মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান ॥ বনানীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে

anti_drug20180529125745-650x371-1.jpg

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যেও ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে রাজধানীর বনানী থানা আওতাভুক্ত এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা। অভিযানের হাত থেকে বাঁচতে এসব মাদক ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। অথচ আড়ালে থেকে এখনও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে তারা। শুধু তাই নয় বনানীতে মাদক ব্যবসার সাথে পুলিশের কিছু কর্মকর্তারও জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যে কারনে বন্ধ হচ্ছে না মাদক ব্যবসা। তবে আইন শৃঙ্খলা-রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছে, “যে যেখানেই আত্মগোপন করুক না কেন, মাদক ব্যবসায়ী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, মাদকের গড ফাদারদের খুঁজে খুঁজে বের করে ধরে আনা হবে। আইন শৃঙ্খলা-রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় নয়।”

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, বনানীর মাদকের ডিলার এবং হোল সেলাররা মাঝে মধ্যে ধরা পড়লেও আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসে। শুরু করে দেয় মাদক রাজ্যের নিয়ন্ত্রন। শুধু তাই নয়, এসব মাদক মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে অনেকেই নিজেদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স পরিচয় দিয়েও তাদের মাদক বানিজ্য জমিয়ে তোলে।

এদের মধ্যে রয়েছে, মহাখালী ওয়ারলেস গেইট টিএন্ডটি পূর্ব কোলোনির বিটিসিএলের পানির পাম্পে আব্দুর রহমান মাসুম ওরফে মোল্লা মাসুমের ইয়াবা স্পট। মোল্লা মাসুম অএ এলাকায় ইয়াবার বড় ডিলার হিসেবে চিহ্নিত। তার সহযোগী বনানী থানা পুলিশ সোর্স নোয়াখালীর শহীদ। তারা দুজনেই অবৈধ অস্রধারী সন্ত্রাসী। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৮ এপ্রিল ২০১৬ সালে দুটি পিস্তল ৬ রাউন্ড গুলিসহ র‌্যাব-১ মোল্লা মাসুমকে গ্রেফতার করেছিল। পরে মামলা দিয়ে তেজগাঁও শিল্পান্চল থানায় হস্তান্তর করে। এমামলায় চার মাস পরেই হাইকোর্টের দেয়া জামিনে বেরিয়ে যায় মোল্লা মাসুম। জানা যায়, তার সহযোগী সোর্স শহীদকেও ২০০৫ সালে পিস্তল ও বিস্ফোরকসহ বনানী ২নং রোডের হিন্দুপাড়া বস্তি থেকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব-১। তারা বনানী, কড়াইল বস্তি, মহাখালী, বাড্ডা, শাহজাদপুর, খিলবাড়িরটেক, গুলশান ও বারিধারা এলাকার খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের মহাজন বলে জানা যায়। তাদের অতি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট। বেশ কয়েকজন পুলিশও রয়েছেন তাদের সিন্ডিকেটে। বর্তমানে মোল্লা মাসুম ও সোর্স শহীদ গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপন করেছেন।
তাদের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে- মামুন, নিরব, মফিজ, মোতালেব, ইয়াসিন, জুয়েলসহ অনেক নতুন মুখ।

মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় রয়েছে, আবদুল আলীর ছেলে শরীফ ওরফে পাগলা শরীফ। মহাখালী স্কুল রোডে নূরানী মসজিদের পাশের গলিতে নিজ বাড়ীতে শরীফের মাদক স্পট। একাধিক মামলার আসামি শরীফ বারবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও জামিনে বের হয়ে আবার ইয়াবা-গাঁজা বিক্রি চালিয়ে যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ী শরীফ বনানী থানার এসআই আবু তাহেরকে ম্যানেজ করে মাদক ব্যবসা করেন। এ ছাড়া বনানী থানার পুলিশ সোর্স শহীদ তার স্পট থেকে সাপ্তাহিক চাঁদা আদায় করেন বলে জানা গেছে।

মহাখালী টিবিগেট এলাকায় ভয়ংকর ইয়াবা ব্যবসায়ী রকি। জানা যায়, তিনি বনানী থানা পুলিশের সোর্স হওয়ায় অতি দাপটের সাথে ইয়াবা ব্যবসা করছেন। সোর্সের খাতায় নিজের নাম টিকিয়ে রাখতে প্রতিদিন পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিরীহ মানুষকে দেখিয়ে দিয়ে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে রকি তল্লাশি করার সময় নিরীহ মানুষের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, রকি উওর বাড্ডার গোপিবাগ এলাকায় থাকেন। তার নামে বাড্ডা থানায় ২টি মাদক মামলা ও মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার অভিযোগে ১টি মামলা রয়েছে। জানা যায়, রকি বনানী থানার এসআই আব্দুল হক ও এসআই শরিফুলের সোর্স হিসেবে কাজ করে।

অপরদিকে, ২০নং ওয়ার্ড কমিশনার কার্যালয় সংলগ্ন বুলুর বাড়ীর গাড়ি চালক কাশেম ভ্রাম্যমাণ ইয়াবা ব্যবসায়ী। তিনি কড়াইলসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করেন বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, কাশেম পুলিশের সোর্স বলে এখনও ধরা ছোয়ার বাইরে।

বনানীর আলোচিত মাদক সম্রাট মালেক ওরফে জামাই মালেক। যার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মাদকের মামলা। মালেক সরকারি তিতুমীর কলেজের বিপরীত পাশের গলি ও আমতলী ২নং রোডে ইয়াবা  এবং ফেনসিডিলের ব্যবসা করেন বলে জানা গেছে।

মহাখালী পশু গবেষণা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন মাদকের অন্যতম বড় নাটা ইউসুফের মাদকের স্পটে প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল বিক্রি করা হলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। তিনি ডিবির সোর্স হিসেবেও পরিচিত। তার নামে গুলশানসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

বনানী থানা পুলিশের সোর্স ও মহাখালী ওয়্যারলেস গেট এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ইয়াবার ডিলার মানিক ওরফে মহাখালী বাজারের তৃপ্তি হোটেল মানিক। তিনি পাঠাও চালকের ছদ্দবেশে ইয়াবা ব্যবসা করেন। গতবছরের মে মাসে ইয়াবাসহ বাড্ডা থানায় গ্রেফতার হয়েছিল মানিক। তিনি মাএ দুইমাস পরেই জামিনে বের হয়ে ইয়াবা ব্যবসায় আবার সক্রিয়।

এদিকে বনানী থানার এসআই আবু তাহের ভূঁইয়া অএ এলাকায় মাদকের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আলোচিত। শুধু বনানীতে নয় গোটা ঢাকা শহরে রয়েছে তার শক্তিশালী মাদক নেটওয়ার্ক। অনুসন্ধানে তার সাথে আরও যাদের নাম উঠে আসে তারা হলেন, বনানী থানার এএসআই ওমর ফারুক ও কনস্টেবল শহীদ উল্লাহ। তারা সোর্সদের দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সাপ্তাহিক চাঁদা আদায় করান বলে স্থানিয়রা অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, এসআই আবু তাহের নিজেকে ক্লিন দেখাতে  বিভিন্ন মাদক বিরোধী কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেন। কিন্তু বাস্তবে সবই লোক দেখানো। তিনি বনানী এলাকায় মাদকের মুখোশধারী গডফাদার। মাদক ব্যবসার অবৈধ টাকায় সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ডিএমপির গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও এসআই আবু তাহের মাদকের পৃষ্টপোষক হিসেবে উঠে এসেছিল।