়ে যাচ্ছে তারা কয়েকটি ম্যাচ হারলেও টুর্নামেন্টে ফিরে আসার সুযোগ পাবে এই ফরম্যাটে। এই বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

এটি বাংলাদেশের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। পেছনের পাঁচটি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অনেক চড়াই-উৎরাই দেখেছে। ১৯৯৯ সালের অভিষেক বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলো। সেবার জয় পেয়েছিলো স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও। অভিষেক বিশ্বকাপে দুই জয়ের আনন্দ নিয়ে ফিরলো গর্বিত বাংলাদেশ।

এর ঠিক তার চার বছর পরের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যে ক্রিকেট খেলেছিলো তাতে কানাকড়ি পর্যন্ত হারিয়ে বসে। কানাডা ও কেনিয়ার মতো দলের কাছে হারে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের সেই বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচেই জিততে পারেনি বাংলাদেশ। দুঃস্বপ্নের সেই বিশ্বকাপ বাংলাদেশ পারে তো রাবার দিয়ে ঘসে মুছে ফেলতে চাইবে ইতিহাসের পাতা থেকে!

২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ফের চমক! এবার প্রথম পর্বে বাংলাদেশের শিকার ভারত। বিশ্বকাপ থেকে সেবার মুলত বাংলাদেশের কাছে হারেই প্রথম পর্ব থেকেই ভারতের বিদায় লেখা হয়ে যায়। সেই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সুপার এইটে উঠে বাংলাদেশ। সেখানেও বিস্ময় তৈরি করে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে।

২০১১ সালে নিজ মাটিতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সাফল্যের হার ভালো-মন্দের মিশ্রণ। পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ জিতে তিনটি ম্যাচ। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আলোড়ন তৈরি করে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৫৮ ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৮ রানে গুটিয়ে লজ্জার রেকর্ডও তৈরি করে।

২০১৫ বিশ্বকাপের শুরুটা হলো আফগানিস্তানকে হারিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বৃষ্টিতে পয়েন্ট ভাগাভাগিতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনার দুয়ার খোলে। আর অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখায় বাংলাদেশ।

সেবার শেষ আটে মোকাবেলা হলো ভারতের সঙ্গে। আম্পায়ারিং বিতর্ককে সঙ্গে নিয়ে ভারত সেই ম্যাচে জিতে নিলো। প্রথমবারের মতো শেষ আটে খেলার আনন্দ নিয়েই বিশ্বকাপ থেকে ফিরলো বাংলাদেশ। সেই বিশ্বকাপে যে কায়দায় মাঠে প্রভাবী ব্যাটিং- বোলিং দেখায় বাংলাদেশ তা দারুণ প্রশংসা কুড়ায়। তবে সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেলো অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডকে প্রায় বলে-কয়ে হারানোর ম্যাচের সেই বীরত্ব গাঁথা!

চার বছর আগের শেষ আটের সেই সাফল্যকে এবার আরেক ধাপ উপরে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে নামছে বাংলাদেশ দল। স্বপ্নটা অনেক বড়। পথটাও এবার কঠিন।

আরে ভাই, বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের জন্মই যে কঠিন ও অসম লড়াই জিতে!