কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ঠিকাদারের হাতে তত্ত্বাবধায়ক লাঞ্ছিত

Sadar-Hospital.jpeg

বিশেষ প্রতিবেদকঃ
রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান যাচাই করতে গিয়ে ঠিকাদারের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মহিউদ্দিন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ঘটনাটি ঘটেছে।
তবে, তা সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সকাল দশটার দিকে রোগীদের জন্য রান্না করে আনা খাবারের মান দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মহিউদ্দিন। সেই সাথে এই মানের খাবার আর সরবরাহ না করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দেন তিনি। তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মহিউদ্দিনকে লাঞ্চিত করেন ঠিকাদার আসাদ উল্লাহ। -ভাষ্য, রোগীর ও স্বজনদের।
জরুরী বিভাগের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, রান্না করা খাবার দেখতে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ককে গালমন্দ করেন ঠিকাদার আসাদ উল্লাহ। পরে কয়েকজন ডাক্তার তা সমাধান করেন।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মোহাম্মদ শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে ঘটনাটি মীমাংসা করার চেষ্টা চলছে বলে জানান।
সহকারি পরিচালক ডাঃ রফিকুস ছালেহীন বিষয়টি তেমন বড় কোন ঘটনা নয় বলে মন্তব্য করেন।
তার মতে, ঠিকাদার আসাদ হাসপাতালে নবাগত সুপারকে চিনতে না পারায় এমন ঘটনাটি ঘটেছে।
এ প্রসঙ্গে ঠিকাদার আসাদ উল্লাহর কাছে জানতে চাইলে খাবার সংক্রান্ত বিষয়ে কোন ঘটনা হয়নি জানিয়ে বলেন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক টাকার লোভে কক্সবাজার এসেছেন। ভালো মানুষ হিসেবে আসেন নি।
তিনি বলেন, আমি একজন নিয়মিত ঠিকাদার। আমাকে না বলে একাই খাবারের রোস্টার মুডিফাই করেছেন। ঠিকাদার হিসেবে আমাকে এখনো ডাকেননি। চিঠিপত্রও দেননি।
তবে, ঠিকাদার আসাদ একপ্রকার নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, সুবিধা অসুবিধা উভয়ের আছে। আলাপ, আলোচনার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। সেজন্য আমি তাকে গালমন্দ করেছি।
এদিকে ১৮ এপ্রিল কক্সবাজার সদর উপজেলায় দুদকের গণশুনানিতে হাসপাতালের সেবা নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠে। হাসপাতালের প্রতিনিধিকে তুলোধুনো করে ভুক্তভোগী জনগণ।
বিশেষ করে, খাবারের মান, ডাক্তারদের আচরণ ও সেবা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক উঠে। যার সন্তোষজনক জবাব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি।
অভিযোগমুক্ত হতে খাবারের মান যাচাই করতে গিয়েই ঠিকাদারের হাতে আরেক দফা লাঞ্চিত হলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক বলে হাসপাতালে কর্মরতরা জানিয়েছে।